দেশ

লালসালুতে ঢাকা হালুয়া রুটিতে জীবন-জীবিকা

আতাউর রহমান ফারুক, মনোহরদী (নরসিংদী) ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২১, ২০:০৪:৪৯

  • ছবি : নিউজজি

নরসিংদী: সূর্যোদয়ের ভোরে লালসালুতে ঢাকা হালুয়া রুটির ফেরি নিয়ে পথে নামে শৈশব না পেরোনো কামরুল। চার চাকার ঠেলা ঠেলে পথে পথে ঘুরে বেড়ানো জীবন তার। এ ভাবেই  পৈত্রিক সংসারে উপার্জন সহযোগীর ভূমিকা রাখছে এক কচিমুখো কামরুল।

বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নাসিরনগরে। শৈশব না পেরোনো বয়স এখনো। পিতার অনটনের সংসার। তাই এ বয়সেই পথে নামতে হয় তাকে। মনোহরদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আবাস। মহাজনের ভাড়া বাসায় ঠাঁই। সূর্যোদয়ের রক্তিম ভোরে লালসালুর কাপড়ে ঢাকা হালুয়া রুটির ফেরি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে পথে।

লোহার চার চাকার উপরে একটি টেবিল মতো। তাতে হালুয়া রুটির পসরা সাজিয়ে ঠ্যালা গাড়ি ঠেলতে ঠেলতে গ্রামের পর গ্রামে ফেরি করে বেড়ায় কামরুল।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এ রকম ফেরির পথে মনোহরদীর হাররদীয়া গ্রামের রাস্তায় দেখা মেলে এ হালুয়া রুটির ফেরিওয়ালার। পথেই আলাপ হলো তার সাথে। বেশ বড় সাইজের ময়দার রুটি। কামরুলের ভাষায়, ছিড়া রুটি। অ্যায়সা জাম্বু সাইজ একেকটা রুটির। ছিড়ে টুকরো টুকরো করে বেচে বলে নাম ছেঁড়া রুটি। সাথে হালুয়া ফ্রি। খুব সকালে ঘর থেকে বেরিয়ে পথে নামে। ঘণ্টা তিনেক ফেরি করে বেড়ায়। ১৮টা রুটি ৯শ টাকায় বিক্রি ওঠে। এ থেকে ৩শ টাকা পারিশ্রমিক তার, মহাজনের ৬শ'।

কামরুল জানায়, স্কুলে যাওয়া হয়নি জীবনে কোনো দিন। আগে ঢাকার এক হোটেলে কাজ করত। মাস দেড়েক হয় ছেঁড়া রুটি হালুয়ার ফেরিতে নেমেছে। হালুয়া রুটির এ ঠ্যালা গাড়ি ঠেলে অনেক পথ ভাঙতে হয় প্রতিদিন। কচি মুখ রোদে পুড়ে লাল হয়। ঘর্ম সিক্ত ক্লান্ত দেহে শ্রান্ত শরীরে বেশ বেলা করে ডেড়ায় ফেরা নিত্য রুটিন তার। অন্যের মুখে সুস্বাদু ছেঁড়া রুটি হালুয়া তুলে দেয় সে। কিন্তু নিজের ভাগ্যে জোটে মোটা চালের মোটা ভাত। পৈত্রিক সংসারে উপার্জন সহযোগী যে সে! তাই, এ না করে উপায় কী কচিমুখো কৈশোর ছুঁই ছুঁই এই ছেলেটির।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers