দেশ

সেপ্টিট্যাংক না থাকলে ব্যবস্থা, সেপ্টেম্বর থেকে খালে নামবে না বর্জ্য

নিউজজি প্রতিবেদক ২৬ জুন, ২০২২, ২০:২৭:১৪

  • ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান। ছবি: জাকির হোসেন

ঢাকা: ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে প্রথমে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। মানববর্জ্য এবং জলাবদ্ধতা বাসযোগ্য ঢাকাকে দূষিত করার প্রধান কারণ। ইতোমধ্যে বিশ্বে বাসযোগ্য নগরীর তালিকায় তিনধাপ এগিয়েছে ঢাকা। উন্নত দেশগুলোর মতো আরো উন্নত নগরী গড়ে তুলতে হলে আগে হিউম্যান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা করতে হবে।

ঢাকার অধিকাংশ বাসা-বাড়িতে হিউম্যান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেফটি ট্যাঙ্কি নেই। বাসা বাড়ির মালিকরা সরাসরি তাদের পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা ড্রেনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। তারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসায় সেপ্টিট্যাংক না করলে সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে দেয়ায় কথা বলেন বক্তারা।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন রেগুলেটর ও ড্রেনেজ আউটলেট স্ট্রাকচারসমূহ ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে হস্তান্তরে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তারা।

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম

সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দিকে নজর দিতে হবে। যাদের বাসায় হিউম্যান বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সেফটি ট্যাঙ্কি নেই, সেই বাসা মালিকরা সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালে দিয়েছেন। এসব বর্জ্য নদী-খালে মিলে পরিবেশ ধ্বংস করছে। তাদের সুবিধা একেবারে বন্ধ করে দেয়া হবে।

যারা সুয়ারেজ লাইন খালে দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে জরিমানা ও শাস্তির ব্যবস্থা নিলে হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সেপ্টিট্যাংক না করলে সুয়ারেজ লাইন বন্ধ করে দেয়া হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

একই অনুষ্ঠানে বাসা মালিকদের উদ্দেশ্যে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ১ সেপ্টেম্বরের পরে বাসার হিউম্যান বর্জ্য খালে নামবে না। পরিস্কার পনি ড্রেনে ছাড়তে হবে। বাসার বর্জ্য ড্রেনে নামতে দেয়া হবে না।

বাসায় পয়ঃনিষ্কাষন ব্যবস্থা থাকতে হবে। না হলে, সব বন্ধ করে দেয়া হবে বলেন মেয়র আতিক।

অনুষ্ঠানে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, বিশ্বে বাসযোগ্য শহরের তালিকায় ঢাকা তিন ধাপ এগিয়েছে। আমাদের প্রত্যাশা, বাসযোগ্য শহরের তালিকায় আমরা আরো অনেক দূর এগিয়ে যাবো। জলাবদ্ধতা নিরসনে ঢাকার খালগুলো উদ্ধার করে আমরা ১৪ লাখ মেট্রিকটন পলি অপসারণ করেছি।

যার ফলাফলে নতুন কার্যক্রমের আওতায় ঢাকাকে আরো বাসযোগ্য করে তুলতে চাই।

সভায় বক্তব্য দেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক

স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে সুর তাপস, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ারসহ অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, সরকার বড় কাজ করতে গিয়ে ছোট কাজগুলো করতে পারছে না। তাই ঢাকা ওয়াসা থেকে ৫৫টি স্লুইসগেট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তারা নগরীর নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, এগুলোর দায়িত্ব দিলে তারা ভালো করতে পারবেন। কেননা, তারা দায়বদ্ধ।

একইসঙ্গে ঢাকার চারপাশে নদ-নদীর উপর নির্মিত ব্রিজ ভেঙ্গে নৌ চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন তাজুল ইসলাম।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকার চারপাশে নদ-নদীর উপর যে সেতুগুলো রয়েছে সেগুলো নৌ-যান চলাচল উপযোগী নয়। ইতিমধ্যে এসব সেতু চিহ্নিত করা হয়েছে এবং ভেঙ্গে নৌ-যান চলাচল উপযোগী করে নির্মাণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নৌরুট চালু করতে পারলে ঢাকার রাস্তায় ট্রাফিক অনেকটাই কমে আসবে।

সভায় পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক বলেন, সুয়ারেজ লাইন দিয়ে বৃষ্টির পানি নদীতে যেতে পারছে না। ঢাকার পার্শ্ববর্তী প্রায় সবকটি নদী অস্তিত্ব সংকটে ভুগছে। আগে বৃষ্টির পানি খাল দিয়ে নদীতে যেত কিন্তু এখন এ সব খাল বা নদী প্রায় ভরাট হয়েছে। নগরীতে বৃষ্টি হলেও এখন সেই জলাবদ্ধতা আর তেমন চোখে পড়ছে না।

মহাপরিচালক পানি উন্নয়ন বোর্ড ফজলুর রশিদ ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী ফরিদ আহম্মদ স্ব স্ব দপ্তরের পক্ষে সমঝোতা স্মারক সই করেন। ঢাকা শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের দায়িত্ব (খাল ও ড্রেনেজ) আনুষ্ঠানিকভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ ৫৫ টি স্লুইসগেট ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, ঢাকা ওয়াসার কাছ থেকে দুই সিটি করপোরেশন অনেক পুনরুদ্ধার করে পরিস্কার, খনন, পুনঃখনন ও সংস্কার করেছে। যে কারণে অন্যান্য বছরের তুলনায় এবছর ঢাকায় জলাবদ্ধতা অনেক কম হয়েছে। ঢাকা শহরের রাস্তাঘাট আগে তলিয়ে যেতো, আজ সেই পরিস্থিতি নেই।

 

নিউজজি/শানু

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ