দেশ

নবগঙ্গা নদীবক্ষে ধান চাষসহ রকমারি ফসলের আবাদ

মুরাদ হোসেন, মাগুরা ২০ জানুয়ারি, ২০২১, ১৬:০৪:২৭

  • ছবি : নিউজজি

মাগুরা: মাগুরার উপর দিয়ে বয়ে চলা নবগঙ্গা নদীর নব্যতা হারিয়ে আজ মরে যেতে বসেছে। বালু ও পলি মাটি জমে ক্রমশ ভরাট হয়ে যাচ্ছে নদীর তলদেশ। সেই সাথে কমে যাচ্ছে পানির প্রবাহ। বর্ষকাল শেষ হতে না হতেই চর জেগে ওঠে নবগঙ্গা নদীর বক্ষে। ফলে নদী পাড়ের লোকজন চর দখল করে নেমে পড়ে নবগঙ্গার বুক জুড়ে ধান চাষসহ রকমারি ফসলের আবাদে। আর এতে নদীর তীরবর্তী হাজার হাজার একর জমিতে সেচ সংকট দেখা দেয়ায় বিপদে এলাকার কৃষকেরা।

এলাকাবাসী জানান, এই নবগঙ্গা নদীতে এক সময় পর্যাপ্ত পানি থাকতো। তা দিয়ে চাষাবাদ করার পাশাপাশি নিত্য প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহার করতো এলাকাবাসী। অনেকেই নদীর পানি পান করত। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবৎ খনন না করায় নদীর তলদেশে পলি ও বালু জমে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে বর্ষাকাল শেষ হতে না হতেই পানি শুকিয়ে নদীর তলদেশ পর্যন্ত জেগে ওঠে চর। শুরু হয় ধান চাষ। ধান চাষ ছাড়াও অনেকেই আবার নদীর তীরে ভরাট করে গড়ে তুলেছেন বসত বাড়ি। 

নবগঙ্গা নদী এখন পরিনত হয়েছে বরো ধান চাষসহ নানা রকম ফসলি ক্ষেতে। এই নদী এক সময় শতশত জেলে পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস ছিলো। তারা নানা রকমের দেশীয় মাছ ধরে বিক্রি করে নিজেদের সংসারের ভরণ পোশন চালানোর পাশাপাশি উপজেলা ও জেলার মানুষের মাছের চাহিদা মেটাতো। কিন্তু এখন আর নদীর অভয় আশ্রমে তেমন মাছ পাওয়া যায় না। পানির অভাবে নদীতে মাছের বিচরণ ক্ষেত্র কমে গেছে। তাই নদীপাড়ের মৎস জীবিরা পেশা পরিববর্ত করে ঝুকে পড়েছে অন্য পেশায়।

স্থানীয় জেলে পরশ মাঝি বলেন, নদীতে আগের মত মাছ পাওয়া যায় না। কিন্তু কি করবো! বাপ দাদার পেশা তাই ধরে রেখেছি। ছেলে মেয়ে নিয়ে কোনো মতো বেঁচে আছি। কৃষক জলিল শেখ বলেন, নদীতে চর পড়ায় আমরা পৌত্রিক সম্পত্তি ফিরে পেয়েছি। চাষাবাদ করে পরিবার পরিজন নিয়ে বেশ ভালো আছি। 

নবগঙ্গা নদী এখন জরাজীর্ণ খালে পরিনত হয়েছে। নব্যতা হারিয়ে ফেলায় নবগঙ্গার সেই রুপ আর চোখে পড়ে না। পাল তুলা নৌকায় জেলেদের মাছ ধরা, চাউনি দেয়া নৌকায় বরের বিয়ে করতে যাওয়া এবং নববধুকে নিয়ে ফিরে আসার দৃশ্য অথবা শিল্প নগরী থেকে পণ্য বোঝাই কারগো বা বড় বড় নৌকার গুন টেনে চলাচলের সেই সব দৃশ্য কেবলই অতীত। তবে ড্রেজারের মাধ্যমে নদী খনন করে নবগঙ্গার নব্যতা ফিরিয়ে আনার দাবি এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের। 

জেলা পানি উপন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খাঁন মুজাহিদ বলেন, নদীর নব্যতা ফিরে পেতে খনন কাজের জন্য আমরা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। তবে এটা অনেক সময় সাপেক্ষ ও ব্যয়বহুল।

মাগুরা-২ আসনের সাংসদ ড. শ্রী বীরেন শিকদার জানান, বাংলাদেশের নব্যতা হারানো নদীগুলো খননের স্বদিচ্ছা সরকারের রয়েছে। কাজ শুরু হলেই আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষের সুবিধার জন্য এই নদী খননের চেষ্টা করবো।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers