দেশ

দিনাজপুরে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

দিনাজপুর প্রতিনিধি ২৬ জানুয়ারি, ২০২১, ১৭:৪৫:৫৭

  • ছবি : নিউজজি

দিনাজপুর: জেলার ১৩টি উপজেলায় চলতি বছর এক লাখ ৭৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে কৃষি অধিদপ্তর ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। গত ১৫ জানুয়ারি থেকে জেলায় ইরি-বোরো ধানের চারা রোপন কার্যক্রম চলছে।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, এবারে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৩টি ইউনিয়নে বাম্পার ইরি-বোরো ধানের উৎপাদন সফল করতে কৃষি বিভাগ নানা মুখী কার্যক্রম ও পদক্ষেপ শুরু করেছে। আমন ধান কর্তনের পর যে সব জমিতে ইরি-বোরো ধানের চারা লাগানো হবে সে সব জমিতে ইরি-বোরো চাষ করতে কৃষকরা গত ১৫ দিন থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছে। গত দেড় মাস পূর্বেই বীজ তলা প্রস্তুত এবং ইরি-বোরো ধানের বিভিন্ন ভ্যারাইটিস ধানের বীজ তলায় বোপন করে সৃজন করা হয়েছে।

অনেকেরই সৃজনকৃত ইরি-বোরো ধানের চারা রোপন যোগ্য হয়েছে। এবারে দেশের উত্তরাঞ্চল হিমালয়ের কোল ঘেষে বৃহত্তর দিনাজপুরের তিনটি উপজেলায় গত ১০ দিন থেকে মৃদ শৈত্যপ্রবাহ চলমান থাকায় বীজ তলায় ইরি-বোরো ধানের সৃজন কৃত বীজ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার কৃষকরা পূর্ব প্রস্তুতি হিসেবে ইরি-বোরো ধানের সৃজনকৃত চারা কিছুটা ক্ষতি হলেও যাতে ধানের চারা সংকটে পরতে না হয় সে জন্য কৃষি বিভাগের মাঠ কর্মকর্তারা কৃষকদের অতিরিক্ত বীজ তলা প্রস্তুত ও চারা সৃজনের জন্য পরামর্শ দিয়ে কার্যকর করেছে। ফলে এবারে ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারনে বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হলেও যে ধানের চারা সংরক্ষন থাকবে তা দিয়েই লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ইরি-বোরো চাষ সফল করা সম্ভব হবে।

গত ১৫ জানুয়ারি থেকে এই অঞ্চলে ইরি-বোরো চাষ শুরু করার কথা থাকলেও ঘন কুয়াশা ও শৈত্যপ্রবাহের কারনে কয়েকদিন দেরিতে ইরি-বোরো ধান চারা রোপন করা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

কৃষি অধিদপ্তরের ধান গবেষনা বিভাগের সহকারী পরিচালক আশরাফুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার নিজপাড়া গ্রামে ইরি-বোরো ধানের ২৮ জাতের ভ্যারাইটি ধানের চারা রোপনের মাধ্যমে ওই উপজেলায় ইরি-বোরো মৌসুমের ধান রোপনের মৌসুম উদ্বোধন করা হয়। এর আগে গত ২২ জানুয়ারি দিনাজপুর সদর উপজেলার নশিপুর গ্রামে এবং গত ২০ জানুয়ারি বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ী গ্রামে ইরি-বোরো ধানের চারা রোপন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন উপ পরিচালক মো. তৌহিদুল ইসলাম। এখন জেলার ১৩টি উপজেলাতেই ইরি-বোরো ধানের চারা রোপনের কার্যক্রম শুরু হয়ে যাবে।

দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল আলম জানান, জেলার প্রত্যেকটি উপজেলায় কৃষকের ইরি-বোরো চারা রোপনে বৈদ্যতিক সেচ যন্ত্র ব্যবহারে নিরাবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তর যৌথভাবে সম্বয় করে এই জেলা অবস্থিত দুইটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে অবহিত করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, জেলার ১৩টি উপজেলার ১০৩টি ইউনিয়নেই বিদ্যুৎ চালিত সেচ যন্ত্রের মাধ্যমে ইরি-বোরো ধানের জমিতে সেচ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় কৃষি বিভাগ অন্তভুক্ত করতে মৌসুমের পুর্বেই সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো সম্বয় করে গভীর ও অগভীর নলকুপ গুলো চালানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু মাত্রা সদর, চিরিরবন্দর ও বিরল উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে রাবার ড্যামের মাধ্যমের মজুদকৃত পানি ললিত পাম্পের মাধ্যমে ইরি-বোরো জমিতে সেচ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।

দিনাজপুর বিএডিসির যুগ্ম পরিচালক রাশেদুজ্জামান জানান, এবারে ইরি-বোরো চাষে কোনো রাসায়নিক সারের সংকট নেই। চাহিদা অনুযায়ী, ইউরিয়া, এসএসপি, টিএসপি এবং ড্যাব সার মজুদ রয়েছে। জেলার ১৩টি উপজেলায় সরকারের ১২৬ জন ডিলার ও প্রত্যেকটি ডিলারের অধিনস্থ তিনজন করে সাব ডিলার কৃষকদের নিকট সরকারের বেধে দেয়া মুল্যে সার বিক্রি করবে। যদি অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে তবে ওই ডিলার বা সাব ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

কৃষি অধিদপ্তরের সুত্রটি জানায়, এবারে জেলায় এক লাখ ৭৬ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে উফসি এক লক্ষ ১৭ হাজার ৩০০ হেক্টর এবং হাইব্রিড ৫৯ হাজার হেক্টর জমিতে চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। অনুকুল আবহাওয়া ও কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না থাকলে এবারে লক্ষ্যমাত্রার অতিরিক্ত ইরি-বোরো চাষ অর্জিত করতে কৃষি বিভাগ কার্যক্রম গ্রহন করেছে। লক্ষ্যমাত্রা অনুয়ারী ইরি-বোরো ধান চাষ অর্জিত হলে চাল উৎপাদন হবে প্রায় ৭ লক্ষ ৭৫ হাজার মেট্রিক টন। গত বছর জেলায় এক লক্ষ ৭৯ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো ধানের চাষ অর্জিত হয়েছিল। ফলন উৎপাদন হয়েছিল ৭ লক্ষ ৮০ হাজার মেট্রিক টন।

কৃষি বিভাগের সুত্রটি জানায়, এবারে জেলার ১৩টি উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ৫৭ হাজার ৭৮৮ হেক্টর, বীরগঞ্জে ১৪ হাজার ৯৫৫ হেক্টর, কাহারোলে ৫ হাজার ৭৫৮ হেক্টর, খানসামায় ৪ হাজার ৫৬৫ হেক্টর, চিরিরবন্দরে ১৮ হাজার ৭০৪ হেক্টর, বোচাগঞ্জে ৯ হাজার ২৫৫, বিরলে ১৩ হাজার ৩৬৪ হেক্টর, পার্বতীপুরে ২৪ হাজার ৩৫০ হেক্টর, ফুলবাড়ীতে ১৪ হাজার ৫৮৫ হেক্টর, নবাবগঞ্জে ১ হাজার ৮৮০ হেক্টর, বিরামপুরে ১ হাজার ৬৪০ হেক্টর, হাকিমপুরে ৭ হাজার ৫০০ হেক্টর ও ঘোড়াঘাটে ৯ হাজার ৯৩৫ হেক্টর জমিতে ইরি-বোরো চাষ বাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers