দেশ

পড়া মুখস্ত না হওয়ায় পিটিয়ে জখম, ক্ষমা চাইলেন শিক্ষক

গাজীপুর প্রতিনিধি ৪ মার্চ, ২০২১, ১২:১৮:২৬

  • ছবি : সংগৃহীত।

গাজীপুর: শ্রীপুরে মাদ্রাসার শিক্ষকের দেয়ে পড়া মুখস্ত না হওয়ায় এক শিশু শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে। বুধবার (৩ মার্চ) সকালে গাজীপুরের শ্রীপুর পৌর এলাকার কেওয়া পূর্বখণ্ড এলাকার মদিনাতুল উলুম মাদ্রাসায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।

সন্তানকে শিক্ষিত মানুষ করার আশায় ময়মনসিংহের গফরগাঁও থেকে শ্রীপুরে দাদীর কাছে পাঠিয়ে দেন বাবা-মা। দাদি ভাড়া বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দেয়ায়, কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেন শিশু ইয়াছিনের মা-বাবা। কিন্তু সম্প্রতি মাদ্রাসায় হুজুরের চাহিদামতো পড়া দিতে পারছিলো না ইয়াছিন। পড়া না দেয়ার অজুহাতে ইয়াছিনকে বেত দিয়ে নির্মমভাবে কয়েকদফা মারধর করেন হুজুর। হুজুরের হিংস্রতায় এখন সারা শরীরেই আঘাতের চিহ্ন শিশুটির। এক পর্যায়ে হুজুরের বর্বরতা সহ্য করতে না পেরে বুধবার সকালে ইয়াছিন মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে চলে আসে দাদির বাড়িতে। আর হুজুরের এমন আচরণে শিক্ষায় বাধা হয়ে দাঁড়ালো।

নির্যাতনের শিকার শিশুর বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার গফরগাঁও উপজেলার কান্দিপাড়া গ্রামে। তার বাবা মফিজুল ইসলাম নিজ এলাকায় মুদির ব্যবসা পরিচালনা করেন।

এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ খোন্দকার ইমাম হোসেন জানান, এ বিষয়টি নিয়ে এখনো থানায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ওই মাদ্রাসার মুহতামিম। তার বাড়িও ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার দাইরগাঁও গ্রামে। তার বাবার নাম ফিরোজ রশিদ। শ্রীপুরের কেওয়া পূর্ব খণ্ড গ্রামে তার ভাইয়ের সঙ্গে মিলে নিজ ভবনে মদিনাতুল উলুম মাদরাসা গড়ে তোলেন তিনি। ওই মাদ্রাসায় নুরানী, নাজেরা ও হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।

শিশুর পরিবার জানান, মা-বাবার দিনভর ব্যস্ততার কারণে এক বছর আগে ইয়াসিনকে হাফেজ হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে ওই মাদ্রাসার আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি করেন। সম্প্রতি পড়ালেখার চাপ বেড়ে যাওয়ায় সে হুজুরকে পড়া দিতে পারছিল না। এরজেরে কয়েকদফা মারধর করা হয় তাকে। বুধবার সকালে হুজুরের মারধরের কারণে সে কান্নাকাটি করে, তার স্বজনের বাড়িতে চলে আসে।

শিশুর মা শারমিন আক্তার বলেন, এভাবে কোনো মানুষ কোনো পশুকেও মারতে পারে না। অথচ তার শিশু সন্তানকে মারধর করেছে। সন্তানকে লেখাপড়া করানোর জন্য এখানে দিয়েছিলাম, কিন্তু তা আর হলো না। হুজুরের বিচার তো আর আমরা করতে পারবো না তাই এর বিচারের ভারটা আল্লাহর কাছেই দিয়েছি।

শিশুর বাবা মফিজুল হক বলেন, হজুর ক্ষমা চেয়েছে, এর সঙ্গে স্থানীয়রাও আমাদের বুঝিয়ে দিয়েছে তাই ছেলেকে নিয়ে বাড়িতে চলে যাচ্ছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বলেন, সে পড়া দিচ্ছিলো না, তাই তাকে মারধর করেছি। কিন্তু বিষয়টা এত বড় হয়ে যাবে বুঝতে পারিনি।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসলিমা মোস্তারী বলেন, শিশুটিকে নিয়ে তার স্বজনরা দুপুরে আমার কার্যালয়ে এসেছিল। তাদের থানায় অভিযোগের পরামর্শ দিয়েছি।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers