দেশ

আড়িয়াল বিলের মাটি সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নেয়া হয়নি ব্যবস্থ্য

শ্রীনগর (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি ৭ মে, ২০২১, ১২:৫৪:২৮

  • ছবি : নিউজজি

মুন্সিগঞ্জ: আড়িয়াল বিলের কৃষি জমির মাটি কেটে লুট করে নিচ্ছে মাটি সিন্ডিকেটের একটি সংঘবদ্ধ দল। বিলে প্রায় ২৫ থেকে ৩০টি স্কেভেটর দিয়ে সিন্ডিকেট মহলটি এখনও মাটি লুট চালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে গত মাসের মাঝামাঝি সময়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় খবর প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। এছাড়াও আড়িয়াল বিলের এসব মাটি লুটে অবৈধ মাহিন্দ্রা ও ট্রলি দিয়ে যাতায়াতের কারণে গ্রামীন কাঁচা-পাকা রাস্তাগুলো বিধ্বস্ত করা হচ্ছে।

অপরদিকে, এসব ট্রলি থেকে মাটি পরে রাস্তায় ধূলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে। যানবাহন চলাচলে ও ধমকা হাওয়ায় ধূলা ময়লা উড়ে বসতি বাড়ি ঘর, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নাকাল হচ্ছে। এতে করে পথচারীসহ এলাকাবাসী স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে থাকার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, শ্রীনগর উপজেলার বাঘড়ার ইউনিয়নের ছত্রভোগ ও জাহানাবাদ সংলগ্ন আড়িয়াল বিল পয়েন্টে ওই এলাকার মোজাম্মেল চৌধুরীর নের্তৃত্বে যুবরাজ, কালু, আতাহার, সালাম, জলিল ভূইয়া ও এলাকার রুদ্রপাড়ার নিছিমপুর সংলগ্ন বিল এলাকায় দোহার উপজেলার জুবলী ল্যাংড়া জলিল বাহিনীর আব্দুর রশিদ, ইমরান, হারুন, চঞ্চল, খালেক ভূইয়াসহ স্থানীয়র একটি বড় সিন্ডিকেট আড়িয়াল বিলের শত শত হেক্টর কৃষি জমির মাটি কেটে নিচ্ছে। অন্যদিকে মাটি ভর্তি মাহিন্দ্র ট্রলি ও ড্রামট্রাকের ওভারলোডিংয়ে এখানকার গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলো প্রায় বিলীনের পথে। 

এলাকাবাসী বলেন, মাটির সিন্ডিকেট মহলটি প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয় ভূক্তভোগীরা ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। বোরো ধানের মৌসুম থেকে শুরু করে কৃষি জমির মাটি কৌশলে কেটে নিচ্ছে মহলটি। এছাড়াও বিস্তীর্ণ আড়িয়াল বিলের দিকে তাকালেই দৃশ্যমাণ পাহার সমান শতশত মাটির স্তুপ রয়েছে। বিলে পানি আসার সাথে বাল্কহেড ও ট্রলারে করে এসব মাটি পাচারে তৎপর হয়ে উঠবে। প্রশাসনের নাকের ডগায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এভাবে আড়িয়াল বিলের মাটি লুটের মাধ্যমে কৃষি জমি এভাবেই অনাবাদি করা হচ্ছে।

অপর একটি সূত্র জানায়, এখানকার পরিস্থিতি দেখে মনে হয় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন মাটি সিন্ডিকেটির কাছে অনেকটাই জিম্মী হয়ে পরেছে। তা না হলে কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়ার বিষয়টি কে না জানেন? দেখার যেন কেউই নেই! আড়িয়াল বিলের মাটি লুট সিন্ডিকেট সদস্যদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলে এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হয়নি।

স্থানীয় ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আল আমিন বলেন, আমি সরেজমিনে গিয়ে মাটি কাটতে নিষেধ করেছি। তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি কেন এমন প্রশ্নের উত্তর ওই কর্মকর্তা বলেন, আমি উধ্বর্তন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। ব্যবস্থা নিলে তারা নিবেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী (ভূমি) কমিশনার কেয়া দেবনাথ বলেন, মৌখিকভাবে মাটি কাটতে নিষেধ করা হয়েছে ও এলাকায় মাইকিং করা হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার প্রণব কুমার ঘোষ বলেন, বিষয়টি আমি অবগত। তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

নিউজজি/এসএম

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers