দেশ

বজ্রপাতে সপ্তাহে মৃত্যু ৫৮, এক মাসে প্রাণ গেলো ১০৫ জনের

নিউজজি ডেস্ক ১১ জুন, ২০২১, ০২:৩৭:৪১

  • বজ্রপাতে সপ্তাহে মৃত্যু ৫৮, এক মাসে প্রাণ গেলো ১০৫ জনের

ঢাকা: চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনে বজ্রপাতে দেশে ৫৮ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। গেলো মে মাসে প্রাণ গেছে ১০৫ জনের। জুনের প্রথম সপ্তাহে বজ্রপাতে প্রাণ হারানোদের মধ্যে ৫০ জন পুরুষ এবং ৮ জন নারী ছিলেন। এই ৬ দিনে শুধু সিরাজগঞ্জ জেলায় প্রাণ গেছে ১১ জনের।

অপরদিকে, পুরো মে মাসে তেমন একটা বৃষ্টিপাত না হলেও ঘূর্ণিঝড় ইয়াসকে ঘিরে শেষ যে কদিন বৃষ্টি হয়েছে তাতেই প্রাণ ঝরেছে ১০৫ জনের। যার মধ্যে ৮৫ জন পুরুষ ও নারী ছিলেন ২০ জন। নিহত ৭৭ জন পুরুষই কৃষি কাজের সময় প্রাণ হারিয়েছেন। জেলা হিসেবে মে মাসে সর্বোচ্চ নেত্রকোনায় ১৩ জন। এছাড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১০ এবং সিরাজগঞ্জে প্রাণ গেছে ৭ জনের।

দেশে বজ্রপাতে মৃত্যু নিয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও সচেতনতায় কাজ করছে বেসরকারি সংগঠন সেইভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম। সংগঠনটির পরিসংখ্যান থেকেই উঠে এসেছে এই তথ্য। সংগঠনটি বলছে, সরকারিভাবে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না নেয়া এবং জনসচেতনতার অভাবে বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণ ঝরছে কৃষকের।

কেন বাড়ছে বজ্রপাতের হার? জানতে চাইলে বুয়েটের পানি ও বন্যা ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক বিশিষ্ট জলবায়ুবিদ ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, বজ্রপাত বেড়েছে কি না সেটি তথ্য দিয়ে বলা যাচ্ছে না, কারণ আমাদের দেশে বজ্রপাত শনাক্তের ব্যবস্থা নেই। তবে স্বাভাবিক চোখে দেখে বলাই যায় বজ্রপাতের হার বেশি মনে হচ্ছে। এছাড়া, সাধারণত অত্যাধিক গরমের আবহাওয়ার মধ্যে মেঘ জমলে তখনই বজ্রপাত বেশি হয়। আমাদের তো এখন তাই হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাত ছিলো না। প্রচুর গরম ছিলো। মাত্র ক'দিন হলো বৃষ্টি হচ্ছে। এটাও অন্যতম কারণ হতে পারে।

এ বছর বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় বজ্রপাতে মৃত্যুর হার বিগত বছরগুলোর তুলনায় কম বলেও জানান এই জলবায়ুবিদ। পরামর্শ দেন, কৃষককে নিরাপদ করতে ফসলের ক্ষেতে ছাউনি তৈরিসহ স্বল্প মেয়াদী ব্যবস্থায় জোর দিতে।

এই বিষয়ে সেইভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম-এর গবেষণা সেলের নির্বাহী প্রধান আব্দুল আলীম বলেন, অন্যান্য দূর্যোগকে সরকারের পক্ষ থেকে যেভাবে দেখা হয় বজ্রপাতকে এখনো সেভাবে দেখা হয় না। এর কারণে তেমন একটা সচেতনতাও গড়ে উঠেনি। আমরা দেখছি সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হচ্ছে কৃষি কাজে গিয়ে। এখন ফসলের মাঠে কৃষকের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে গেছে।

আব্দুল আলিম আরও বলেন, সরকার চাইলেই বজ্রপাত ঝুঁকি কমাতে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব ছিল। কিন্তু পর্যাপ্ত উদ্যোগ এখনও আসেনি। সরকার শুধু তাল গাছ লাগাতে বলে দায় সেরেছে। কিন্তু এখন একটা তালগাছ লাগালে সেটা বড় হতে তো ২০ বছর লাগবে, এই ২০ বছরের ক্ষতি কে ঠেকাবে?

অথচ আধুনিক যুগে এখন খুব কম খরচে বজ্রপাত নিরোধক যন্ত্র বসানো সম্ভব। কিন্তু সেই পথে সরকার হটেনি। শিগগিরই চাষের ক্ষেতে বজ্রপাত নিরোধন টাওয়ার স্থাপন, কৃষকের আশ্রয়ের ব্যবস্থা করণ এবং প্রতিটি বাড়িতে বজ্রপাত নিরোধক স্থাপনে জোর দিতে বলেন সেইভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম-এর কর্মকর্তা।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers