দেশ

পঞ্চগড়ে সুপারির বাম্পার ফলন, গড়ে উঠছে নতুন বাগান

পঞ্চগড় প্রতিনিধি ১৭ জুন, ২০২১, ১৫:০০:৫১

  • ছবি : নিউজজি

পঞ্চগড়: চলতি মৌসুমে পঞ্চগড়ে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষী ও সুপারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক দশকে সুপারির এমন ফলন ও দাম বাজারে ওঠেনি। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে, আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় চলতি মৌসুমে সুপারির বাম্পার ফলন হয়েছে। মান ভেদে প্রতি পন (৮০টি সুপারিতে ১ পন) সুপারি বিক্রি হচ্ছে ৪’শ টাকা থেকে ৫’শ টাকা দরে। খুচরা বাজারে দাম আরো বেশি।

পঞ্চগড় বাজার বণিক সমিতির নেতা মো. শাহেরুল ইসলাম বলেন, জেলার অর্থনীতিতে বড় একটা অংশ দখল করে আছে সুপারি। গাছে ফল আসার পর প্রতি বছর মে-জুন মাসে সুপারি পরিপক্ক হলে চাষীরা বাজারজাত করে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলসহ অন্যান্য অঞ্চলে এই সময়টাতে সুপারি না থাকায় পঞ্চগড়ের মজা সুপারির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। দেশের অন্যান্য জেলার বাড়তি চাহিদা মেটাতে পঞ্চগড়ের সুপাড়ির ওপর নির্ভর করতে হয়। চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এবার চাষীরা সুপারির দামও পাচ্ছে বেশি।

পঞ্চগড় রাজনগর হাটসহ জেলার বেশ কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে বড় বড় সুপারি ব্যবসায়ীরা এখন অবস্থান করছেন পঞ্চগড়ে। জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার থেকে ব্যবসায়ীরা সুপাড়ি কিনে ট্রাকে করে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এদিকে সুপাড়িকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে মৌসুমী ব্যবসায়ীরাও মাঠে নেমেছে কোমড় বেধে। চাষী ও ব্যবসায়ীদের মাঝে তৃতীয় পক্ষ হিসেবে তারা ব্যবসা পরিচালনা করে। এ লক্ষ্যে তারাও চাষীদের কাছ থেকে পাঁকা সুপারি ক্রয় করে মজুদ করছেন। অনেকে এই সুপারি মাটিতে পুঁতে রাখবেন। মাস দু’য়েক পর তারা এই সুপাড়ি মাটি থেকে তুলে বিক্রি করবেন। মাটিতে পুতে রাখা এসব মজা সুপারি বেশ চড়া দামে বিক্রি করবেন তারা। মজা সুপাড়ির দাম ও চাহিদা দুটোই অনেক বেশি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানায়, পঞ্চগড়ের মাটি অপেক্ষাকৃত উঁচু এবং মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় বংশ পরম্পরায় এখানে সুপারি চাষ করে আসছে স্থানীয় চাষীরা। বাড়ির চারপাশের খোলা জায়গায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতে কম বেশি সুপারির গাছ রয়েছে। অনেকে করেছেন সুপারির বাগান। বাড়তি কোন পরিচর্যা করার প্রয়োজন না থাকায় অকৃষি জমিতে বাড়তি আয়ের আশায় চাষীরা সুপাড়ি বাগান করে আর্থিক সচ্ছলতার পথ খুঁজে পেয়েছেন।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার কামাত কাজলদিঘী, চাকলাহাট, হাড়িভাসা ও টুনিরহাট, গোয়ালঝাড়, ভিতরগড়, জগদল সুপারির জন্য বিখ্যাত। এই এলাকায় রয়েছে অসংখ্য সুপারির বাগান। পঞ্চগড়ের ৫ উপজেলাতেও সুপারির অনেক বাগান রয়েছে। সর্ব উত্তরের জেলা গুলোর মধ্যে বড় সুপারির মোকাম হয় পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট বাজার।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার টুনিরহাট এলাকার ভান্ডারু গ্রামের কৃষক হামিদার রহমান জানান, গত মৌসূমে বাগান থেকে প্রায় ৩শ কাহন (৮০টা সুপারিতে এক পণ আর ১৬ পণে এক কাহন) সুপাড়ি পেয়েছিলাম। পাঁকা সুপারি মাটির নিচে পুতে মজা করে প্রতি কাহন সুপারি বিক্রয় করেছি ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার টাকায়। এক মৌসূমে শুধু সুপাড়ি বিক্রি হয়েছে ১৫ লাখ টাকার উপরে। চলতি মৌসূমে ওই বাগান থেকে তিনি ৪শ কাহন সুপারি পাওয়ার আশা করছেন।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে একশ কাহন সুপারি বাজারে বিক্রয় করেছেন। এখন দাম বেশ ভাল। গড়ে প্রতি কাহন সুপারি তিনি ৫ হাজার টাকা দরে বিক্রয় করেছেন।

সদর উপজেলার বিলুপ্ত গাড়াতি ছিটমহলের সুপারি চাষী মফিজার রহমান জানান, দুইশত সুপারি চারা লাগিয়ে ৪ বছরে এবার প্রথম ফলন পেয়েছি। সুপারি ফলন ও দাম পেয়ে দারুন খুশি তিনি।

রংপুর থেকে সুপারি কিনতে আসা ব্যবসায়ী শহিদুল জানান,পঞ্চগড়ের সুপারির মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চাহিদাও অনেক বেশি। পঞ্চগড়ের বাজারের চেয়ে ওইসব অঞ্চলে চাহিদা ও দাম দুটোই বেশি। তাই পঞ্চগড় থেকে সুপারি কিনে নিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করে আমরাও লাভবান হই।

পঞ্চগড় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন,পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় এবার সুপারি ফলন হয়েছে অনেক ভালো। চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ শত ৪৫ হেক্টর জমিতে সুপারি চাষ হয়েছে। এসব সুপারি বাগান ও গাছ থেকে ৮ হাজার ৯ শত ৭০ মেট্রিক টন সুপাড়ি উৎপাদন হবে।

এদিকে পঞ্চগড় জেলায় প্রায় সব বাড়ি ও খোলা জায়গায় স্থানীয় চাষীরা সুপারির বাগান ও গাছ লাগিয়ে বাড়তি আয়ের পথ তৈরি করছে। জেলার উৎপাদিত সুপারির মান ভাল হওয়ায় অন্যান্য জেলায় যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। লাভজনক হওয়ায় এখনো নতুন নতুন জমিতে সুপারির বাগান গড়ে উঠছে।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers