শিল্প-সংস্কৃতি

স্মৃতিটুকু থাক...

রুহুল আমিন ভূঁইয়া ১৯ জুলাই , ২০২১, ১১:০৫:৪৪

  • কবরী সারোয়ার। ছবি: ইন্টারনেট

বাংলা সিনেমার সোনালী যুগের অন্যতম অভিনেত্রী কবরী সারোয়ার। ষাট ও সত্তরের দশকের সাড়া জাগানো ঢাকাই সিনেমার ‘মিষ্টি মেয়ে’ খ্যাত এই অভিনেত্রীর জন্মদিন আজ। ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। বিশেষ এই দিনে তার জন্য শুভেচ্ছা ও অসামান্য শ্রদ্ধা।

তার আসল নাম ছিল মিনা পাল। নারী অধিকার কিংবা দেশপ্রেম কোথায় নেই তিনি? যুক্ত ছিলেন রাজনীতিতেও। লাইট, ক্যামেরা, অ্যাকশন কিংবা রাজনীতির মাঠ-ময়দানে দাপিয়ে বেড়া মানুষটির শেষ রক্ষা হলো না।

মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় তিনি চলে গেলেন না ফেরার দেশে। গত ১৬ এপ্রিল রাজধানীর শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যকালে তার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। এক জীবনে পেয়েছেন তিনি অগণিত মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা। এমন ভালোবাসাই হয়তো তাকে ফিরিয়ে আনবে এমনটা প্রত্যাশা করেছিল তার সহকর্মীরা। কিন্তু সবাইকে কাঁদিয়ে চলে গেলেন গুণী এই অভিনেত্রী।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ সিনেমা দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। সে-ই শুরু, তারপর এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়ের রচনা। মিষ্টি মেয়ে খ্যাত এই অভিনেত্রী অসংখ্য কালজয়ী সিনেমার নায়িকা। তার অভিনীত সিনেমার মধ্যে রয়েছে ‘আবির্ভাব’, সাত ভাই চম্পা’, ‘ময়নামতি’, ‘নীল আকাশের নিচে’,  ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’,  ‘জলছবি’,  ‘বাহানা’, ‘তিতাশ একটি নদীর নাম’, ‘সুজন সখী’, ‘দেবদাস’, ‘রংবাজ’, ‘সারেং বৌ’, ‘বেইমান’ ইত্যাদি।

২০০৬ সালে কবরী চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে নাম লেখান। তার পরিচালিত প্রথম সিনেমা ‘আয়না’।  অর্থশত বছরের ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন দেড়শর মত সিনেমায়। ১৯৭৮ সালে ‘সারেং বৌ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন তিনি। এছাড়া ২০১৩ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে আজীবন সম্মামনায় ভূষিত করা হয় তাকে।

দীর্ঘদিন রাজনীতিতেও যুক্ত ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। যুক্ত হয়েছেন অসংখ্য নারী অধিকার ও সমাজসেবামূলক সংগঠনের সঙ্গে। অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৭-তে প্রকাশিত হয়েছে তার আত্মজীবনীমূলক বই ‘স্মৃতিটুকু থাক’।

১৯৭১ এর স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের রেডিওতে কাজ করেছেন তিনি। আকাশবানীতে নিয়মিত সাক্ষাৎকার দিয়ে তিনি উদ্ভত করেন আমাদের মুক্তি সেনাদের। পাঁচ সন্তানের রত্নাগর্ভা মা গুণী এই অভিনেত্রী। ১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ সিনেমা করার পর ছাড়িয়ে যায় আগের সব জনপ্রিয়তাকে।

৫০ বছরের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী।

কবরীর প্রতিটা জন্মদিন মানেই ছিল ভক্ত, আত্মীয়স্বজন ও কাছের লোকদের শুভেচ্ছায় সিক্ত হওয়া। রাত ১২টা বাজার আগ থেকেই মুঠোফোন আর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতে থাকে অসংখ্য ক্ষুদে বার্তা। কিন্তু এবারের জন্মদিনটা বেদনার। যার জন্য হতো এতো আয়োজন আজ তিনি থেকেও নেই। স্বশরীরে উপস্থিত না থাকলেও বেঁচে আছেন তার কাজের মাধ্যমে। তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা।

নিউজজি/রুআ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers