শিল্প-সংস্কৃতি

রবীন্দ্রসঙ্গীত কবিগুরুর অনন্য সৃজন

ফারুক হোসেন শিহাব ৮ মে , ২০২২, ১৩:৫৯:২৩

  • রবীন্দ্রসঙ্গীত কবিগুরুর অনন্য সৃজন

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা ভাষার সর্বকালের শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক। তিনি বাংলার দিকপাল কবি, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতস্রষ্টা, নাট্যকার, চিত্রকর, গল্পকার, প্রাবন্ধিক ও দার্শনিক। তার বহুমুখী প্রতিভা দিয়ে তিনি রবীন্দ্রযুগের সৃষ্টি করেছেন। বাঙালির সাহিত্যাকাশের সব তারাকে টপকে অতি উজ্জ্বল হয়ে উঠা তারকা ‘রবি’। যেজন্য বাংলা সাহিত্যে, বাঙালি মানসে অক্ষয় এক নাম রবীন্দ্রনাথ। 

কবিগুরুর বহুমাত্রিক সৃজনের মধ্যে অনন্য সৃষ্টি তাঁর গান। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সর্বমোট ১৯১৫টি গান রচনা করেছিলেন। এই গানগুলি ‘রবীন্দ্রসঙ্গীত’ নামে পরিচিত। ধ্রুপদি ভারতীয় সঙ্গীত (হিন্দুস্তানি ও কর্ণাটকী শাস্ত্রীয় সঙ্গীত), বাংলা লোকসঙ্গীত ও ইউরোপীয় সঙ্গীতের ধারা তিনটিকে আত্মস্থ করে তিনি একটি স্বকীয় সুরশৈলীর জন্ম দেন।

রবীন্দ্রনাথ তাঁর বহু কবিতাকে গানে রূপান্তরিত করেছিলেন। রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ সুকুমার সেন রবীন্দ্রসঙ্গীত রচনার ইতিহাসে চারটি পর্ব নির্দেশ করেছেন। প্রথম পর্বে তিনি জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সৃষ্ট গীতের অনুসরণে গান রচনা শুরু করেছিলেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে (১৮৮৪-১৯০০) পল্লীগীতি ও কীর্তনের অনুসরণে রবীন্দ্রনাথ নিজস্ব সুরে গান রচনা শুরু করেন।

এই পর্বের রবীন্দ্রসঙ্গীতে ঊনবিংশ শতাব্দীর বিশিষ্ট সঙ্গীতস্রষ্টা মধুকান, রামনিধি গুপ্ত, শ্রীধর কথক প্রমুখের প্রভাবও সুস্পষ্ট। এই সময় থেকেই তিনি স্বরচিত কবিতায় সুর দিয়ে গান রচনাও শুরু করেছিলেন। ১৯০০ সালে শান্তিনিকেতনে বসবাস শুরু করার পর থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীত রচনার তৃতীয় পর্বের সূচনা ঘটে।

এই সময় রবীন্দ্রনাথ বাউল গানের সুর ও ভাব তাঁর নিজের গানের অঙ্গীভূত করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর রবীন্দ্রনাথের গান রচনার চতুর্থ পর্বের সূচনা হয়।,কবির এই সময়কার গানের বৈশিষ্ট্য ছিল নতুন নতুন ঠাটের প্রয়োগ এবং বিচিত্র ও দুরূহ সুরসৃষ্টি। কবির জীবন যতই গভীরে প্রবেশ করেছে প্রকাশের ভাষা ততই রূপকে সুরে ছন্দে রহস্যে পরিপূর্ণ করে ঈশ্বর ও প্রকৃতির মধ্যে ভেদাভেদ ঘুচিয়ে দিয়ে এক অখণ্ড রসবোধে সমস্ত চিত্তকে প্লাবিত করে দিয়েছে। 

তাঁর রচিত সকল গান সংকলিত হয়েছে ‘গীতবিতান’ গ্রন্থে। এই গ্রন্থের ‘পূজা’, ‘প্রেম’, ‘প্রকৃতি’, ‘স্বদেশ’, ‘আনুষ্ঠানিক’ ও ‘বিচিত্র’ পর্যায়ে মোট দেড় হাজার গান সংকলিত হয়। পরে গীতিনাট্য, নৃত্যনাট্য, নাটক, কাব্যগ্রন্থ ও অন্যান্য সংকলন গ্রন্থ থেকে বহু গান এই বইতে সংকলিত হয়েছিল। ইউরোপীয় অপেরার আদর্শে ‘বাল্মীকি-প্রতিভা’, ‘কালমৃগয়া’ গীতিনাট্য এবং ‘চিত্রাঙ্গদা’, ‘চণ্ডালিকা’, ও ‘শ্যামা’ সম্পূর্ণ গানের আকারে লেখা।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ