শিল্প-সংস্কৃতি
  >
গ্যালারি

‘চতুর্থ জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’ শেষ হচ্ছে কাল

নিউজজি প্রতিবেদক ৬ জুন , ২০১৮, ১২:২০:২৭

  • ‘চতুর্থ জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’ শেষ হচ্ছে কাল

গুণী ভাস্কর্যশিল্পীদের বৈচিত্র্যময় আঙ্গিক ও উপকরণে নির্মিত ভাস্কর্যে মুগ্ধ রাজধানীর শিল্পপ্রেমীরা। সর্বস্তরের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের স্বতঃস্ফূর্ত পদচারণায় দারুণ উপভোগ্য হয়ে ওঠেছে ‘চতুর্থ জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনী’। এসব শিল্পকর্মে শিল্পীরা তাদের তুলে ধরেছেন সময়ের স্রোতধারা এবং অব্যক্ত অনেক আকুতি। 

ভাষা আন্দোলন, স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ,বাঙালি সংস্কৃতি, প্রেম, ঐতিহ্য, প্রকৃতিসহ জাগতিক জীবনের নানা প্রসঙ্গ উঠে এসেছে প্রদর্শিত ভাস্কর্যগুলোতে। দেশের এই শিল্প মাধ্যমটি যে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ক্রমাগত ঐশ্বর্যমণ্ডিত হচ্ছে, এই প্রদর্শনী তারই একটি অনন্য উদাহরণ।

অতঃপর শেষ হতে চললো বর্ণাঢ্য এ প্রদর্শনী। আগামীকাল ৭ জুন শেষ হবে বিষয় বৈচিত্র্যের আনন্দঘন জাতীয় ভাস্কর্য প্রদর্শনীর এ আসর। এতে প্রদর্শন করা হয়েছে মোট ১৩২টি ভাস্কর্য। আয়োজনে অংশগ্রহণের জন্য সারাদেশ থেকে একুশ বা তদূর্ধ্ব বয়সের ১৮৭ জন শিল্পীর মোট ৩৯২টি শিল্পকর্ম জমা পড়েছিল। 

নির্বাচকমণ্ডলী তা থেকে বাছাই করে ৯৮জন শিল্পীর মোট ১১৭ শিল্পকর্ম প্রদর্শনের জন্য নির্বাচন করেন। এ ছাড়াও ১১ জন আমন্ত্রিত শিল্পী ও প্রয়াত ৪ শিল্পীর একটি করে আরও ১৫টি শিল্পকর্মসহ এই প্রদশর্নীতে ঠাঁই পেয়েছে মোট ১৩২টি ভাস্কর্য। প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত সবার জন্য প্রদর্শনী উন্মুক্ত রয়েছে। রমজান মাস হওয়া সত্বেও প্রতিদিনই প্রদর্শনীতে প্রচুর দর্শনার্থীর উপস্থিতি মিলছে।

চতুর্থ ভাস্কর্য প্রদর্শনীতে প্রদর্শিত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যেকার ৫টি শিল্পকর্মকে পুরস্কার প্রদান করা হয়েছে। পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী ও তাদের শিল্পকর্মগুলো হচ্ছে- খোকন চন্দ্র সরকারের ‘আমার বিশ্বাসের অন্তরালে-৯’, পলাশ সাহার ‘সংকট’, কাজী সালাউদ্দিন আহমেদের ‘ফ্রেগমেন্টেড-১’, অলোক কুমার সরকারের ‘সম্পর্ক’ ও শিমূল দত্তের ‘চাপ সামলাও-৭’।

প্রদর্শনীতে হামিদুজ্জামান খানের ‘বিশ্রাম’, ফেরদৌসী প্রিয়ভাষিণীর ‘শিরোনামহীন, ভাস্কর রাশার ‘গরীব মা, ধনী মা’, মাহবুব জামালের ‘ম্যান ফিগার’, শ্যামলী চৌধুরীর ‘ঢুলী’ শামীম শিকদারের ‘বাউল’, নিতুন কুণ্ডু’র ‘বিজয়’, জাদিহুল ইসলাম জাহিদের ‘কম্পোজিশন-১’ উত্তম কুমার তালুকদারের ‘কাঠের গল্প’, তিলোত্তমা ভৌমিকের ‘বিশ্বাস বনাম আবেগ’, তারানা হালিমের ‘আহত-১’, মৃনাল হকের ‘ইস্পাতের কান্না-২’ উজ্জ্বল খানের ‘স্বাধীনতা সংগ্রামে গণহত্যা’, লাকী ওসমানের ‘প্রকৃতি’, ভাস্কর্যগুলো দর্শকদের মাঝে বিপুলভাবে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে। 

প্রদশর্নী সম্পর্কে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী বলেন, ‘এই প্রদশর্নীতে অংশগ্রহণকারী শিল্পীদের অনেকেই আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ওপর তাৎপর্যপূর্ণ ভাস্কর্য নির্মাণ করেছেন। বাংলাদেশের সমাজ বাস্তবতায় ভাস্কর্য সম্পর্কে জনমনে কিছু অস্পষ্টতা রয়েছে। তা কাটিয়ে উঠার ক্ষেত্রে এ প্রদর্শনী ভূমিকা রাখবে। সর্বস্তরের মানুষের কাছে আমাদের আধুনিক মানের শিল্পীদের নির্মিত ভাস্কর্য পরিচিত করতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি এই প্রদর্শনীটির আয়োজন করেছে।’ 

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers