শিল্প-সংস্কৃতি
  >
গ্যালারি

ঢাকায় শুরু হচ্ছে অষ্টাদশ দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী

ফারুক হোসেন শিহাব ৩০ আগস্ট , ২০১৮, ১৭:৪২:১৭

  • ঢাকায় শুরু হচ্ছে অষ্টাদশ দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী

আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় শুরু হবে মাসব্যাপী অষ্টাদশ দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অনুষ্ঠেয় এ প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বরেণ্য শিল্পী-শিল্পসমালোচক।

ঢাকার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালা প্লাজায় অনুষ্ঠিতব্য এ আসরের বিস্তারিত জানাতে আজ ৩০ আগস্ট বৃহস্পতিবার দুপুর একটায় শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে অন্যান্যের মাঝে উপস্থিত ছিলেন অষ্টাদশ দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর জাতীয় কমিটির সভাপতি- সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এমপি।

সংবাদ সম্মেলনে বিশ্বশিল্পের বৃহত্তর এই আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও ছিলেন শিল্পকলা একাডেমির সচিব মো. জাহাঙ্গীর আলম, চারুকলা বিভাগের পরিচালকসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা। 

সংবাদ সম্মেলনে জানা গেছে, বাংলাদেশসহ ৬৮ দেশের ৪৬৫জন শিল্পীর ৫৮৩টি শিল্পকর্ম নিয়ে অংশ নিচ্ছেন এবারের আসরে। আগামী আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি আয়োজিত মাসব্যাপী ‘১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮’-এর শুভ-উদ্বোধন করবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

সংস্কৃতি সচিব মো. নাসির উদ্দিন আহমেদ-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর এম.পি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন ‘১৮তম দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশ ২০১৮ এর পর্যবেক্ষক প্রফেসর এমিরেটাস তেতসুইয়া নোদা এবং স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত থেকে পুরস্কারপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করবেন জুরি বোর্ডের সভাপতি শিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। উদ্বোধনী আলোচনা শেষে অনুষ্ঠিত হবে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। পুরো আয়োজনকে সুচারুরূপে বাস্তবায়নের লক্ষে সর্বমোট ২৯টি উপকমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়।

আয়োজন প্রসঙ্গে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে উপমহাদেশের বৃহত্তর চারুকলা প্রদর্শনী এবং বিশ্বশিল্পের অন্যতম বৃহৎ মিলনমেলা। প্রতিবারই এ আয়োজনকে ঘিরে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এবারও তেমনি প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। অন্যান্য বারের মতো এবার যেন আরো ভালো মানের শিল্পকর্ম প্রদর্শনীতে স্থান পায়, আমরা সেই উদ্যোগই নিয়েছি। আশা করছি, এবার  অনেক ভালো শিল্পকর্ম আমরা দেখতে পাবো।’

তিনি আরো বলেন, ‘এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে- আমরা যে সর্বক্ষেত্রে অগ্রসর হচ্ছি, অর্থাৎ শুধুই যে অর্থনীতিতে বা আর্থসামাজিক ক্ষেত্রে আমাদের অগ্রগতি হচ্ছে তা কিন্তু নয়। শিল্প-সংস্কৃতিসহ সার্বিক ক্ষেত্রে যে দেশের উন্নতি হচ্ছে এটি তারই একটি বহিঃপ্রকাশ। শুধু তাই নয়, দেশে শিল্প-সংস্কৃতি তথা অবকাঠামোগতভাবে  যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হচ্ছে সেটি আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে সবার কাছে দৃশ্যমান হয়ে উঠবে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরো উজ্জ্বল হয়ে উঠবে বলে আমার বিশ্বাস।’

সংস্কৃতি সচিব বলেন, ‘নাম ‘‘এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী’’ হলেও এ আয়োজনটি কিন্তু এখন আর এশিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি এখন শিল্পের বিশ্বসমাবেশে রূপ পেতে যাচ্ছে। তলাবিহীন রাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশ যে বিশ্বউন্নয়নের রোল মডেল হয়ে উঠেছে এটি তারই একটি উদাহরণ। শিল্পের বৃহত্তর এই আসরের মধ্য দিয়ে এবার ৬৮টি দেশের শিল্পীসমাজ আমাদের শিল্প-সংস্কৃতি সম্পর্কে অবহিত হবে। এটি জাতিগতভাবে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশকে আরো সম্মানীত করবে বলে মনে করছি।’

সংবাদ সম্মেলনে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক জানান, বৃহৎ এই শিল্পযজ্ঞের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ, এদেশের মানুষ  এবং আমাদের রুচিবোধ বিশ্বের শিল্পসমাজে অনেক সমাদৃত হবে। অন্যান্য বারের চেয়েও এবার বড় পরিসরে এবং বেশি দেশ, বেশি শিল্পকর্ম নিয়ে আয়োজনটি অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

এসময় তিনি বলেন, ‘৩৭ বছর আগে যেখানে মাত্র ১৪টি দেশের শিল্পকর্ম নিয়ে ‘‘এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী’’ শুরু হয়েছিল, সেখানে গতবার ৫৫টি এবং এবার ৬৮টি দেশের শিল্পীদের বহুমাত্রিক চিত্রকর্ম নিয়ে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আসরে চারুকলা প্রদর্শনী ছাড়াও থাকবে চারুকলা বিষয়ে কয়েকটি সেমিনার, আলোচনা, আর্টক্যাম্প এবং প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী। এতে রাখা হয়েছে ভিআইপি লাউঞ্জ, ফুড কোর্ড, শিশুকর্ণার এবং প্রেস।’

লিয়াকত আলী লাকী আরো বলেন, ‘এবার বিশেষভাবে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে শিশুদের। বিশেষ করে এ আয়োজনে প্রতি দিন বিভিন্ন জেলার শিশু-কিশোর চিত্রশিল্পীরা শিশুকর্ণারে ছবি আঁকার সুযোগ পাচ্ছে। বাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে ৬৪ জেলা থেকে এসব শিল্পীদের সুযোগ করে দেয়া হচ্ছে এবার। পাশাপাশি পারফর্মেন্স আর্টকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। দেশি বিদেশি ত্রিশজন শিল্পী পারফর্মিং আর্টে অংশ নেবেন। এ আসরকে বহির্বিশ্বে বিশেষভাবে জানান দিতে আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে বিজ্ঞাপন দেয়া হয়েছে। যার ফলে আমরা বেশ ভালো সাড়াও পেয়েছি। আশা করছি বরাবরের মতো আমাদের দেশীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোও ধারাবাহিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’

অষ্টাদশ এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী আয়োজনের প্রস্তুতি প্রায় শেষের পথে বলেও সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা গেছে। গত আটত্রিশ বছর ধরে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি প্রতি দুই বছর পর পর এশীয় চারুকলা প্রদর্শনীর আয়োজন করে আসছে। ২২ বছরের ঊর্ধ্বে বিশ্বের যেকোনো দেশের শিল্পীরা এতে অংশ নিতে পারছেন। যেসব শিল্পীরা অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করবেন, তাদের আবেদন বাছাই করার জন্য দেশি-বিদেশী ৫ জন প্রখ্যাত শিল্পীকে নিয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ঢাকায় ‘দ্বিবার্ষিক এশীয় চারুকলা প্রদর্শনী’ আয়োজন করে বাংলাদেশ ব্যাপক সুনাম অর্জন করেছে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের চিত্রকর্মকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরেছে। এতে আমাদের শিল্পী ও শিল্পকর্মকে এশীয় ও অন্যান্য মহাদেশের শিল্প প্রেমিকরা জানতে পারছেন। একইভাবে আমাদের দেশের দর্শক ও শিল্পপ্রেমীরাও অন্যান্য দেশের চারুশিল্প সম্পর্কে অবগত হচ্ছেন।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers