শিল্প-সংস্কৃতি
  >
গ্যালারি

একজন প্রবাসী চিত্রশিল্পী অনিন্দিতা

নিউজ জি প্রতিবেদক ৮ মার্চ , ২০১৭, ১৭:০৪:৪৮

  • একজন প্রবাসী চিত্রশিল্পী অনিন্দিতা

তিনি বাঙালি এবং বাংলাদেশি। বর্তমানে বসবাস করছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া নগরীর ফেয়ারফ্যাক্সে। কাজ করেন বিশ্বব্যাংকের কমিউনিটি অর্গানাইজেশন ফ্যামিলি মেম্বার নেটওয়ার্কের (ডব্লিউবিএফএন) সমন্বয়ক হিসেবে। একাধারে তিনি চিত্রশিল্পী, কণ্ঠশিল্পী এবং গীতিকার। কিন্তু নিজেকে চিত্রশিল্পী পরিচয় দিতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। বলছি বহুমুখী শিল্প-প্রতিভার অধিকারী শাহনাজ ইসলাম অনিন্দিতার কথা। সম্প্রতি নিউজজি২৪ডটকম-এ দীর্ঘ আলাপে বেরিয়ে আসে তার জীবনের নানা ঘটনা। 

অনিন্দিতার জন্ম ঢাকায়। তবে পৈত্রিক নিবাস লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জে। তিন ভাই-বোনের মধ্যে তিনিই বড়। বাবা কূটনীতিক হওয়ার সুবাদে ছোটবেলা থেকে কেটেছে প্রবাসে। স্কুলজীবন শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাজধানী দুবাইয়ে। বাবার চাকরির সুবাদে দেশে ফিরে ভর্তি হন রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলে। এসএসসি ও এইচএসসির পাট চুকিয়ে অধ্যয়ন শুরু করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটে। তবে পারিবারিক প্রয়োজনে আবারো পাড়ি জমাতে হয় প্রবাসে।

নিজের স্বপ্নের কথা জানতে গিয়ে অনিন্দিতা বলেন, ‘ছোটবেলায় ভাবতাম রাজনীতিবিদ হবো, দেশের মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করব। তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে ইচ্ছাগুলোরও কেমন পরিবর্তন আসে। ছবি আঁকার প্রতি ঝোঁক প্রবলভাবে বেড়ে যায়। সেই থেকেই চারুকলায় পড়াশোনা। সেখানে পড়াকালেই স্থায়ীভাবে বসবাস করার উদ্দেশ্যে চলে যাই কানাডায়। সেখানকার টরেন্টো শহরের সেনেকা কলেজে ভর্তি হই।’

কানাডার পড়াশোনা শেষ করে তিনি চলে যান অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায়। সেখানে একাডেমি অব ফাইন আর্টস, ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আর্ট অ্যান্ড স্কাল্পচার বিষয়ে পড়াশোনা করেন। পেশাগত জীবনের বাইরে শাহনাজ ইসলাম অনিন্দিতা একজন ফ্রিল্যান্স আর্টিস্ট। মূলত অ্যাক্রেলিক, তৈলচিত্র, ভাস্কর্য নিয়ে কাজ করতেই ভালোবাসেন।

এক প্রশ্নের জবাবে অনিন্দিতা শাহনাজ বলেন, ‘চাকরি আর চিত্রাঙ্কন আমার দুটি ভিন্ন সত্তা। একটি হচ্ছে পেশাদারিত্ব অপরটা শখ। আমার কাছে দুটোই গুরুত্বপূর্ণ।’ 

গত বছরের নভেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বব্যাংক কার্যালয়ে অনিন্দিতার ছবি নিয়ে একটি প্রদর্শনী হয়। একজন ইতালিয়ান শিল্পীসহ সেখানে আরো তিন শিল্পীর ছবিও প্রদর্শিত হয়। ভারতের বেনারসের বিখ্যাত চিত্রশিল্পী প্রনাম সিং অনিন্দিতার ছবি আঁকার প্রেরণা। প্রনাম সিং নিজেই অনিন্দিতার ছবি এঁকে তাকে সম্মানিত করেছেন বলে জানিয়েছেন লক্ষ্মীপুরের এই লক্ষ্মী মেয়ে। তার প্রেরণার আরেকজন টিমোথি ইভান্স। তিনি বিশ্বব্যাংকের ওয়াশিংটন কার্যালয়ের স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক। 

দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি প্রবল আগ্রহের কারণে দেশে থাকাকালীন পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক চর্চা শুরু করেন অনিন্দিতা। নিজেকে আরো ভালোভাবে তৈরি করতে ভর্তি হন নজরুল একাডেমিতে। এখনও নাচ-গানের চর্চা করেন তিনি। গানের প্রতি বিশেষ অনুরাগের কারণে জড়িয়ে পড়েন সঙ্গীতেও।

নিজে গান লেখার পাশাপাশি কণ্ঠ দিয়েছেন দুটি গানে। গত বছর প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী মিলন মাহমুদের কথা ও সুরে ‘অসময়’ ও ‘অচেনা শহর’ শিরোনামে দুটি মিউজিক ভিডিও বাংলাদেশি ও প্রবাসী বাংলা ভাষাভাষী দর্শকদের মধ্যে তুমুল সাড়া ফেলে। মিলন মাহমুদের ‘পরবাস’ অ্যালবামের ‘নিশি’ ও শিহাব রিপনের সুর করা ‘স্বপ্ন আছে বলে’ গান দুটিও লিখেছেন শাহনাজ ইসলাম অনিন্দিতা।

গানের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সঙ্গীতের প্রতি আমি তীব্র আত্মিক টান অনুভব করি। সব ধরনের সঙ্গীত ও সুর আমাকে খুব টানে। যখনই সুযোগ পাই বাংলাসহ বিভিন্ন দেশ ও ভাষার গান শুনি। গানের টানেই গান গাওয়ার ইচ্ছা ও দুঃসাহস তৈরি হয় আমার।’

‘ভালোবাসি কত যে তোমায়’ শিরোনামের আলোচিত গানটিতে অনিন্দিতার সাথে দ্বৈত কণ্ঠে গেয়েছেন গীতিকার-সুরকার মিলন মাহমুদ। এছাড়া ‘চোখের আলোয়’ শিরোনমে দুটি গানে দ্বৈতভাবে কণ্ঠ দিয়েছেন তারা। অনিন্দিতা এরই মধ্যে গিয়েছেন ভারত, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, ইতালিসহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে। কাছ থেকে দেখেছেন বিভিন্ন জাতির জীবনযাত্রা। এ অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নির্মাণ করেছেন আফ্রিকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষদের নিয়ে প্রামাণ্য চিত্র।

তিনি বলেন, ‘আমি দেশের বাইরে কোনো কাজ করে সফলতা অর্জন করলে খুবই অনন্দিত হই। কারণ তখন আমার ভেতরে একটা অনুভূতিই কাজ করে, সেটা হচ্ছে আমি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছি। এটা আমার জন্য সত্যিই অনেক গর্বের।’

নিউজজি/এসএফ/ এমকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers