শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ

ফারুক হোসেন শিহাব ৪ সেপ্টেম্বর , ২০১৯, ১২:২৫:৩৭

  • গানের পাখি সাবিনা ইয়াসমিনের জন্মদিন আজ

দেশাত্মবোধক গান থেকে শুরু করে প্রায় চারদশক ধরে বাংলা গানের বিভিন্ন ধারায় তার সরব বিচরণ। উচ্চাঙ্গ, ধ্রুপদ এবং লোকসঙ্গীত থেকে শুরু করে আধুনিক বাংলা গানসহ চলচ্চিত্রে মিশ্র আঙ্গিকের গানে মোয়াবি কণ্ঠকারুর জন্য সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন-এর খ্যাতি বিশ্বব্যাপী। উপমহাদেশের এক জীবন্ত কিংবদন্তি তিনি।

তার কণ্ঠে ঠাঁই পেয়ে কালজয়ী হয়েছে অসংখ্য গান। অডিও এবং চলচ্চিত্র, দুই ভুবনেই তার  গানের কদর আকাশছোঁয়া। তবে চলচ্চিত্রের প্লেব্যাকে সাবিনা ইয়াসমিন বিস্ময়কর এক সফল নাম। দেশাত্মবোধক গানেও সাবিনা ইয়াসমিনের জুড়ি নেই।

আজ ৪ সেপ্টেম্বর সঙ্গীতশিল্পী সাবিনা ইয়াসমিন-এর ৬৫তম জন্মদিন। ১৯৫৪ সালের এই দিনে তিনি সাতক্ষীরা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম লুৎফর রহমান ও মা বেগম মৌলুদা খাতুন। সাবিনা ইয়াসমিনরা ৫ বোনের মাঝে ৪ বোনই গান করেছেন। তারা হলেন- ফরিদা ইয়াসমিন, ফওজিয়া খান, নীলুফার ইয়াসমিন এবং সাবিনা ইয়াসমিন। দাম্পত্য জীবনে সাবিনা ইয়াসমিন এক কন্যা ফাইরুজ ইয়াসমিন ও এক পুত্র শ্রাবণের জননী। 

বড় বোন ফরিদা ইয়াসমিন যখন দুর্গাপ্রসাদ রায়ের কাছে তালিম নিতেন তখন ছোট্ট সাবিনাও উপস্থিত থাকতেন। পরবর্তীতে ওস্তাদ পি সি গোমেজের কাছে একটানা ১৩ বছর তালিম নিয়েছেন। মাত্র ৭ বছর বয়সে স্টেজ প্রোগ্রামে অংশ নেন। ছোটদের সংগঠন খেলাঘরের সদস্য হিসেবে রেডিও ও টেলিভিশনে গান গান নিয়মিত।

জন্মদিন প্রসঙ্গে সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ‘এ দিনটি এলেই আব্বা-আম্মা এবং আমার বোনদের খুব মিস করি। সবার ভালোবাসা ও অনুপ্রেরণার কথা মনে করে আমি সে কষ্ট ভুলে থাকার চেষ্টা করি। প্রতি বছরই জন্মদিনে দেশ-বিদেশ থেকে প্রচুর ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী শুভেচ্ছা জানান। এরই মধ্য দিয়ে সবাই আমার প্রতি তাদের ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটান। এই মায়ার বন্ধন আর অকৃত্রিম ভালোবাসা নিয়েই তো বেঁচে আছি। সকলের প্রতি আমার বিনম্র শ্রদ্ধা-ভালোবাসা। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।’

প্রয়াত বরেণ্য সুরকার-সঙ্গীত পরিচালক রবিন ঘোষের সঙ্গীত পরিচালনায় এহতেশাম পরিচালিত ‘নতুন সুর’ সিনেমাতে ১৯৬২ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম গান করেন। তবে ১৯৬৭ সালে আমজাদ হোসেন ও নূরুল হক বাচ্চু পরিচালিত ‘আগুন নিয়ে খেলা’ সিনেমাতে আলতাফ মাহমুদের সঙ্গীত পরিচালনায় ‘মধু জোছনা দীপালি’ গানটি গাওয়ার মধ্য দিয়ে প্লে-ব্যাক গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। 

১৯৭১ সালে নঈম গহরের লেখা ও আজাদ রহমানের সুরে সাবিনা ইয়াসমিনের গাওয়া ‘জন্ম আমার ধন্য হলো মাগো’ গানটি মুক্তিযোদ্ধাদের অসীম প্রেরণা জুগিয়েছিল। আলতাফ মাহমুদের সুর সঙ্গীতের দশটি গান নতুন করে সাবিনা ইয়াসমিন গেয়েছেন যা আগামী মাসে ইমপ্রেসের ব্যানারে বাজারে আসবে। এতে দুটি গানে সাবিনার সঙ্গে গেয়েছেন লিনু বিল্লাহ।

১৯৭৫ সালে ‘সুজন সখী’ সিনেমাতে গান গাওয়ার জন্য প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এরপর বিভিন্ন সময়ে আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’, ‘সুন্দরী’, ‘কসাই’, চাষী নজরুল ইসলামের ‘চন্দ্রনাথ’, মইনুল হোসেনের ‘প্রেমিক’, বুলবুল আহমেদের ‘রাজলক্ষ্মী শ্রীকান্ত’, আমজাদ হোসেনের ‘দুই জীবন’, কাজী হায়াতের ‘দাঙ্গা’, মতিন রহমানের ‘রাধা কৃষ্ণ’, মোহাম্মদ হোসেনের ‘আজ গায়ে হলুদ’ ও চাষী নজরুল ইসলামের ‘দেবদাস’ চলচ্চিত্রে প্লে-ব্যাক করার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

সাবিনা ইয়াসমিন চার দশকেরও বেশি সময় ধরে গানের ভূবনে বিচরণ করছেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র রুনা লায়লা ছাড়া তার সমকক্ষ হয়ে আর কেউ বোধ হয় এত লম্বা সময় ধরে আধিপত্য বজায় রেখে চলতে পারেননি। গত কয়েক দশকে তিনি সর্বমোট কত হাজার গান গেয়েছেন তার সঠিক হিসেব হয়তো সাবিনা নিজেও দিতে পারবেন না। তবে মরমী শিল্পী সেই আব্দুল আলীম থেকে শুরু করে একালের কোনো উঠতি গায়কের সাথেও অবিরাম গেয়ে চলেছেন একের পর এক গান। 

সুযোগ পেয়েছেন উপমহাদেশের বরেণ্য সুরকার আর. ডি. বর্মণের সুরে গান গাওয়ার, বিখ্যাত কিশোর কুমারের ও মান্না দের সাথেও ডুয়েট গান গাওয়ার। সাধারণত চলচ্চিত্রের গানেই তিনি বেশী কণ্ঠ দিয়েছেন। শুধুমাত্র চলচ্চিত্রে প্রায় ১২ হাজারের মতো গান করছেন তিনি। 

সঙ্গীতে অবদানের জন্য বরেণ্য এই সঙ্গীতশিল্পী বহু পুরস্কার-সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ১৯৮৪ সালে একুশে পদক, ১৯৯৬ সালে স্বাধীনতা পুরস্কারসহ সর্বোচ্চ ১৩ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৮৫ সালে গানের জন্য ভারত থেকে ‘ডক্টরেট’ও লাভ করেছেন। পাশাপাশি বাচসাস পুরস্কার মোট ৬টি, বিএফজেএ পুরস্কার মোট ১৯৯১ সালে। উত্তম কুমার পুরস্কার ১৯৯১ সালে, এইচ এম ভি ডাবল প্লাটিনাম ডিস্ক, ১৯৭৪ ও ১৯৭৫ সালে জহির রায়হান চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৭৫ সালে চলচ্চিত্র পূবাণী চলচ্চিত্র পুরস্কার, ১৯৯০ সালে শেরে বাংলা স্মৃতি পদক, ১৯৯২ সালে অ্যাস্ট্রোলজি পুরস্কার, ১৯৯২ সালে জিয়া স্মৃতি পদক এবং নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে পান ‘বেস্ট সিঙ্গার’ পুরস্কার। গান গাওয়ার জন্য সাবিনা ইয়াসমিন বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেছেন যেমন ইংল্যান্ড, সুইডেন, নরওয়ে, আমেরিকা, বাহরাইন, হংকং ইত্যাদি।

সবার প্রিয় কিংবদন্তি এই কণ্ঠশিল্পীর জন্মদিনে নিউজজি২৪ডটকম পরিবারের পক্ষ থেকে নিরন্তর শুভেচ্ছা ও শ্রদ্ধা।

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers