শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

প্রবাসে বাংলা সঙ্গীতকে সমাদৃত করতে নিবেদিতপ্রাণ রনি রয়

নিউজজি প্রতিবেদক ২৪ অক্টোবর , ২০১৯, ১৬:৪০:৩৫

  • প্রবাসে বাংলা সঙ্গীতকে সমাদৃত করতে নিবেদিতপ্রাণ রনি রয়

শৈশব থেকেই সঙ্গীতের প্রতি তার অমোঘ সখ্যতা গড়ে ওঠে পারিবারিক সূত্রে। ঠিক শাশ্বত বিদ্যাপাঠের মত হারমোনিয়ামের  নিত্য সুর ছোট্ট রনিকে মুগ্ধতায় ভাসাতো। একটা সময় সেই সুরই হয়ে ওঠে তার প্রাণ-প্রশান্তির প্রধানতম আরাধনা। যার বদৌলতে তিনি আজ সুরের আবেশ ছড়ানো একজন সঙ্গীতশিল্পী। 

বলছি, প্রবাসী সঙ্গীতজন রনি রয়-এর কথা। মা শ্রীমতি দ্বিপ্তীকণা দত্ত ছিলেন গেল পঞ্চাশের দশকের একজন পেশাদারী সঙ্গীতশিল্পী। নিয়মিত বেতারশিল্পী হিসেবে গান করতেন তিনি। তার সেই কণ্ঠবীণা প্রিয়সন্তান রনি রয়কে প্রবলভাবে ঋদ্ধ করে। যে প্রেরণায় দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি এখন বাংলা গানকে প্রবাসে সমাদৃত করতে নিবেদিতভাবে কাজ করছেন।

শুরুটা মায়ের কাছে হলেও রনি রয় সঙ্গীতের প্রথাগত তালিম শুরু করেন শ্রী সত্যেণ সাহার কাছে। ১৯৬৮ সালে সিলেট বেতারের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। পরে ওস্তাদ হুসেন আলী সাহেবের কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে নিয়মিত তালিম ও চর্চা শুরু করেন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে ৪ নং সেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় অংশ নেন তিনি।

১৯৭৪ সালে কানাডায় প্রবাস জীবন শুরু করার মধ্য দিয়ে ভ্যানকূভ্যর, মন্ট্রিয়ল ও টরন্টোতে দক্ষিণ-এশীয় সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সাথে গভীরভাবে সম্পৃক্ত হন। ১৯৭৬ সাল থেকে, খাঁ সাহেব-খ্যাত ওস্তাদ সেলিম রেজা সাহেবের কাছে টানা তিন/সাড়ে তিন বছর গজলের তালিম নেন। 

তখন থেকেই ক্যানাডা, আমেরিকাসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বাংলা গান ও গজলের একক সঙ্গীতানুষ্ঠান এবং বিভিন্ন সম্মেলন বা কনভেনশনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯৮৬-৮৭ সালে মন্ট্রিয়লে ফরাসী ভাষায় ভারতীয় উপমহাদেশের আধ্যাত্মিক দর্শনের ওপর নির্মিত দুটি প্রামাণ্য ছবিতে আবহ-সঙ্গীতসহ কণ্ঠ দান রনি রয়। তার কণ্ঠসঙ্গীতের জন্য মন্ট্রিয়ল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটি পুরস্কৃতও হয়েছিল। 

দীর্ঘ বারো বছর মন্ট্রিয়লে বসবাসকালীন কনকোর্ডিয়া ইউনিভার্সিটি দক্ষিণ-এশীয় ছাত্র সংগঠন আয়োজিত বাৎসরিক ‘মীর্জা গালিব এবং ফয়েজ আহমেদ’ গজল অনুষ্ঠানের নিয়মিত শিল্পী ছিলেন রনি রয়। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে নানা রঙের বাংলা গানের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছেন তিনি। 

১৯৯২ সাল থেকে তিনি টরন্টো শহরে বসবাস করছেন। এই দীর্ঘ সময়ে বহু সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততা ও ভূমিকা বাংলা গানকে কানাডিয়ানদের কাছে উজ্জ্বল করেছে। টরন্টো শহরে যাওয়া দেশীয় অনেক শিল্পীকে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার বিষয়ে তার অবদান অসামান্য। 

২০০০ সালের শুরুরদিকে টরন্টোতে ‘বেতার বাংলা’ নামক বেতার অনুষ্ঠান শুরু করার বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। ১৯৯৬ সালে রাগরঙ সঙ্গীত একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন রনি রয়। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বেশ কিছু সংখ্যক শিক্ষার্থী কণ্ঠশিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।

১৯৯৭ এবং ২০০১ সালে দু’বার ক্যানেডিয়েন সরকারের বৃত্তি লাভ করে ভারতে সঙ্গীতের ওপর পড়াশোনা করেছেন তিনি; তালিম নিয়েছেন সঙ্গীতগুরু স্বর্গীয় শ্রী শৈলেন্দ্রনাথ দে’র কাছে। সঙ্গীতে তিনি কোলকাতা থেকে M. Mus. স্নাতকোত্তর সর্বভারতীয় স্তরে ‘সঙ্গীতরত্ন’ উপাধি লাভ করেছেন। 

নিউজজি/এসএফ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers