শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

সৈয়দ শামসুল হকের গানগুলো

নিউজজি ডেস্ক ২৭ সেপ্টেম্বর , ২০২০, ০০:৩২:৩৭

  • সৈয়দ শামসুল হকের গানগুলো

বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী সৈয়দ শামসুল হক । গান, কবিতা, নাটক, উপন্যাস, ছোটগল্প, চিত্রনাট্যকার সব শাখায় ছিল তার সাবলীল পদচারণা। এ জন্য তাকে বলা হয়ে থাকে ‘সব্যসাচী লেখক’। সাহিত্যর আকাশে আলো জ্বালার আগেই তিনি কাজ শুরু করেছিলেন বাংলা চলচ্চিত্রে।   

সৈয়দ শামসুল হক ছিলেন একজন আপাদমস্তক চলচ্চিত্রের মানুষ, গানের মানুষ। তার হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র পেয়েছে নতুন ধারা। চিত্রনাট্য লেখার মধ্য দিয়ে তিনি এ জগতে পথ চলা শুরু করেন। ১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির জন্য প্রথম চিত্রনাট্য লিখেন। এরপর মাটির ময়না, ময়নামতি, বড় ভাল লোক ছিল, তোমার আমার ঠিকানা, নতুন দিগন্ত, ক খ গ ঘ ঙ, গেরিলার মতো বিখ্যাত এসব চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন সৈয়দ হক। পেয়েছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারও।  

চিত্রনাট্য লিখার পাশাপাশি তিনি লিখেছেন অসংখ্য জনপ্রিয় গান। যে গানগুলো এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। যদিও তার কখনো ইচ্ছে ছিল না গান লেখার। সময়ের প্রয়োজনে সিনেমার অর্থ বাঁচানোর জন্য হাত দেন গান লেখায়। সেই যে শুরু আর থামেননি। জীবনের শেষ সময়েও তিনি গান লিখে গেছেন।

* তুমি আসবে বলে কাছে ডাকবে বলে

সৈয়দ শামসুল হকের লেখা প্রথম গান এটি। ১৯৬১ সালে ফরাশগঞ্জে একটি বাড়ির চিলেকোঠায় মেসে থাকতেন সত্য সাহা। সেখানে একসঙ্গে বসেই গানটি সাজান তারা। ‘সুতরাং’ ছবির গানটি গেয়েছেন আঞ্জুমান আরা বেগম। শেষ মুখরাটুকু কাজী আনোয়ার হোসেনের গাওয়া। এ ছবির চিত্রনাট্য, সংলাপ এবং সব গান সৈয়দ হকের লেখা। ওই মেসে বসেই সব গান লিখেছিলেন তিনি এবং সবই শ্রোতাপ্রিয় হয়।

* নদী বাঁকা জানি

সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ ছবির এ গানটির মাধ্যমে প্রথম একসঙ্গে প্লেব্যাক করেন দুই ভাইবোন মুস্তাফা জামান আব্বাসী ও ফেরদৌসী রহমান। এর কথা এমন- ‘নদী বাঁকা জানি, চাঁদ বাঁকা জানি, তাহার চেয়ে আরও বাঁকা তোমার ছলনা’।

* এই যে আকাশ, এই যে বাতাস

‘সুতরাং’ ছবির এ গানটি দ্বৈতকণ্ঠে গেয়েছিলেন আব্দুল আলীম ও কাজী আনোয়ার হোসেন। এর কথা এমন- ‘এই যে আকাশ, এই যে বাতাস, বউ কথা কও সুরে যেন ভেসে যায়, বেলা বয়ে যায়, মধুমতি গাঁয় ওরে মন ছুটে চল চেনা ঠিকানায়’।

* এমন মজা হয় না, গায়ে সোনার গয়না

‘সুতরাং’ ছবিতে শিশুশিল্পী আলেয়া শরাফী গেয়েছিলেন ‘এমন মজা হয় না, গায়ে সোনার গয়না, বুবুমণির বিয়ে হবে বাজবে কত বাজনা’।

* যার ছায়া পড়েছে

সুভাষ দত্তের আরেক ছবি ‘আয়না ও অবশিষ্ট’র জন্য সৈয়দ হক লিখেছিলেন ‘যার ছায়া পড়েছে মনেরও আয়নাতে, সে কি তুমি নও, ওগো তুমি নও’। সত্য সাহার সুরে এটি গেয়েছিলেন ফেরদৌসী রহমান। এ প্রজন্মের কাছেও গানটি ভীষণ জনপ্রিয়।

* হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস

‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবির চিত্রনাট্য ও সংলাপের সঙ্গে সব গান লিখেছিলেন সৈয়দ হক। এর মধ্যে আলম খানের সুরে এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’ মানুষের শেষ গন্তব্য নিয়ে। সবশ্রেণীর শ্রোতার মুখে মুখে আজও ফেরে এটি।

* তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া

১৯৮২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবিতে সৈয়দ হকের এ গানটিও গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর। এর কথা এমন- ‘তোরা দেখ দেখ দেখরে চাহিয়া, রাস্তা দিয়া হাঁইটা চলে রাস্তা হারাইয়া’।

* আমি চক্ষু দিয়া দেখতাছিলাম

মোহাম্মদ মহিউদ্দিন পরিচালিত ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবিতে এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া ‘আমি চক্ষু দিয়া দেখতাছিলাম জগৎ রঙ্গিলা’ সৈয়দ হকের আরেকটি কালজয়ী গান। ছবিটিতে তার কথায় ‘চাম্বেলিরও তেল দিয়া কেশ বান্ধিয়া’ রুনা লায়লা ও বিপুল ভট্টাচার্য এবং ‘পাগল পাগল মানুষগুলো পাগল সারা দুনিয়া, কেহ পাগল রূপ দেখিয়া, কেহ পাগল শুনিয়া’ একক কণ্ঠে গেয়েছিলেন রুনা লায়লা।

* অনেক সাধের ময়না আমার

‘ময়নামতি’ ছবির গানটি গ্রিন রোডে পরিচালক কাজী জহিরের বাসায় বসে লিখেছিলেন সৈয়দ হক। বশীর আহমেদের সুর ও কণ্ঠে এর কথা এমন- ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়, মিছে তারে শিকল দিলাম রাঙা দুটি পায়’।

* কারে বলে ভালোবাসা

‘মান সম্মান’ ছবির জন্য সৈয়দ হকের লেখা এ গানটি আলম খানের সুরে গেয়েছেন এন্ড্রু কিশোর। এর কথা এমন- ‘কারে বলে ভালোবাসা কারে বলে প্রেম, মিলনে বিরহে আমি জানলেম, লোকে বলে ভালোবাসা আমি বলি ভাঙ্গাবাসা, তাকে হারালেম সবই হারালেম’।

* চাঁদের সাথে আমি দেবো না

‘আশীর্বাদ’ ছবির জন্য সৈয়দ হকের কথা ও আলম খানের সুরে রুনা লায়লা ও এন্ড্রু কিশোরের গাওয়া এটিকে ভাবা হয় দেশীয় চলচ্চিত্রের সেরা ১০টি প্রেমের গানের মধ্যে অন্যতম। এরপর বহু বছর আর কোনো গান লেখেননি সৈয়দ হক। তবে ২০১৬ সালে  ‘মাটির ঘরে চাঁদ নেমেছে’ শিরোনামের একটি গান লিখেছিলেন ‘বাসর হবে মাটির ঘরে’ ছবির জন্য। আলাউদ্দিন আলীর সুর-সংগীতে এতে কণ্ঠ দেন রুনা লায়লা ও সুবীর নন্দী।

সব্যসাচী লেখক ও কবি সৈয়দ শামসুল হক তার প্রয়াণের দুই দিন আগে হাসপাতালের কেবিনে গুণী কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরকে তার অপ্রকাশিত কিছু গানের দায়িত্ব দিয়ে যান। গানগুলো সুর করার জন্য আলম খানের কথা বলে যান। এরই মধ্যে সৈয়দ শামসুল হকের একটি গানের রেকর্ডিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে। গানটির শিরোনাম ‘অপ্রকাশিত সৈয়দ হক-১’। 

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers