শিল্প-সংস্কৃতি
  >
সঙ্গীত

বিখ্যাত টপ্পাশিল্পী কালীপদ পাঠকের মৃত্যুবাষির্কী আজ

নিউজজি ডেস্ক ১৫ নভেম্বর , ২০২০, ১৫:৪৮:৩২

  • বিখ্যাত টপ্পাশিল্পী কালীপদ পাঠকের মৃত্যুবাষির্কী আজ

হাওড়া জেলার তথা বাংলা শাস্ত্রীয় সংগীতের একজন বিশিষ্ট ব্যক্তি হলেন কালীপদ পাঠক । টপ্পা গায়ন রীতির শেষ প্রতিনিধি এবং নিধুবাবু ঘরানার শ্রেষ্ঠ শিল্পী কালীপদ পাঠক মহাশয় হাওড়া শহরের কদমতলা অঞ্চলে ( ৩, বদন রায় লেন ) দীর্ঘ দিন বাস করেছিলেন । শিবপুরের বিশিষ্ট টপ্পাগায়ক নিকুঞ্জ বিহারী দত্তের কাছে এই রীতি পদ্ধতি উত্তম রূপে শিক্ষা করেন । তার ছাত্র ও অনুরাগী ভক্তদের মধ্যে হাওড়া ইছাপুর নিবাসী শ্রী গোপাল চট্টোপাধ্যায় তার ঘনিষ্ঠ শিষ্য, এবং সৌভাগ্যের বিষয় এই বৃদ্ধ বয়সেও চট্টোপাধ্যায় মহাশয় এই লুপ্ত প্রায় সঙ্গীত শিল্পটিকে প্রাণপণে রক্ষা করছেন ।

আজ এই বিখ্যাত টপ্পাশিল্পী কালীপদ পাঠকের ৩৩তম মৃত্যুবাষির্কী

" শার্ঙ্গদেব " রাজেশ্বর মিত্রও তার শিষ্য । একালে অধ্যাপক শ্রীযুক্ত চণ্ডীদাস মাল গুরু কালীপদ পাঠকের পতাকা বহন করে চলেছেন । নবীন টপ্পা শিল্পী দিলীপ মুখোপাধ্যায়ও কিছুকাল পূর্বে হাওড়ায় বাস করতেন । সফল শিল্পী হিসেবে তিনিও সঙ্গীত জলসা , দূরদর্শন , বেতারে প্রায়ই অংশ গ্রহণ করে থাকেন । রামকুমার চট্টোপাধ্যায় এই রীতিটি জনপ্রিয় করার জন্য চেষ্টা করেন । আরও কিছু টপ্পাগায়ক আছেন যাঁরা প্রণয়সঙ্গীত ও পুরাতনী ভক্তি বিষয়ক গানে নিধুবাবু ঘরানার ধারা রক্ষা করে চলেছেন । কিন্তু একাল তো বাণিজ্যিক যুগ ( Commercial age ) , তাই এই বিশুদ্ধ সঙ্গীতশিল্প জনচিত্তরঞ্জনের জন্য কিছু নিম্নগ্রামে নেমে এসেছে যা অনিবার্য ।

এই প্রসঙ্গে টপ্পা সম্বন্ধে দু একটি তথ্য আলোচনা করা যায় । ভারতীয় সঙ্গীতশাস্ত্র প্রধানত দ্বিমুখী, একটি শাস্ত্রীয় সঙ্গীত অর্থাৎ ধ্রুপদ । আর একটি লৌকিক সঙ্গীত, অর্থাৎ খেয়াল , টপখেয়াল , ঠুংরি , টপ্পা । এগুলি ইসলামি প্রভাবে ভারতে বিশেষত উত্তরভারতে প্রাধান্য বিস্তার করে ।

অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে কলকাতা ও মফঃস্বলের ভূস্বামিসম্প্রদায়ের দ্বারা এই সমস্ত ধ্রুপদ খেয়াল এবং টপ্পা প্রচারিত হয় । টপ্পা ( হিন্দি ) শব্দের অর্থ - উল্লম্ফন , অর্থাৎ লাফিয়ে লাফিয়ে চলা , তার থেকে নতুন অর্থ এলো সংক্ষিপ্ত । কৃষ্ণধন বন্দোপাধ্যায় তার " গীতসূত্রসারে " বলেছেন , যে গান ধ্রুপদ খেয়ালের চেয়ে সংক্ষিপ্ত তাকেই বলা যাবে টপ্পা । একটু রক্ষণশীল কৃষ্ণধন মনে করতেন , টপ্পাগান মূলত হালকাচালের প্রণয় সঙ্গীত , তাই একে রঙিন ( রং অর্থাৎ আদিরস ) গান বলা হয়েছে । তার মতে , ব্রহ্ম সঙ্গীত বা ভক্তির গান টপ্পায় চলে না ।

তবে তার এ মন্তব্য পরে অনেকেই স্বীকার করেননি । তার আগে থেকেই " মালসী " ( মালবশ্রী ) অর্থাৎ শাক্ত ভক্তি সঙ্গীত অনেক সময়ে টপ্পার রীতিতে গাওয়া হত। রবীন্দ্রনাথ ব্রহ্মসঙ্গীত ও দেশাত্মবোধক গানে এই রীতির অল্পস্বল্প ব্যবহার করেছেন ।

টপ্পাগান কিন্তু প্রথমে ছিল লোকসঙ্গীত ।টপ্পা গানের ঘরানা হচ্ছে পাঞ্জাব ও রাজস্থানের । টপ্পা গানের গায়ন শৈলীর বৈশিষ্ট্যই হল তার " জমজমাতান "। পাঞ্জাব অঞ্চলের উষ্ট্রচালকেরা যে প্রণয়মূলক গান গাইত তাই টপ্পা নামে পরিচিত হয়েছে । ভারতীয় সঙ্গীতশাস্ত্রের ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে , পাঞ্জাবের কৃষিজীবী উষ্ট্রচালকেরা শীতকালে সারাদিন উট চরিয়ে যখন রাত্রিকালে ডেরায় ফিরত তখন কোন অদৃশ্য নায়িকার উদ্দেশ্যে তারস্বরে প্রণয়ের গান গাইত । কিন্তু অত্যন্ত শীতের জন্য তাদের গলা যাকে বলে " স্টেডি " , তা থাকতে পারত না , কেঁপে কেঁপে যেত । সেই ত্রুটিটিই পরবর্তী কালে টপ্পাগানের " প্রাণভোমরা " বলে পরিচিত হল । টপ্পাগানে গায়কের যে কম্পিত স্বর বিচিত্র গায়ন পদ্ধতি সৃষ্টি করেছে সেই tremulous অর্থাৎ স্বরকম্পন যখন ব্যক্তি চেতনার সঙ্গে জড়িত হয়, তখনই সৃষ্টি হয় টপ্পা পদ্ধতি । শাস্ত্রীয় গানের গবেষকরা বলেন যে উষ্ট্র পৃষ্ঠে মরুভূমি অতিক্রমের ক্লান্তিকর একঘেয়েমী অবস্হা দূর করাই হল টপ্পা গায়নশৈলীর মূল ভিত্তি ।

মহম্মদ শাহের রাজত্বকালে গোলাম নবী নামক এক পাঞ্জাবিগায়ক পাঞ্জাবিভাষায় প্রথম টপ্পারীতির প্রবর্তন করেন । তিনি তার প্রণয়িনী শোরির নাম গ্রহণ করে শোরিমিঞা নামে গান বাঁধেন । এই রীতি হিন্দি উর্দূ ভাষায় প্রচলিত হয় । শোরিমিঞার টপ্পা ১৭ শ শতাব্দীর পরে উত্তর ভারতে জনপ্রিয়তা অর্জন করে ।

বাংলাদেশের ( কলকাতা ) আখড়াই গানের ( মার্গরীতি ) এক বিখ্যাত নায়ক রামনিধি গুপ্ত ( সাধারণত ' নিধুবাবু ' নামে পরিচিত , ১৭৪১-১৮৩৯), ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির কর্মচারীরূপে বিহারের ছাপরা জেলায় কিছুকাল অবস্থান করেছিলেন , আগেই তিনি তার মাতুল কুলুইচন্দ্র সেনের কাছে কলকাতায় মার্গরীতির গান অভ্যাস করেছিলেন । ছাপরার এক মুসলমান ওস্তাদের কাছে টপ্পার তালিম নেন , কিন্তু সাগরেদকে অধিকতর প্রতিভাবান দেখে ওস্তাদজী হাত গুটিয়ে নিলেন , তখন নিধুবাবু কলকাতায় ফিরে বাংলায় টপ্পাগান রচনা করেন এবং এই শহরের অভিজাত তরুণসমাজে এই রীতির প্রবর্তন করেন।

তার ' গীতরত্ন ' নামক পুস্তিকায় অনেক গুলি গান সংকলিত হয়েছিল । অতিশয় জনপ্রিয়তার জন্য অক্ষম গায়কের অনেক নিকৃষ্ট গান নিধুবাবুর নামে চলে গেছে। তার গান প্রায় সবই প্রণয়মূলক , তাও দাম্পত্য প্রেমের নয় , তার উত্তপ্ত আবেগের নায়িকা সংসার সীমার বাইরে অবস্হান করতেন । এই প্রসঙ্গে স্মরণীয় নিধুবাবুর গানের ভাষা অনেক সময়েই দুর্বল ও কবিত্ব বর্জিত । বরং কালী মির্জা ও শ্রীধর কথকের গানের ভাষায় কিছু কিছু কবিত্বলক্ষণ আছে । তাঁকে নিয়ে পুরাতন কলকাতায় অনেক গালগল্প সৃষ্টি হয়েছিল । তার গানের গায়কী পদ্ধতি যে এক বিচিত্র 'ব্যক্তিক ( individual ) অনুভূতি থেকে জন্ম লাভ করছে , যাকে আধুনিক লীরিকের আদিপর্ব বলে গ্রহণ করা যায় , তার ভাঁজে ভাঁজে ব্যক্তি বাসনার রং , রূপ , রস ও উত্তাপ ভরা আছে । অবশ্য তার সমসাময়িক ও পরবর্তী টপ্পাগায়কেরা শুধু প্রণয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন নি , অনেকেই ভক্তিমার্গে এই রীতির সুষ্ঠু ব্যবহার করেছেন । কালী মির্জা , শ্রীধর কথক , ছাতুবাবু , শিবচন্দ্র সরকার , কাশীপ্রসাদ ঘোষ ( হিন্দু কলেজের বিখ্যাত ইংরেজি নবিস ছাত্র ) , কৃষ্ণনগরের মহারাজ কৃষ্ণচন্দ্রের পুত্ররা এই গানে আসক্ত ছিলেন ( শিবচন্দ্র , শম্ভুচন্দ্র ) , নাটোরের মহারাজা রামকৃষ্ণ , কুচবিহাররাজ হরেন্দ্র নারায়ণ , রংপুরের জমিদার রাজা মহিমারঞ্জন - অভিজাত সমাজের বিখ্যাত ব্যক্তিরা টপ্পাগান রচনা করেছিলেন । পরে কলকাতার সঙ্গীতসমাজে টপ্পাগানের বিশেষ প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। রামমোহন কালী মির্জার কাছে এই রীতি অভ্যাস করেছিলেন বলে শোনা যায় । ব্রাহ্মসমাজ বিশেষত রবীন্দ্রনাথ ভাঙা টপ্পারীতিকে ভক্তি ও স্বদেশী সঙ্গীতে ব্যবহার করেছেন ।

তবে এই গানের প্রবর্তক সোরী মিঞার গানে যে পাঞ্জাবি রুক্ষতা ও কাঠিণ্য দেখা দিত বাঙালী নিধুবাবুর গলায় বাংলার পলিমাটিতে তা বহুলাংশে নমনীয় ও রমণীয় হয়ে ওঠে । আবার নিধুবাবুর টপ্পার ধারাকে যাঁরা বাংলাতে আরও পরিশীলিত করে তুলতে অগ্রণী হয়েছিলেন আচার্য কালীপদ পাঠক তাঁদের মধ্যে সর্বাগ্রে স্মরণীয় । তিনি জীবনের বেশীর ভাগ সময়ই মধ্য হাওড়ায় অতিবাহিত করেছেন ।

হাওড়া জেলার বিখ্যাত টপ্পাশিল্পী কালীপদ পাঠক প্রথম জীবনে হাওড়ায় যাত্রার পালায় সুর দিতেন , নিজেও আসরে গাইতেন। কেউ কেউ বলেন, তারই মাধ্যমে বেতারে যাত্রাপালা প্রচারের বন্দোবস্ত হয়। তার কন্ঠস্বর ছিল ওজঃপ্রধান , অথচ সূক্ষ্ম মাধুর্যমণ্ডিত । নিধুবাবুর গানের ধারা কেমন ছিল জানা যায় না, শিষ্য পরমপরায় বোধ হয় এই রীতিটি নানা পরিবর্তন সহ একালেও এসে পৌঁছেছে , কালীপদ পাঠক যার শেষ প্রতিনিধি । পুরাতন বাংলা গান এবং শ্যামাসঙ্গীতে ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায় , জ্ঞানেন্দ্র প্রসাদ গোস্বামীর যুগেও কালীপদ পাঠক মহাশয় ওস্তাদ ও সঙ্গীতনায়করূপে স্বীকৃত হয়েছিলেন । রবীন্দ্রনাথ তার টপ্পাগান শুনে খুশি হয়েছিলেন ।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় বাংলা টপ্পার শেষ প্রতিনিধি কালীপদ পাঠকের সম্বন্ধে প্রকৃত তথ্য বিশেষ জানা যায় না । এখানে স্মরণীয়, ১৯৭৭ সালের "দেশ" বিনোদন সংখ্যায় কালীপদ পাঠক সম্বন্ধে ' রূপদর্শী ' একটি চমৎকার প্রবন্ধ ( তোমারই তুলনা তুমি ) লিখেছিলেন । তার জন্ম কবে হয়েছিল তা নিয়ে মতভেদ ঘটেছে । তার মৃত্যুর পর ১১ নভেম্বর ১৯৭০ সালের স্টেটসম্যান পত্রে যে শোকসংবাদ মুদ্রিত হয়েছিল , তাতে বলা হয়েছে ১৮৯০ সালে হুগলী জেলার অন্তর্গত রাজহাটি গ্রামে তার জন্ম হয় । আবার তাঁদের পরিবারের মতে , এই তারিখ ১৮৯১ সালের ১৯ মার্চ ।

তাদের পরিবারে গানবাজনার বিশেষ চর্চা ছিল না, কিন্তু বাল্যকালেই তিনি গানের দিকে আকৃষ্ট হন । তার প্রথম আবির্ভাব যাত্রা গানে । গোবিন্দ চন্দ্র নাগের কাছে তিনি প্রথাবদ্ধভাবে সঙ্গীত শিক্ষা করেন । পরবর্তীকালে বিষ্ণুপুর ঘরানার বিখ্যাত সঙ্গীতসাধক রাম প্রসন্ন বন্দোপাধ্যায়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন । এই দুজন সঙ্গীতশিল্পী তাঁকে ধ্রুপদ শিক্ষা দান করেছিলেন ।

কালীপদ পাঠক তখন ২৫ বছরের যুবক , তখন উত্তর ভারতের বিখ্যাত টপ্পাগায়ক ওস্তাদ রমজান খাঁয়ের কাছে শোরিমিঞার টপ্পারীতি শিক্ষা করেন । অবশ্য তিনি নিধুবাবুর বাংলা টপ্পাগানেই বিশেষ কৃতিত্ব অর্জন করেছিলেন । তিনি হাওড়া শিবপুরের দুজন বিখ্যাত টপ্পাশিল্পী নিকুঞ্জ বিহারী দত্ত এবং ফণিশঙ্কর মুখোপাধ্যায়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন এবং পরিণত বয়সে তিনি টপ্পা , টপখেয়াল ও পুরাতনী গান অর্থাৎ শ্যামাসঙ্গীতে অসাধারণ নৈপুণ্য দেখিয়েছিলেন । ক্রমে নিধুবাবুর টপ্পায় তার পারদর্শীতা উত্তর ভারতীয় সঙ্গীত মহলেও ছড়িয়ে পড়ল । একালে যে বাংলা টপ্পার কিছু গৌরব বজায় আছে তার মূল কারণ তার অতন্দ্র সাধনা । নিধুবাবুর বেশ কিছু টপ্পা তিনি গ্রামোফোন রেকর্ডে ধরে রেখেছিলেন , এখন সেসব ক্রমেই লুপ্ত হয়ে যাচ্ছে । এই টপ্পাগুলি ( নিধুবাবুর নামে চলে ) তার কন্ঠে অপূর্ব সঙ্গীত কলাকৃতি সৃষ্টি করত।" ভালোবাসিবে বলে ভালোবাসিনে , মনোহর নয়ন তোমার , কি করে কলঙ্ক যদি , যে যাতনা যাতনায় " ইত্যাদি । তার প্রায় ৩৩ টি গান পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গীত নাটক একাডেমি এখনও রক্ষা করছেন ।

পাঠকজীর প্রথম টপ্পা গানের রেকর্ড প্রকাশিত হয় ১৯৩১ সালের জুলাই মাসে গ্রামোফোন কোম্পানির উদ্যোগে । গান দুটির এক পিঠে ছিল - আমার প্রেম রাখা দায় হল ( গারা টপ্পা ) - আর উল্টো পিঠে ছিল - আমারে কাঁদায়ে যাবে যদি যাও ( সিন্ধুরা ) । সঙ্গীতপ্রিয় টপ্পা বিলাসীদের মুখে ঐ সুর আজও হয়তো গুঞ্জিত হতে শোনা যাবে । অভিজ্ঞদের অভিমত - পাঠক মহাশয়ের উদাত্ত সুমধুর কন্ঠস্বর ও স্পষ্ট উচ্চারণের অপরূপ গায়কী ভঙ্গীটি এক কথায় ছিল অসাধারণ ।

তদানীন্তন কালে গ্রামোফোন কোম্পানি যে প্রচার পুস্তিকাটি প্রকাশ করেছিলেন তাতে লেখা ছিল - " হাওড়ার প্রসিদ্ধ গায়ক কালীবাবুর টপ্পা গান দুখানি আমরা প্রকাশ করিতেছি । আমাদের সঙ্গীতের ভিতর টপ্পা বড়ই মধুর জিনিস এবং তা দু একজন ব্যতীত আর কাহারও কাছে বড় শোনা যায় না । কালীবাবু এই টপ্পায় বিশেষ পারদর্শী । এই রেকর্ডখানি শুনিলে বেশ বোঝা যায় ।

এরপর ১৯৩৫ এ সেনোলা রেকর্ড কোম্পানি পাঠক মশাইকে দিয়ে দুটি নিধুবাবুর টপ্পা রেকর্ড প্রকাশ করেন । তাদের প্রকাশিত পুস্তিকায় যে কথাগুলি বিস্তারিত ভাবে লেখা হয়েছিল সেটাও তুলে দেওয়া হল কালীবাবুর অনন্য সাধারণ গায়কীকে বোঝাবার জন্য । যেমন - " বর্তমান কালে বাংলা দেশে পাঠক মহাশয়ের তুল্য টপ্পা গায়ক খুঁজে পাওয়া সত্যই দুরূহ । টপ্পা গানের মধ্যে মন কেড়ে নেবার যে কি আবেদন থাকতে পারে , পাঠক মহাশয়ের গান না শুনলে বোঝা যায় না । অনেক সময় দেখা যায় যে আসরে বড় বড় গায়কদের গান যেমন লাগে , রেকর্ডে ঠিক তেমনটি হয় না । তার কারণ রেকর্ড প্রযোজনার একটা বিশেষ কায়দা আছে । পাঠক মহাশয়ের স্পষ্ট , সুমধুর এবং উদাত্ত কন্ঠস্বর ও গাইবার অপরূপ ভঙ্গী পর্যন্ত সেনোলার এই রেকর্ডে হুবহু উঠেছে । আমরা নিঃসন্দেহে বলতে পারি , বহু সান্ধ্য আসরে , বহু নিভৃত অবসর বিনোদনের সময় এই রেকর্ডখানি সুরের অমৃত রসের পাত্রে আনন্দের সুধা এনে দেবে । "

তিনি কিছুকাল বিশ্বভারতীর সঙ্গীত বিভাগের পরিদর্শক অধ্যাপক ( visiting professor )এবং রবীন্দ্রভারতীর সঙ্গীত বিভাগের পরীক্ষক ছিলেন । ১৯২৭ সালে কলকাতায় রেডিও প্রচারের প্রথম দিনে তিনি সঙ্গীতে অংশ গ্রহণ করেছিলেন । " পাঁচালী ভারতী " - র তিনিও অন্যতম প্রধান শিল্পী ছিলেন । কলকাতায় নাগরিক সমাজে এই রীতির পুনঃপ্রবর্তনে তার বিশেষ ভূমিকা ছিল । তবলা ও পাখোয়াজেও তিনি সিদ্ধহস্ত ছিলেন । তার চারদিকে কয়েকজন তরুণ শিল্পী সমবেত হয়েছিলেন - রামকুমার চট্টোপাধ্যায় ( কলকাতা ) গোপাল চট্টোপাধ্যায় ( কদমতলা ) , চণ্ডীদাস মাল ( বালি ), দিলীপ মুখোপাধ্যায় ইত্যাদি । তাঁরাই গুরুর আদর্শ কথঞ্চিৎ রক্ষা করছেন ।

‌হাওড়া জেলার কথা আজ সংগীত শিল্পটিকে শ্রদ্ধা জানায় । এই মহান কলাকার যাতে আগামী প্রজন্মের কাছে বিস্মৃত না হয়ে যান । গান বাজনার চর্চা আজও হয় - তবে নবাগতদের জেনে রাখা ভালো যে তাদের পূর্বসূরীরাও ছিলেন এক একজন সঙ্গীত জগতের দিকপাল ।

নিউজজি/ এস দত্ত

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers