অর্থ ও বাণিজ্য

সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজের সাবেক তিন পরিচালকের বিরুদ্ধে মামলা

নিউজজি প্রতিবেদক ১৯ মে , ২০২২, ১৯:১৫:৪৩

  • ছবি: সংগৃহীত

ঢাকা: শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ করা অর্থ প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের আগের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

কোম্পানিটির বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসানের করা মামলায় আসামি করা হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক পরিচালক জাহিদুল হক (৬০), মো. আনিছ আহমেদ (৫৪) এবং সাইয়েদা সাইমা আকতারকে (৫২)।

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০ মে পেনাল কোডের ৪২০/৪০৬/১০৯ ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়। সিআর মামলা নং ১২৮২/২২।

মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে কোম্পানির আইপিও এবং ব্যাংক ঋণের প্রায় ১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালত পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন—পিবিআইকে মামলাটি তদন্ত করে আগামী ২০ জুন প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের এপ্রিল মাসের ১২ তারিখে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রাইভেট) লিমিটেড নাম পরিবর্তন করে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত হয়।

কোম্পানিটি ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) থেকে আইপিও অনুমোদন পাওয়ার পর শেয়ারবাজার থেকে ১৪ কোটি টাকা এবং আইপিও ফান্ডের ব্যাংক সুদ হিসেবে ৩ কোটি ৫৬ লাখ ৫৭ হাজার ২৬ টাকা প্রাপ্ত হয়।

২০১৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) অন্তর্ভুক্ত হলে প্রায় সাড়ে চার হাজার শেয়ারহোল্ডার এই কোম্পানিটির শেয়ার ক্রয় করে।

জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৮ জুন কোম্পানিটি বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পাবলিকলি লিস্টেড কোম্পানিজ থেকে সদস্যপদ গ্রহণ করে। ২০১১ সালের ২৪ ডিসেম্বর থেকে ২০১৭ সালের ৩০ জুলাই পর্যন্ত কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক জাহিদুল হক, চেয়ারম্যান মো. আনিছ আহমেদ এবং পরিচালক হিসেবে সাইয়েদা সাইমা আকতারের যৌথ স্বাক্ষরে কোম্পানির সকল ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হতো।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, পর্ষদে এই তিনজন দায়িত্ব পালনকালে কোম্পানির ২০১৬ থেকে ২০১৭ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উল্লেখিত ২০১৭ সালের ৩০ জুন নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় পাবলিক অর্থ ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৬০৩ টাকার মিথ্যা অ্যাকাউন্টিং হেড (সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট এবং ক্যাপিটাল ওয়ার্কিং প্রগ্রেস) তৈরি করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

কোম্পানিটির বিনিয়োগকারী সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক, চেয়ারম্যান এবং পরিচালকের যোগসাজশে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমতি ছাড়া বন্ধকী ঋণ আবেদন করলে এনআরবি ব্যাংক ২০১৫ সালের ১২ জুলাই কোম্পানির মালিকানাধীন ৩৩ শতাংশ জমি, নির্মিত বিল্ডিং ও সকল মেশিনারীজ পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসাবে মূল্যায়ন করে সে বছর ১৫ নভেম্বর ১২ কোটি টাকার ঋণ মঞ্জুরিপত্র প্রদান করেন।

জাহিদুল হক, মো. আনিছ আহমেদ এবং সাইয়েদা সাইমা আকতার কোম্পানির মালিকাধীন ৩৩ শতাংশ সম্পত্তির দলিল প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি থেকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির নাম পরিবর্তন বা সংশোধন না করে এজিএম/ইজিএম করে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমতি না নিয়ে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সম্পত্তি জানা সত্ত্বেও সে বছরের ডিসেম্বরের ২৮ তারিখে সাব রেজিস্ট্রার ২য় যুগ্ম গাজীপুর জেলায় মর্টগেজ দলিল নং-১০১৯০ তারিখ ২৮/১২/২০১৫ ইং রেজিস্ট্রি দলিল সম্পাদন করেন।

আরো জানা যায়, বন্ধকী দলিল রেজিষ্ট্রি হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে এনআরবি ব্যাংক থেকে প্রায় ৯ কোটি টাকা উত্তোলন করে তারা আত্মসাৎ করেন। মামলায় উল্লেখিত আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে এবং সহযোগিতায় পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির সম্পত্তি আত্মসাৎ করার সহযোগিতা এবং সম্পত্তি বন্ধকী ঋণ ও আইপিও করার পাবলিক অর্থ টাকা ১৯ কোটি প্রায় আত্মসাৎ করেন বলেও মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বিষয়ে সুহৃদ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বর্তমান চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মাহমুদুল হাসান বলেন, ২০১৭ সালের ৩০ জুন নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় পাবলিক অর্থ ১৪ কোটি ১৪ লাখ ১৩ হাজার ৬০৩ টাকার মিথ্যা অ্যাকাউন্টিং হেড (সাসপেন্স অ্যাকাউন্ট এবং ক্যাপিটাল ওয়ার্কিং প্রগ্রেস) তৈরি করে ওই টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

নিউজজি/শানু

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ