অর্থ ও বাণিজ্য

কমেছে মুরগির দাম, বেড়েছে পেঁয়াজের ঝাঁজ

নিউজজি প্রতিবেদক ২৪ জুন , ২০২২, ১২:২০:০১

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম কিছুটা কমেছে। তবে পেঁয়াজ ও আলুর দাম বেড়েছে। এক লাফে পেঁয়াজের দাম কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা পর্যন্ত। আলুর দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা।  

শুক্রবার (২৪ জুন) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা পেঁয়াজের কেজি বিক্রি করছেন ৫০ থেকে ৫৫ টাকা। এক সপ্তাহ আগে পেঁয়াজের কেজি ছিল ৩৫ থেকে ৪০ টাকা।

পেঁয়াজের এমন দাম বাড়ার বিষয়ে কারওয়ানবাজারের ব্যবসায়ী মো. হাবিবুর রহমান বলেন, দেশি পেঁয়াজের বড় অংশ মজুতে চলে গেছে। আবার বন্যার কারণে কিছু পেঁয়াজ নষ্ট হয়েছে। সবকিছু মিলিয়ে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। এ কারণেই দাম বেড়েছে।

খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলাম বলেন, কিছুদিন আগে আমরা পেঁয়াজের কেজি ৩৫-৪০ টাকা বিক্রি করেছি। বৃহস্পতিবার আড়ত থেকে পেঁয়াজ কেনা পড়েছে ৫০ টাকা কেজি। এই পেঁয়াজ ৫৫ টাকায় বিক্রি করে খুব একটা লাভ হয় না।

তিনি বলেন, আড়তে যেহারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে, তাতে সামনে খুচরায় দাম আরও বাড়তে পারে। বন্যার অজুহাতে এখন পেঁয়াজের দাম বাড়ানো হচ্ছে। দ্রুত বাজারে মনিটরিং জোরদার না করলে পেঁয়াজের বাজারে আবার অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে।

পেঁয়াজের মতো দাম বেড়েছে আলুর। ব্যবসায়ীরা আলুর কেজি বিক্রি করছেন ৩০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে যা ছিল ২৫ টাকা। আর মাসখানেক আগে ছিল ২০ টাকা।

আলুর দামের বিষয়ে মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, আড়তে আলুর দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এক মাসের মধ্যে কেজিতে আলুর দাম বেড়েছে ১০ টাকা। নতুন আলু না আসা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বরং সামনে দাম আরও বাড়তে পারে।

এদিকে, মুরগির বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি করছেন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হয় ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। অর্থাৎ সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ১০ টাকা কমেছে। ব্রয়লার মুরগির দাম কমলেও সোনালি মুরগির কেজি গত সপ্তাহের মতো ২৫০ থেকে ২৮০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মুরগির দামের বিষয়ে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী মো. আরিফ বলেন, গত সপ্তাহে সোনালি মুরগির দাম কমেছিল। এ সপ্তাহের ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে। বাজারে মুরগির সরবরাহ বাড়লেও বিক্রি কমেছে, আমাদের ধারণা এ কারণেই মুরগির দাম কমতির দিকে। সামনে মুরগির দাম আরও একটু কমতে পারে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীরা গত সপ্তাহের মতো সব থেকে বেশি দামে বিক্রি করছেন গাজর। এক কেজি গাজর বিক্রি হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এই সবজির দামে পরিবর্তন আসেনি। তবে গত সপ্তাহে ৪০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া শসার দাম বেড়ে এখন ৬০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

প্রতি কেজি পাকা টমেটো বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিটির দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। টমেটোর মতো অপরিবর্তিত রয়েছে বরবটি ও বেগুনের দাম। বরবটির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। করলাও গত সপ্তাহের মতো ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

এছাড়া, কাঁচা পেঁপের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, পটল, ঢেঁড়স, ঝিঙে, চিচিঙ্গার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকা। কচুর লতি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এ সবজিগুলোর দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

সবজির দামের বিষয়ে কাওরান বাজারের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন বলেন, সপ্তাহের ব্যবধানে সবজির দামে তেমন পরিবর্তন আসেনি। তবে আমাদের ধারণা কয়েকদিনের মধ্যে সবজির দাম একটু বাড়তে পারে। কারণ বন্যায় সবজি ক্ষেতের ক্ষতি হয়েছে। শিগগির এর একটা প্রভাব বাজারে পড়বে।

মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রুই মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। তেলাপিয়া, পাঙাস মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা। শিং মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৬০ টাকা। শোল মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা। কৈ মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২৩০ টাকা। পাবদা মাছের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা। সপ্তাহের ব্যবধানে এসব মাছের দামে পরিবর্তন আসেনি।

অন্যদিকে, রাজধানীর মিরপুরের ১১ নম্বর বাজার, মিরপুর কালশী বাজার ও পল্লবী এলাকার বাজারে দাম বেড়েছে পেঁয়াজ ও সবজির। এছাড়া, অপরিবর্তিত রয়েছে অন্যান্য পণ্যের দাম।

বাজারে বেড়েছে সবজির দাম। এসব বাজারে শসা প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। লম্বা বেগুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা। টমেটো বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা, করলা ৭০, চাল কুমড়া পিস ৪০, প্রতি পিস লাউ আকারভেদে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, মিষ্টি কুমড়ার কেজি ৪০, চিচিঙ্গা ৫০, পটল ৫০, ঢেঁড়স ৫০, কচুর লতি ৬০, পেঁপের কেজি ৫০, বটবটির কেজি ‌৬০, ধুনধুলের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা।

১১ নম্বর বাজারের সবজি বিক্রেতা মো. আল-আমিন বলেন, বাজারে সবজির সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বৃষ্টির কারণে সবজির সরবরাহ কম। সরবরাহ বাড়লে দাম কমবে।

এসব বাজারে কাঁচামরিচ প্রতিকেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা। কাঁচা কলার হালি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। লেবুর হালি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ২০ টাকা। শুকনা মরিচের কেজি ৪০০ টাকা।

বাজারে আলুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। কেজি বিক্রি হচ্ছে ৪৫ টাকা। আর একটু ভালো মানের পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। বাজারে রসুনের দাম কমেছে।  এসব বাজারে রসুনের কেজি ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। বাজারে চায়না রসুন বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।

১১ নম্বর বাজারের পেঁয়াজ-রসুন বিক্রেতা মো. কবির বলেন, বৃষ্টির কারণে বাজারে পেঁয়াজের সরবরাহ কম। এ কারণে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে।

বাজারে প্রতি কেজি চিনি বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকায়। এছাড়া প্যাকেট চিনির কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়। এসব বাজারে দেশি মশুরের ডালের কেজি ১৩০ থেকে ১৪০ টাকা। ইন্ডিয়ান মুশুরের ডাল বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। প্যাকেট আটার কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা। খোলা আটার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ টাকা। বাজারে ভোজ্য তেলের লিটার ২০৫ টাকা। লাল ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১২০ টাকা। হাঁসের ডিমের ডজন ১৬০ ও দেশি মুরগির ডিমের ডজন ১৯০ টাকা।

বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭০০ টাকা। খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৯০০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা। সোনালি মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা। লেয়ার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকায়।

১১ নম্বর বাজারের মুরগি বিক্রেতা রুবেল বলেন, মুরগির দাম বাড়েনি। আগামী সপ্তাহে বাজারে মুরগির দাম বাড়ার সম্ভাবনা আছে।

নিউজজি/জেডকে

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ