শিক্ষা

রাবিতে গভীর রাতে আবাসিক শিক্ষার্থীকে মেরে বের করে দিল ছাত্রলীগ

রাবি প্রতিনিধি ২৪ জুন , ২০২২, ১৫:৪২:০৭

  • ছবি: নিউজজি

রাবি: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) নবাব আবদুল লতিফ হলের কক্ষ থেকে এক আবাসিক শিক্ষার্থীকে গভীর রাতে বের করে দিয়েছে ছাত্রলীগ। ওই কক্ষে ছাত্রলীগের পছন্দের একজনকে তুলে দেয়া হয়েছে। এ সময় ভুক্তভোগীকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত ২টার দিকে হলের ২৪৮ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম, মো. মুন্না ইসলাম। তিনি ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের রসায়ন বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি ওই হলের ২৪৮ নম্বর কক্ষে থাকতেন। তার আবাসিক কার্ডও আছে।

এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থী শুক্রবার (২৪ জুন) সকালে ‘রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার’ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে স্ট্যাটাস দেন। তিনি সেখানে লিখেছেন, গত পাঁচ মাস ধরে নবাব আবদুল লতিফ হলে অবস্থান করছেন তিনি। এই হলের ২৪৮ নম্বর কক্ষের একজন আবাসিক ছাত্র তিনি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দিবাগত রাত দুইটার দিকে হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেনের কয়েকজন অনুসারী ওই কক্ষে গিয়ে তাকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। নিজের আবাসিক কার্ড দেখিয়ে তিনি বের হতে অপারগতা দেখালে তার বিছানাসহ অন্যান্য জিনিস ফেলে দেন ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা। এরপর তাকে গালিগালাজ ও মারধর করা হয়।

ভুক্তভোগী মুন্না বলেন, তার বাবা প্রতিবন্ধী, মা বেঁচে নেই। হল প্রাধ্যক্ষের মাধ্যমে সব প্রক্রিয়া মেনে তিনি হলে ওঠেন। বৃহস্পতিবার  (২৩ জুন) রাতে তাকে নিজের কক্ষ থেকে বের করে দেয়ার পর বিষয়টি তিনি হলের প্রাধ্যক্ষকে মুঠোফোনে জানান। প্রাধ্যক্ষ তাকে সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলেন। এভাবে কক্ষে ঢুকে জোরপূর্বক বের করে দেয়ার ঘটনায় তিনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেবেন বলে জানান।

ঘটনার সময়ের কিছু অডিওতে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের বলতে শোনা গেছে, এই তুই হল থেকে বের হ। বের হবি না? এই বেড বের করে দে। তোর অ্যালোট কোন রুমে। কে তোকে অ্যালোট দিছে? এর জবাবে মুন্নাকে বলতে শোনা গেছে, তার এই কক্ষের কার্ড আছে। তিনি আবাসিক শিক্ষার্থী।

এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম হোসেন বলেন, ওই কক্ষে মূলত আরেকজন আবাসিক শিক্ষার্থীর সঙ্গে আসন ভাগাভাগি করে থাকার জন্য বলা হয়েছিল মুন্নাকে। কারণ, তাদের ওই ছেলেটিকেও মানবিক কারণে হলে সিট দিয়েছেন প্রাধ্যক্ষ। তার বিছানাপত্র ফেলে দেয়ার কথা নয়। এমনকি মারধর করার অভিযোগও ভিত্তিহীন। রাত দুইটার দিকে ছাত্রলীগ সেখানে গেল কেন? এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, রাত দুইটা হবে না। আরও আগে। আর তারা তাকে (মুন্না ইসলাম) বের করে দেননি। তিনি নিজে ওখানে যাননি। তাদের নেতা-কর্মীরা গিয়েছিলেন।

নবাব আবদুল লতিফ হলের প্রাধ্যক্ষ এ এইচ এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ঘটনাটি তিনি রাতেই শুনেছেন। এটি যদি সত্যি হয়ে থাকে, তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাদের হল থেকেও বহিষ্কার করা হবে। মুন্না ইসলাম ওই কক্ষের শিক্ষার্থী। তিনি ওই কক্ষেই থাকবেন।

এর আগে মঙ্গলবার (১৪ জুন) রাতে একই হলের ২০৪ নম্বর কক্ষের শিক্ষার্থী সজীব কুমারের বিছানাপত্র বের করে দেন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেনের অনুসারীরা। সে ঘটনার ১০ দিনের মাথায় আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটল।

রাবি ছাত্রলীগের সিট-বাণিজ্য, দখল, আবাসিক শিক্ষার্থীদের বের করে দেয়া, হলের ফটকে তালা দেয়ার ঘটনা বাড়লেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি। চলমান পরিস্থিতিতে নিয়ে সোমবার (১৩ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকেরা মানববন্ধনও করেছিলেন। এরপর প্রাধ্যক্ষ পরিষদ একবার জরুরি সভা করলেও কোনো অভিযুক্তের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ব্যবস্থা নিতে পারেনি।

নিউজজি/এইচএম/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ