বিনোদন

ফকির আলমগীরের শেষ বিদায়ে পাশে নেই সহকর্মীরা

নিউজজি প্রতিবেদক  জুলাই ২৪, ২০২১, ১৫:৪৬:৪২

  • ফকির আলমগীরের শেষ বিদায়ে পাশে নেই সহকর্মীরা। ছবি: ইন্টারনেট

নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ফকির আলমগীর। সাধারণ মানুষের হৃদয়ের কথাই তার গানে ফোটে উঠে। জীবনের শুরু থেকেই মানুষের মুক্তির গান, জীবনের গান, প্রাণের গান গেয়ে গণমানুষের সাথে মিশে আপন মনে গান করেন দেশবরেণ্য এই শিল্পী। 

শুক্রবার (২৩ জুলাই) রাত ১০টা ৫৬ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গুণী এই সংগীতশিল্পী। তার মৃত্যর মধ্যে দিয়ে থেমে গেল বাংলাদেশের গণসংগীতের পুরোধা ব্যক্তিত্ব ফকির আলমগীরের দরদভরা কণ্ঠ। দরাজ গলায় আর গাইবেন না তিনি।

শনিবার বেলা ১১টায় পল্লীমা সংসদে ফকির আলমগীরের প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয়। এ সময় তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। এরপর নিয়ে যাওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

ঝিরঝির বৃষ্টির মধ্যে জাতীয় পতাকা গায়ে জড়িয়ে শহীদ মিনারে আসে নিথর ফকির আলমগীর। গাড়ি থেকে বেদিতে আসার আর পথে ভিজলেন তিনিও। ভিজলো তার জন্য আগত শতাধিক বন্ধু-স্বজন-ভক্ত-মিডিয়া ও রাজনৈতিক নেতা-কর্মী। বিস্ময়, এতো এতো মুখের ভিড়ে উল্লেখ কিংবা অনুল্লেখযোগ্য কোনও সংগীতশিল্পীকে চোখে পড়েনি! সংগীতের কেউ আসেনি এদিন!

শেষ বিদায় জানাতে এসেছেন রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অনেকেই। এরমধ্যে রয়েছেন গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, নৌ প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের উপ-দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ড. মো. আখতারুজ্জামান, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সদস্যরাসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সদস্যরা।

সরাসরি না এলেও গভীর শোক ও ফুলেল শ্রদ্ধার্ঘ্য পাঠিয়েছেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীসহ অনেক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান। শেষ বিদায়ে শুধু দেখা যায়নি সংগীতাঙ্গনের তেমন কোনও ব্যক্তিকে! তবে এ নিয়ে তার পরিবারের আক্ষেপ কিংবা ক্ষোপ নেই। বরং তিনি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন বৃষ্টিতে ভিজে যারা এসেছেন।

স্বাধীনতার পর পাশ্চাত্য সংগীতের সঙ্গে দেশজ সুরের মেলবন্ধন ঘটিয়ে বাংলা পপ গানের বিকাশে ভূমিকা রাখেন ৭১ বছর বয়সী এ শিল্পী। সংগীতে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য সরকার ১৯৯৯ সালে ফকির আলমগীরকে একুশে পদক দেয়।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তার কণ্ঠে বেশ কয়েকটি গান দারুণ জনপ্রিয়তা পায়। এর মধ্যে ‘ও সখিনা’ গানটি এখনো মানুষের মুখে মুখে ফেরে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর করা ফকির আলমগীর গানের পাশাপাশি নিয়মিত লেখালেখিও করেন।

‘মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও বিজয়ের গান’, ‘গণসংগীতের অতীত ও বর্তমান’, ‘আমার কথা’, ‘যারা আছেন হৃদয় পটে’-সহ বেশ কয়েকটি বই প্রকাশ হয়েছে তার।

নিউজজি/রুআ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers