বিনোদন

‘প্রতি মুহূর্তে বাবাকে স্মরণে রাখি’

রুহুল আমিন ভূঁইয়া  জুলাই ২৬, ২০২১, ২০:১৭:২৯

  • তারিন জাহান। ছবি: ফেসবুক

তারিন জাহান। এক নন্দিত অভিনেত্রীর নাম। রূপে, গুণে আর অভিনয়ে কয়েক দশক ধরেই মাতিয়ে রেখেছেন তিনি। পরিপাটি গল্পের নাটকে তার নিখুঁত অভিনয়ে দর্শক মুগ্ধ হন বরাবরই। নাটকের গল্পে বরাবরই প্রাণবন্ত তারিন জাহান। শৈল্পিক গুণ আর অভিনয় দক্ষতায় এখনও রয়েছেন তিনি জনপ্রিয়তায়।

অভিনেত্রী তারিনের সাফল্যের গল্প অনেক বড়। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে হয়েছেন প্রশংসিত। বহু গুণের অধিকারিণী তারিন গায়িকা হিসেবেও নিজের দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। উপস্থাপিকা হিসেবেও তারিন মুগ্ধ করেছেন দর্শকদের। আজ (২৬ জুলাই) এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীর জন্মদিন। জন্মদিন ও সমসাময়িক প্রসঙ্গে নিউজজি’র সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

বাবাবিহীন প্রথম জন্মদিন। করোনাকালে ঘরবন্দি জন্মদিন কেমন কাটছে?

বাবাকে ছাড়া এটি আমার প্রথম জন্মদিন। তাই এবার জন্মদিন পালন করছি না। আর সেভাবে উদযাপন করার মন-মানসিকতাও নেই। কারণ, দেশের করোনা পরিস্থিতি ভালো না। তাছাড়া আশেপাশের মানুষ জন ভালো নেই। আশেপাশের অনেকই করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। প্রত্যেকের ঘরেই দেখা গেছে কেউ না কেউ অসুস্থ। এমন অবস্থায় জন্মদিন পালন করার আগ্রহ তৈরি হয়নি।

বিধি-নিষেধ নিয়ে কি বলবেন?

এই মুহূর্তে আমাদের সতর্কতা অবলম্বন করে চলতে হবে। সরকারের বিধি-নিষেধ সবাইকে মেনে চলতে হবে। নিজেদেরে স্বার্থে ঘর থেকে বের হওয়া যাবে না। একান্ত যাদের বের হতে হচ্ছে তাদের কে বলব স্বাস্থবিধি মেনে বের হবেন। দ্রুত যেন স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেতে পারি তাই আমাদের সবাইকে সব ধরনের বিধি-নিষেধ মেনে চলা উচিৎ। কারণ, আমরা দেখতে পাচ্ছি দিন দিন কোভিডের পরিমাণ বাড়ছে। এই বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ কিন্তু একটাই মানুষের অসচেতনতা। আমরা সচেতন হলে হয়তো আজ এমন পরিস্থিতি দেখতে হতো না।

অধিকাংশ মানুষই ঠিক মতো মাস্ক পড়ে না। কেউ কেউ আবার লকডাউন দেখার জন্য বের হন। এই ধরনের অসচেতন আচরণগুলো যারা করে তাদের জন্যই কিন্তু সাধারণ মানুষ বেশি সংক্রমিত হচ্ছেন। তারা নিজেরা তো হচ্ছেনই অন্যদেরও সংক্রমিত করছেন। এই যে বোধের অভাব এর জন্য পরিস্থিতি কিন্তু আস্তে আস্তে খারাপের দিকে যাচ্ছে।

সরকার কিন্তু খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করে দিয়েছে। অনেকেই এই টিকা নেয়নি। সচেতন বোধের অভাবের কারনেই আজকের এই অবস্থা। আমরা সবাই চাচ্ছি এই করোনাভাইরাস দ্রুত চলে যাক। আমরা সচেতন হলেই কিন্তু এটি সম্ভব। কোভিড প্রতিরোধের একটাই উপায় সচেতন, ভ্যাকিসন নেওয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা। এর বিকল্প কিছু নেই।

এ সময়ে সব ধরনের জমকালো অনুষ্ঠান এরিয়ে চলতে হবে। এই বিষয়গুলো যদি সবাই সচেতনতার সাথে মেনে চলি তাহলেই কিন্তু করোনা অনেকটা কমে যাবে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে জন্মদিন পালন করছি না। প্রতি মুহূর্তে বাবাকে মিস করছি। আজ বাবাকে অনেক বেশি মেনে পড়ছে। এবার বাবাকে ছাড়া ঈদও করতে হয়েছে। যা কখনো কল্পনাও করিনি এটি করতে হবে। এটিই নিয়তি। এই অনুভূতিটা কষ্টের। আমার সব প্রাপ্তিতে বাবা অনেক খুশি হতেন। ওই সময়গুলো খুব মিস করি।

তাছাড়া জন্মদিনে বাবা-মাকে সালাম করা, তাদের আর্শীবাদ নিয়ে জন্মদিনটি শুরু করা। এবার বাবার আর্শীবাদ পেলাম না। তিনি যেখানে আছেন আল্লাহ তাকে জান্নাতবাসী করুক সেই দোয়া করি। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন। আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ। দেশ ও দেশের বাহিরে আমার যত ভক্ত-অনুরাগী, আামার পরিবার ও সহকর্মী যারা এই করোনার মধ্যেও জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে ভুল করেনি তাদের ভালোবাসায় আমি মুগ্ধ। এ জন্য আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ। অগণিত ভক্তদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। মানুষের ভালোবাসাকে উদযাপন করি। এই ভালোবাসা কোটি টাকা দিয়েও পাওয়া যায় না। এই ভালোবাসার জন্যই এখন পর্যন্ত কাজ করছি। তাদের ভালোবাসা নিয়েই বাকি জীবনটা কাটিয়ে দিতে চাই। জন্মদিনে করোনা মুক্ত বাংলাদেশ চাই।

ঈদ নাটকে কেমন সাড়া পাচ্ছেন? 

এবার ঈদে যে কয়টি কাজ করেছি তার মধ্যে চারটি কাজের বেশ প্রশংসা পাচ্ছি। কাজগুলো করোনার আগে করা ছিল। তানিম রহমান অংশু পরিচালিত টিভি ফিচার ফিল্ম ‘সাহসিকা’, সোহেল হাসানের নাটক ‘অনাত্মীয় দম্পতি’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘গৃহমায়া’ ও হাসিব আহমেদের স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মধুচক্র’ কাজগুলো থেকে অগণিত দর্শকের সাড়া পেয়েছি।

‘সাহসিকা’ নিয়ে বেশ আলোচনা হচ্ছে-

এটি থেকে অনেক সাড়া পাচ্ছি। পুলিশের গেটঅ্যাপ-এ অনেক আগে একটি কাজ করেছিলাম। এরপর আর কাজ করা হয়নি। অনেক বছর পর আবার ‘সাহসিকা’তে করলাম। অসংখ্য মানুষ কাজটি দেখে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। অভাগ করার মতো সাড়া পাচ্ছি। নাটকের দর্শক এখনও আছে। মানুষ সময় বের করে নাটক দেখতে চায়। করোনাকালীন ঘরবন্দি সময়টা দর্শক বেশ ভালো ভাবেই নাটকগুলো উপভোগ করেছেন। কাজগুলোতে আমার চরিত্রটিও দর্শক বেশ পছন্দ করেছে। আমি নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করি না। যেখানে আমার চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আছে সেখানেই কাজ করি।

ঈদের প্রচারিত একটি নাটক নিয়ে বেশ সমালোচনা হচ্ছে-

প্রতিটি কাজের দায়বদ্ধতা আছে। প্রতিটি নাটকেই বার্তা থাকে, বিষয়বস্তু থাকে। চরিত্রের প্রয়োজনে শিল্পীদের অনেক কিছুই করতে হয়। সে ক্ষেত্রে সেটি ভিন্ন বিষয়। কিন্তু আমি যে বার্তাটি দেব সেটিতে অনুভূতিতে আঘাত করছে কিনা, ভুল বার্তা দিচ্ছে কিনা এ বিষয়ে অবশ্যই সবাইকে সচেতন হতে হবে। সবারই দ্বায়বদ্ধতা আছে। যা ইচ্ছে তা বানানো যাবে না। দর্শকদের বোকা ভাবা ঠিক না। 

আমি যে পেশাটি দেখাচ্ছি সে পেশার মানুষও কিন্তু আমার দর্শক। আমি যদি অযৌক্তিত কিছু দেখাই সেটি মানুষ প্রতিবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক। এমন কাজ করাই উচিৎ না যেটি সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এ জন্য এক সময় টিভি প্রিভিউ কমিটি থাকতো। এ কারনেই তাদের প্রয়োজনীয়তা অনুভব হয়। প্রতিটি চ্যানেলের প্রিভিউ কমিটি নাটকটি প্রচারে আগে দেখতেন। সমস্যা থাকলে সমাধান করে প্রচার করতেন। অপ্রদর্শনযোগ্য কিছু প্রচার করতেন না।

অনুদানের ‘১৯৭১ সেইসব দিন’ সিনেমার অগ্রগতি কি?

গত বছর শীতের সময় সিনেমাটির কাজ শুরু করেছি। তারপর করোনাভাইরাসের কারণে কাজ বন্ধ রাখতে হয়। বেশ কয়েকবার কাজের পরিকল্পনা করেও শুটিং করা সম্ভব হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার শুটিং শুরু করব।

দর্শক চাহিদা থাকা সত্ত্বেও সিনেমায় কম দেখার কারণ? 

প্রতিটি শিল্পীরই স্বপ্ন থাকে সিনেমায় কাজ করার। আমিও ব্যতিক্রম নই। তবে নিদিষ্ট কারণ নেই। আমার চাহিদা আছে একটি কাজ করলে সেটি আমার পছন্দ মতো হতে হবে। সে রকম যদি চরিত্রের প্রস্তাব পাই এবং সব কিছু পছন্দ মতো হয় তাহলে কাজ করতে আপত্তি নেই। তাছাড়া আমাদের নাটক কিন্তু আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও প্রশংসিত হচ্ছে। দেশ-বিদেশে বাংলা নাটকের অগণিত দর্শক আছে। নাটকের মাধ্যমেও দর্শকদের ভালোবাসা পাওয়া যায়।

কোনো চরিত্রের প্রতি দুর্বলতা আছে?

আমি চ্যালেঞ্জিং যে কোনো চরিত্রে কাজ করতে পছন্দ করি। তবে সে রকম কোনো চরিত্রের প্রতি দুর্বলতা নেই। যে কোনো ধরনের কালজয়ী উপন্যাসের চরিত্রগুলোতে কাজ করার আগ্রহ আছে। চ্যালেঞ্জিং চরিত্র পেলে অবশ্যই কাজ করব।  

ছোট বেলায় স্বপ্ন কি ছিল? 

ছোট বেলার স্বপ্নের সাথে বড় বেলার স্বপ্নের মিল নেই। ছোট বেলা অনেক কিছুই হতে চেয়েছিলাম। দিন শেষে সেটিই হয় যেটি সৃষ্টিকর্তা নির্ধারণ করেন। সৃষ্টিকর্তার ইশারাই অভিনেত্রী হয়েছি। তিনি অভিনয় ভালো মনে করেছেন বলেই হয়তো অভিনয়ে আসা। তার চাওয়াটাই গ্রহণ করা উচিৎ। তিনি যা করেন ভালোর জন্যই করেন। আজ যদি অভিনেত্রী না হতাম তাহলে অকৃত্রিম মানুষের ভালোবাসা পেতাম না। এ ভালোবাসা টাকা দিয়েও পাওয়া যাবে না। আর টাকা থাকলেই জনপ্রিয় হওয়া যায় না। তবে জনপ্রিয়তা বড় বিষয় না মানুষের ভালোবাসাই আসল। এই ভালোবাসা কয়জন অর্জন করতে পারে? এর জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে শুকরিয়া আদায় করি।

গান নিয়ে নতুন করে কিছু ভাবছেন? 

মূলত স্বাচ্ছন্দ্যবোধ এর জায়গা থেকে গান করি। গান পেশা হিসেবে নেইনি, নিতেও পারব না। সব সময় নাচ ও অভিনয়ে প্রাধান্য দিয়েছি। ভালোবাসা থেকে গান করি আর ভালোলাগা থেকে গানের চর্চা করি। গান নিয়ে সেভাবে পরিকল্পনা নেই। তবে অ্যালবামের গান নিয়ে ভিডিও নির্মাণের পরিকল্পনা আছে। অ্যালবামে বাবা-মাকে উৎসর্গ করে দুটি গান করেছিলাম সে গানগুলো নিয়ে ভিডিও নির্মাণের ইচ্ছে আছে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কাজ শুরু করব।

নিউজজি/রুআ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers