বিনোদন

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে উচ্ছ্বসিত তারকারা

নিউজজি প্রতিবেদক  জুন ২৫, ২০২২, ১৪:১৩:৪২

  • পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে উচ্ছ্বসিত তারকারা

বাংলাদেশের বুকে সবচেয়ে বড় অবকাঠামোর নাম পদ্মা সেতু। দীর্ঘ অপেক্ষার প্রহর শেষে শনিবার (২৫ জুন) দুপুর ১২টায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনে উচ্ছ্বসিত দেশের তারকারা।

অস্ট্রেলিয়ায় বসে ফেসবুকে সেই উচ্ছ্বাস প্রমাণ করলেন জনপ্রিয় নায়িকা শাবনূর। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘স্বপ্নের পদ্মা সেতু। এটি বাংলাদেশের দীর্ঘতম সেতু। স্থাপত্য শিল্পের এক শ্রেষ্ঠ স্থাপনা এবং ঐতিহাসিক নিদর্শন। আমাদের গর্বের এই সেতু উদ্বোধন হওয়াতে আমিও আজ সবার সাথে মহাসুখে উচ্ছ্বসিত, উদ্বেলিত ও আনন্দিত।’

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেন জনপ্রিয় নায়ক ওমর সানী। ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আমার বাড়ি বরিশাল, গৌরনদী। জন্ম কালীগঞ্জ, জিনজিরা, ঢাকা। আমার শ্বশুরবাড়ি সাতক্ষীরা, খুলনা। পদ্মা সেতু আমার লাগবে, আপনার লাগবে। আমাদের গর্ব পদ্মা সেতু। আমাদের প্রথম অর্জন স্বাধীনতা আর দ্বিতীয় অর্জন পদ্মা সেতু। সমালোচনা নয় আসুন আমরা এক মুখে বলি, আমাদের পদ্মা সেতু।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে চিত্রনায়িকা ইয়ামিন হক ববি বলেন, ‘খুব ভালো লাগছে। এত বছরের একটা অপেক্ষা শেষ হয়েছে। খুবই সুন্দর একটি জিনিস প্রধানমন্ত্রী বাস্তবে রূপায়িত করেছেন। আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ।’

ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা তৌসিফ মাহবুব বলেন, আমার গ্রামের বাড়ি ভোলা। পদ্মা সেতু হওয়ার আগে বরিশাল পর্যন্ত গিয়ে সেখান থেকে ফেরিতে করে ভোলা যেতে হতো আমাদের। এখন আর সেই বাড়তি ঝক্কি পোহাতে হবে না। ঢাকা থেকে বরিশাল পর্যন্ত যেতে আগে ২৫০ থেকে ২৮০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতো, যদি লঞ্চে না যাই। আর এখন সেটি ১০০ থেকে বড়জোর ১৪০ কিলোমিটার রাস্তা পেরোলেই চলবে। তিন-চার ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে পারব! এটা তো স্বপ্নের মতো লাগে এখনও। এখন শুধু বরিশাল থেকে ভোলা পর্যন্ত ছোট্ট একটা ফেরি পার হওয়া লাগবে। এতে খরচ অনেক কমবে। অনেক সময়ও বাঁচবে। মোট কথা, আগে গ্রামে যেতে ভাবতে হতো- এখন চোখ বন্ধ করে ছুটবো। 

তিনি আরো বলেন, খুব সকালে রওনা দিলে ভোলায় গিয়ে নাশতা করাও সম্ভব! বাড়ি যাওয়ার গল্প শেষে এবার আসি শুটিং-জীবনে। শুটিংয়ের জন্য আমাদের অনেক লোকেশনে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দক্ষিণাঞ্চলে পুরো ইউনিট নিয়ে যাওয়া অনেক খরচের ব্যাপার। এ কারণে কেউ সেই চিন্তাই করত না। ২৫ জুন থেকে ৩০ জুন আমার একটি নাটকের শুটিং হওয়ার কথা ভোলায়। কিন্তু পরিচালক বারবার ভাবছিলেন, ৬০-৭০ জন মানুষ নিয়ে ভোলা পর্যন্ত যাওয়া অনেক ব্যয়বহুল। তবে পদ্মা সেতু হওয়ায় ইউনিটের মাইক্রো বাস ব্যবহার করে ভোলা চলে যেতে পারব। এভাবে আমাদের জন্য বিভিন্ন লোকেশনে যাওয়া এখন থেকে সহজ হবে। আমার ও আমাদের এই দিন বদলে দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীসহ যারা এই সেতুটি নির্মাণে জড়িত ছিলেন তাদের প্রতি জানাই অসীম কৃতজ্ঞতা।

‘মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ ২০১৮’ বিজয়ী জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী বলেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে শুটিংয়ের জন্য নতুন লোকেশন পাওয়া যাবে। একইসঙ্গে এটি আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে অনুপ্রেরণাও জোগাবে বলে মনে করি। ফেরির ভয়ে বছরের পর বছর বাড়ি যাওয়া হয়নি। এমনও হয়েছে যে, বিমানে উড়ে যশোর গিয়েছি, সেখান থেকে বাড়ি গিয়েছি। এখন আমার জন্য বাড়ি যাওয়া খুব সহজ হয়ে যাবে। এ জন্য দারুণ ভালো লাগছে। আমি একদিন ছুটি পেলেও এখন গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের কাছে চলে যাব। কারণ, আমি জানি আমাকে আর ১২/১৪ ঘণ্টা রাস্তায় কাটাতে হবে না। নিজের সুবিধার বাইরে দেশের মানুষ ও অর্থনীতির যে মেলবন্ধন ঘটবে এই সেতুর মাধ্যমে, সেটির কথা তো আর বলে শেষ করা যাবে না। তাই ধন্যবাদ জানাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সেতুটি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নিয়োজিত প্রতিটি মানুষকে। যারে মাধ্যমে, এমন একটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হলো।

মডেল-অভিনেত্রী জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া বলেন, ভাবতে ভাবতেই পদ্মা সেতু হয়ে গেলো! এটা ভাবলে এখনও বিশ্বাস হয় না। কারণ, প্রথম আমরা কেউ ভাবতেই পারিনি এমন একটি সেতুবন্ধন দেখতে পাব কখনও। এরপর যখন বিদেশি সমর্থন হারালাম, তখন তো সেই অবিশ্বাস আরও গভীর হলো আমাদের মনে। সব মিলিয়ে খুলনার মেয়ে হিসেবে এই সেতুটি আমার কাছে মনে হয় রাষ্ট্রীয়ভাবে সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। তার চেয়েও বড় গর্ব- সেতুটি আমাদের টাকায় হয়েছে। এটাও বাস্তবতা, টাকা থাকলেই সব কিছু হয় না। এটি বাস্তবায়ন করার মানসিকতা বা ভিশন লাগে। সেই সূত্রে শত বাধার মুখেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেটা করে দেখিয়েছেন। হ্যাটস অফ টু হার। অনেকে অনেকভাবে এই প্রাণের সেতুটি দেখেছেন এর মধ্যে। আমি সেটা পারিনি। কিংবা ওভাবে দেখতে চাইনি। 

তিনি আরো বলেন, আমার স্বপ্ন এই সেতু দিয়ে নিজের গাড়ি নিয়ে আমি বাড়ি যাবো। এত কাল গাড়ি নিয়ে বাড়ি যাওয়ার সাহসটা পাইনি। এখন আমি দ্রুত সময়ের মধ্যে যে কোনোদিন গাড়ি নিয়ে দৌড় দেব পদ্মা সেতুর বুকে। সেইদিন আমার জন্য হবে সবচেয়ে আনন্দের। মনে পড়ে, ১৪ বছর আগে যখন খুলনা থেকে ঢাকা এসেছিলাম, তখন মহাখালী ফ্লাইওভারটাও ছিল না। চোখের সামনে সেটি হলো। ঢাকার উন্নতি দেখলাম। আমাদের সবচেয়ে বড় স্থাপনা পদ্মা সেতুও হয়ে গেল! এবার দক্ষিণাঞ্চলের উন্নয়নটাও নিজের চোখে দেখতে চাই। মংলা পোর্ট, সুন্দরবন, কুয়াকাটা- সব কিছু বদলে যাবে ক্রমশ।

নিউজজি/রুআ

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ