ফিচার

কচুরিপানার কেজি ৫০, তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন হস্তশিল্প

আবু কায় সার শিপলু, গাইবান্ধা মার্চ ৯, ২০২১, ১২:৪৯:০৬

  • ছবি : নিউজজি

গাইবান্ধা: শুরুটা ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া গ্রামের যুবক সুভাষ চন্দ্র বর্মনের হাত ধরে। তিনি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ শিখে ২০১৬ সালে নিজের গ্রামে গড়ে তুলেন কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান।

‘‘কচুরিপানা’’। যা আমরা অপ্রয়োজনীয় ও পচনশীল উদ্ভিদ বলেই জেনে আসছি। কিন্তু এই কচুরিপানা দিয়েই বাহারি হস্তশিল্পের নকশা করে দৃষ্টি কেড়েছেন সুভাষ চন্দ্র। বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত করা শুকনো কচুরিপানা দিয়ে এখন তৈরি হচ্ছে দৃষ্টিনন্দন ফুলের টব, ব্যাগসহ নানা ধরণের সামগ্রী। বাহারি ও দৃষ্টিনন্দন সব হস্তশিল্পের বিভিন্ন সামগ্রি তৈরি করছেন এলাকার নারীরা। আর তাই জেলায় এখন ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে কচুরিপানা।

এরইমধ্যে শুকনো কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করা সামগ্রী রপ্তানি করা হয়েছে। কচুরীপানাকে অপ্রয়োজনীয়, পচনশীল এবং মশা উৎপাদনের কেন্দ্র বলেই মনে করা হতো। এখন সেই কচুরিপানা দিয়েই তৈরি হচ্ছে রকমারি পণ্য।

সুভাষ চন্দ্র বর্মণ জানান, শুকনো কচুরিপানার ডাঁটা দিয়ে ব্যতিক্রমী হস্তশিল্প তৈরি করছেন তিনি। প্রতি মাসে অন্তত তিন থেকে চার লাখ টাকার কচুরিপানা কিনে থাকেন। নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন কচুরিপানা কেন্দ্রিক চারটি হস্ত ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠান। যেখানে গ্রামের আড়াই শতাধিক নারী ও কিশোরী কাজ করে। যাদের হাতের নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি হয় নজরকাড়া ফুলের টব, ব্যাগ, বালতিসহ বাস্কেট নিত্য নতুন জিনিসপত্র। তবে এসব পণ্যের চাহিদা দেশে কম থাকলেও রপ্তানি হয় আমেরিকা নেদারল্যান্ডসহ বিশ্বের কয়েকটি দেশে।

ফুলছড়ি উপজেলার মদনেপাড়া গ্রামে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র। গ্রামের নারী ও কিশোরীরা এক সাথে বসে কচুরিপানার ডাঁটা দিয়ে তৈরি করছে নানা ধরনের সৌখিন পণ্য। সংসারের সচ্ছলতা ফেরাতে বাড়ির সব কাজ শেষ করে নারীরা নেমে পড়েছেন এই কাজে। সেই সাথে কিশোরীরাও যোগ দিয়েছে।

কচুরিপানা দিয়ে তৈরি করছেন ব্যাগ, বালতি, ফুলের টবসহ নিত্য নতুন সৌখিন পণ্য। স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় অবসর সময়টা এভাবেই কাটছে শিক্ষার্থীদের। এতে করে পড়ালেখার পাশাপাশি নিজের খরচ ছাড়াও মাস শেষে ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করছেন শিক্ষার্থীরা।

এখানে কাজ করতে আসা জাফরিন বেগম নামে এক গৃহিণী বলেন, সংসারের কাজ শেষ করে শুকনো কচুরিপানার ডাঁটা দিয়ে ফুলের টব বানাতে আসি। দৈনিক ৭ থেকে ৮টা টব বানাই। এখানকার আয় থেকে নিজের খরচ মেটানোর পাশাপাশি প্রয়োজনে সংসারেও দিতে পারছি।

ফুলমিরা রানী নামে আরেকজন বলেন, বাড়ির কাছাকাছি হওয়ায় অনেক সুবিধা হয়েছে। বাড়ির কাজ করতে কোনো সমস্যা হয় না। সংসারে বাড়তি আয় হওয়ায় আমরা অনেক খুশি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় কিশোরীরাও এখানে কাজ করে বাড়তি আয় করছে। কলেজছাত্রী সুমাইয়া আক্তার বলেন, করোনার কারণে কলেজ বন্ধ থাকায় বাড়িতে বসে অবসর সময় কাটছিল। সেই অবসর সময়টাকে কাজে লাগাতে প্রথমে কাজটা শিখে এখন দৈনিক দেড়শ থেকে দুইশ টাকা আয় করতে পারছি।

তবে সুভাষ চন্দ্র বর্মণ বলেন, প্রথমে ছোট পরিসরে শুরু করি। এখন জেলার ৪টি পয়েন্টে আড়াই শতাধিক নারী ও কিশোরী এই কাজের সাথে যুক্ত হয়েছে। তাদের প্রতিদিন মজুরি দিতে হয় ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। তবে সরকারি ঋণ সহায়তা পেলে কচুরিপানার এই হস্ত ও কুটির শিল্প প্রতিষ্ঠানটি আরো বড় পরিসরে গড়ে তোলা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

নিউজজি/ এসআই

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers