ফিচার

শতবর্ষী গাছ কেটে চলছে রেস্টুরেন্ট নির্মাণ

নিউজজি ডেস্ক মে ৭, ২০২১, ১৫:২৯:১১

  • সংগৃহীত

ঢাকা: ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শতাধিক গাছ কেটে চলছে রেস্টুরেন্ট নির্মাণের কাজ। এতে কাটা পড়ছে শতবর্ষী অনেক গাছও। ধ্বংস হচ্ছে প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য। স্বাধীনতার স্মাারক ঐতিহাসিক এই উদ্যানকে ধ্বংস করে স্বাধীনতা প্রকল্পের তৃতীয় ধাপ বাস্তবায়নের কাজ চলছে। 

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান কেবল স্বাধীনতা স্মারকই নয়; ঢাকার একখন্ড ফুসফুস। সবুজে ছাওয়া এই উদ্যান ঢাকার মানুষের অক্সিজেন সরবরাহের উৎস। শাখে শাখে কৃষ্ণচূড়ার আগুন। বর্ণিল জারুলের হাতছানি। থেকে থেকে পাখির কুজন। ডানা মেলে ওড়াওড়ি। গাছের  ফোঁকড়ে, ডালে পাখিদের নির্ভার জীবন। কে জানে হয়তো কালই কাটা পড়বে এই গাছ? উদ্বাস্তু হবে পাখিরা। 

১৬১০ সালে মোঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের শাসনামলে গড়ে তোলা এই উদ্যান পরে হয়ে ওঠে বাঙালির স্বাধীকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম স্মারক। কিন্তু এরইমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে এই উদ্যানের অন্তত অর্ধশত আকাশচুম্বি গগনশিরীষ, সেগুন, মেহগনি, কৃষ্ণচূড়া, পাইন গাছ। শতবর্ষীরাও রেহাই পায়নি। চারপাশে যতো দূরে চোখ যায় সব গাছের গায়ে লাল ক্রস চিহ্ন এঁকে দেয়া-  মানে অচিরেই কেটে ফেলা হবে এদের। 

মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান: স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ ও সংরক্ষণ’ প্রকল্পের তৃতীয় ধাপে গণপূর্ত অধিদপ্তর উদ্যানের বিভিন্ন স্থানে ১০টি ঐতিহাসিক স্থাপনার পাশাপাশি সাতটি রেস্টুরেন্ট , পায়ে চলার পথ, থিম পার্ক, ৫৭০টি গাড়ির ভূগর্ভস্থ পার্কিং ও ফোয়ারা নির্মাণের কাজ করছে। আর এতেই কাটা পড়ছে ইতিহাসের সাক্ষী কয়েকশ বৃক্ষ। 

১৯৭১ সালের ৭মার্চ স্বাধীনতার ডাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণ দেন রেসকোর্স ময়দানে। ১৬ই ডিসেম্বর এখানেই আত্মসমর্পন করে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু এর নাম দেন সোহরাওয়ার্দী উদ্যান। এসব ইতিহাসের স্মারক হয়ে আছে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তন ও স্বাধীনতা স্তম্ভ। শিখা চিরন্তনের সাথে জাগরুক থাকুক উদ্যানের প্রতিটি গাছ ও প্রাণ। 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers