ফিচার

স্যুপের ইতিহাস

নিউজজি ডেস্ক আগস্ট ৬, ২০২১, ০১:৪০:০৯

  • স্যুপের ইতিহাস

ঢাকা : যাবেন কোনও রেস্তরাঁয়, সামনে নিয়ে বসবেন স্যুপ। পরিবারের সকলে মিলে গিয়েছেন চায়নিজে, সেখানে এক পদের স্যুপ না হলেই নয়। কেউ ভুগছে অসুখে, তার জন্য বাসায় নিজে বানিয়ে নেবেন কিছু বা কিনে নেবেন, সেই তালিকায় স্যুপ না থাকলেই নয়। 

স্যুপ একধরনের খাবার যা মাংস, সবজি সাথে স্টক, জুস, পানি ও অন্যান্য তরল পদার্থ মিশিয়ে তৈরি করা হয়। গরম স্যুপের বৈশিস্ট্য হচ্ছে অন্যান্য কঠিন উপাদানগুলো পানিতে সিদ্ধ করে করা যতক্ষণ না তা থেকে স্বাদ ও মাংসের জুস না বের না হচ্ছে। ঐতিহ্যগতভাবে সুপকে ২ ভাগে ভাগ করা যায়; পরিষ্কার সুপ ও ভারী স্যুপ।স্যুপ স্ট্যুর মতোই এক প্রকারের খাবার যেখানে মাঝে মাঝে কোন পরিষ্কার পার্থক্য থাকে না। সাধারণ ভাবে স্যুপ বেশি তরল স্ট্যুর থেকে।

খ্রিস্টের জন্মেরও ৬০০০ বছর আগে প্রথম স্যুপ বানানো হয়।পানিরোধী পাত্র আবিষ্কারের আগে, যা হয়েছিল খ্রিস্টের জন্মেরও ৯০০০ বছর আগে সিদ্ধ করার পদ্ধতিতে রান্না হত না। স্যুপ শব্দটি এসেছে ফরাসী স্যুপে শব্দটি থেকে। ১৭৭২ সালের একটি রান্নার বই ফ্রুগাল হাউজওয়াইফে আমরা একটা পুরো অধ্যায় দেখতে পাই স্যুপ নিয়ে। ইংলিশ পদ্ধতিতে রান্না কলোনীগুলোতে রাজত্ব করলেও নানা দেশের স্যুপও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে অভিবাসীদের মাধ্যমে। জার্মান অভিবাসী যারা পেনিসেল্ভিনিয়াতে বাস করত তাদের আলুর স্যুপ খুব জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ১৮ শতকে বহন যোগ্য স্যুপ আবিষ্কার হয়। জাপানি মিশো স্যুপ এ ধরনের একটি স্যুপ।

১৯ শতকে ক্যান করার পদ্ধতি আবিষ্কার হলে বাণিজ্যিক স্যুপ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। বর্তমানে নানা ধরনের ক্যানড স্যুপ ও শুকনো স্যুপ পাওয়া যায়। ১৮৯৭ সালে ডক্টর জন টি ড্রেন্স ঘনীভূত স্যুপ আবিষ্কার করেন ক্যাম্পবেল স্যুপ কোম্পানীর সাথে। বর্তমানে ক্যাম্পবেল কোম্পানীর টমেটো, মাশরুমের ক্রিম ও চিকেন নুডুল স্যুপ আমেরিকাতে বেশ জনপ্রিয়।আমেরিকানরা প্রতি বছর এই কোম্পানীর ২.৫ বিলিয়ন বোল স্যুপ গ্রহণ করে। ঘনীভূত ক্যানড স্যুপে পানি মিশিয়ে (মাঝে মাঝে দুধ মিশিয়ে) খাবার যোগ্য করা যায় অন্য কিছু না মিশিয়ে। তরল কৌটাজাত স্যুপ মাইক্রোওয়েভে গরম করে খাওয়া হয়। এতে পাস্টা, সবজি, ডিম বা ক্রিম ইত্যাদি মেশানো যেতে পারে আরো আকর্ষণীয় করে তোলার জন্য। ঘনীভূত স্যুপ তরল কৌটাজাত স্যুপের থেকে কম দামে বিক্রি করা হয় ছোট ক্যানে, যাতে পানি বা দুধ মেশালে আয়তন অনেক বাড়ে। 

নানা প্রকারের স্যুপ আছে সারা পৃথিবীতে। এদের মধ্যে ডেজার্ট স্যুপ, ফলের স্যুপ, ঠান্ডা স্যুপ, এশিয়ান স্যুপ ও ঐতিহ্যবাহী নানা দেশের স্যুপ অন্যতম। ফলের স্যুপ ঠান্ডা হবে না গরম হবে তা সেটার প্রস্তুত প্রণালীর ওপর নির্ভর করে। গরম আবহাওয়াতে ঠান্ডা স্যুপ গ্রহণ করা হয় বেশি মাত্রায়। ফলের স্যুপে দুধ, মিষ্টি, মশলা, অ্যালকোহল জাতীয় পানীয় ব্র্যান্ডি মিশ্রিত করা হয়। স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে ঠান্ডা বা গরম ফলের স্যুপ বেশ পরিচিত একটি খাবার। অন্যদিকে গরম ফলের স্যুপ মাংস মিশিয়ে পরিবেশন করা হয় মধ্য এশিয়া ও চীনা দেশ গুলোতে। ফলের স্যুপ আমেরিকা, আফ্রিকা ও পশ্চিম ইউরোপে অপরিচিত। এটা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, জাপান ও ওশিনিয়াতেও অনুপস্থিত।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers