ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

কুয়াকাটা ইকোপার্ক

নিউজজি ডেস্ক ২৯ জানুয়ারি , ২০১৯, ১৭:৪১:১২

  • কুয়াকাটা ইকোপার্ক

ইকোলজিকাল পার্কের এর সংক্ষিপ্ত রূপকে বলা হয় ইকোপার্ক । প্রাকৃতিক পরিবেশে সৃষ্ট বিনোদন উদ্যান যা জীববৈচিত্র্যের উপর কোনো বিরূপ প্রভাব সৃষ্টি করে না। বনাঞ্চলের একটি নির্দিষ্ট এলাকাকে ইকোপার্ক হিসেবে চিহ্নিত করে একটি নিবিড় ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা হয়। বিশেষ কিছু প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যের কারণে কোনো এলাকাকে ইকোপার্ক হিসেবে নির্বাচন করা হয়। এক্ষেত্রে উদ্ভিদের প্রাধান্যকেই বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়। তবে ইকোপার্কে উদ্ভিদ এবং প্রাণী দুটোরই বিশেষ সংরক্ষণের দিকে দৃষ্টি দেওয়া হয়। এর প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া ছাড়াও স্বল্পপরিসরে বিনোদন সৃষ্টির প্রয়াসও ইকোপার্কে লক্ষ্য করা যায়।

বাংলাদেশের মোট আয়তনের ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমি যা দেশের মোট আয়তনের ১৭.০৮ ভাগ। ২.৫২ মিলিয়ন হেক্টর বনভূমির মধ্যে বনবিভাগ নিয়ন্ত্রিত বনভূমির পরিমাণ ১.৫২ মিলিয়ন হেক্টর যা দেশের মোট আয়তনের ১০.৬ ভাগ। জেলা প্রশাসকের নিয়ন্ত্রণাধীন ০.৭৩ মিলিয়ন হেক্টর ইউএসএফ ল্যান্ড এবং অবশিষ্ট ০.২৭ মিলিয়ন হেক্টর গ্রামীণ বনাঞ্চল হিসেবে পরিগণিত। একসময় এসব বন এলাকা ছিল জীববৈচিত্র্যে পরিপূর্ণ গভীর অরণ্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যমন্ডিত সবুজ আরণ্যক পরিবেশ ছিল বন্যপ্রাণী সমৃদ্ধ। এসব গভীর অরণ্য সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের বন ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি চালু করা হয়েছে, যেমন, জাতীয় উদ্যান, গেম রিজার্ভ, বোটানিক্যাল গার্ডেন, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সাফারি পার্ক ও ইকোপার্ক ইত্যাদি।

পটুয়াখালী জেলায় কলাপাড়া উপজেলার গঙ্গামতি, লতাচাপলী, খাজুরা এবং বরগুনা জেলায় আমতলী উপজেলার টেংরাগিরি মৌজায় ১৩,৯৮৪ একর জায়গা নিয়ে ২০০৫ সালে কুয়াকাটা ইকোপার্ক নির্মিত হয়। কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত, বঙ্গোপসাগর, রামনাবাদ নদী, আন্ধারমানিক নদী, পায়রা ও বিষখালী নদীর মোহনার সন্নিকটে কুয়াকাটা ইকোপার্ক অবস্থিত। ইকোপার্কে সুন্দরী, কেওড়া, হেতাল, হিজল, করমজা, অর্জুন, বাইন, পশুর, কাঁকড়া, আসামলতা, স্বর্ণলতা ইত্যাদি প্রজাতির বৃক্ষ দেখা যায়। এছাড়াও রেইনট্রি, কড়ই, মেহগিনি, বট, জাম, শিমুল, নিম, কদম, বাঁশ, নারিকেল, তাল, খেজুর, আমলকি, পেয়ারা, পাকুর, সোনালু, গাব, থুজা, গোলাপ ইত্যাদি বৃক্ষরোপণ করার ফলে কুয়াকাটা ইকোপার্কটি সমৃদ্ধ হয়েছে।

এই পার্কে কার পার্কিং এরিয়া, পায়ে হাঁটার পথ, লেক, প্যাডেল বোট শেড, কাঠের ব্রিজ, পিকনিক শেড, পিকনিক স্পট, টয়লেট, রান্নাঘর, ডিপটিউবওয়েল, গোলঘর, বিদ্যুৎ ও পানির সুবিধাদি বিদ্যমান আছে। বানর, শুকর, সজারু, শিয়াল, বাদুড়, বেজি, গুইসাপ, কাঠবিড়ালী, অজগর সাপ, হলদে পাখি, বাবুই পাখি, পেঁচা, চিল, শালিক, শ্যামা, টুনটুনি, ঘুঘু, মাছরাঙ্গা, সাদা বক, ডাহুক, বুলবুলি ইত্যাদি পশুপাখি সচরাচর দেখা যায়।

ইকোপার্ক স্থাপনের মূল লক্ষ্য হচ্ছে: হুমকির সম্মুখীন ও বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদ প্রজাতির সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, বিবিধ দুর্লভ প্রজাতির বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণ, বিদ্যমান উদ্ভিদ ও প্রাণিবেচিত্র্য সংরক্ষণ ও উন্নয়ন, নিবিড় ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দেশিয় প্রজাতির গাছের বংশভান্ডার তৈরি ও উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও স্থানীয় জনসাধারণের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন, পরিকল্পিত ইকো-ট্যুরিজম শিল্পের প্রসার, শিক্ষা ও গবেষণার সুযোগ সৃষ্টি।

ইকোপার্ক শুধুমাত্র বন ব্যবস্থাপনারই অংশ নয়, দেশি-বিদেশি ভ্রমনেচ্ছু এবং প্রকৃতিপ্রেমী লোকজন বিনোদনের পাশাপাশি ওই বিশেষ প্রতিবেশে বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ ও প্রাণী সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান লাভ করেন। একই সঙ্গে জীববৈচিত্র্য সম্পর্কেও জনমনে সচেতনতা সৃষ্টি হয়। প্রাকৃতিক পাহাড়ি বনাঞ্চল ছাড়াও উপকূলীয় এলাকায় সৃষ্টি করা হয়েছে ইকোপার্ক। উপকূলীয় অঞ্চলের উদ্ভিদের রয়েছে বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers