ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

বৈকাল হ্রদের কথা

নিউজজি ডেস্ক ৬ ফেব্রুয়ারি , ২০১৯, ১১:৪৫:২৯

  • বৈকাল হ্রদের কথা

বৈকাল নামটিই এসেছে তিইউরস্কি ভাষার ‘বাই-কুল’ আঞ্চলিক শব্দ থেকে। যার বাংলা অর্থ করলে দাঁড়ায়  ‘সম্পদশালী হ্রদ’। সম্পদের বিবেচনায়ও এটি পৃথিবীর অন্যতম হ্রদ। পৃথিবীর খাবার যোগ্য বিশুদ্ধ পানির ১৯ ভাগই এই হ্রদে অবস্থিত। এবং এর পানি এতটাই স্বচ্ছ যে খালি চোখে ৪০ মিটার পর্যন্ত পানির নিচের বস্তু অনায়েশে দেখতে পাওয়া যায়। বৈকালের পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রাকৃতিক উদ্ভিদ ও জীববৈচিত্রও নজর কাড়ার মতো। কারণ বৈকাল অঞ্চলে প্রায় ১৭০০ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে যার দুই-তৃতীয়াংশই পৃথিবীর অন্য কোথাও পাওয়া যায় না। বৈকালের তলদেশে রয়েছে ওমূল, গোলেমিংকা, স্যামন প্রভৃতি মাছ এবং নানাজাতের শামুক, শ্যাওলা প্রভৃতি প্রজাতি যা অত্যন্ত মূল্যবান ও কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যত্র বিরল। বৈকালের নিচে রয়েছে আরো বহু প্রকারে প্রাকৃতিক সম্পদ।

সাইবেরিয়ার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বৈকাল হ্রদের অবস্থান। এর উত্তর-পশ্চিম অংশ ইর্কুৎস্ক ওবলাস্ত এবং দক্ষিণ-পূর্ব অংশ বুরিয়াত প্রজাতন্ত্রে পড়েছে। বৈকালের আয়তন ৩১,৫০০ বর্গকিলোমিটার, দৈর্ঘ্য ৬৩৬ কিলোমিটার ও প্রস্থ প্রায় ৮১ কিলোমিটার। তবে এটি প্রায় ৫ লক্ষ ৬০ হাজার বর্গকিলোমিটার জায়গা অধিগ্রহণ করে আছে। এর গড় গভীরতা ৭৪৪ মিটার বা ২,৪৪২ ফুট। আর সর্বোচ্চ গভীরতা ১,৬৪২ মিটার বা ৫,৩৮৭ ফুট। এই বিশাল হ্রদটি কৃত্রিমভাবে তৈরি কোন হ্রদ নয়। বৈকাল সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট। ধারনা করা হয়-প্রায় ২৫/৩০ মিলিয়ন বছর পূর্বে ঐ অঞ্চলের শিলাখন্ডের মধ্যে বড় ধরনের চ্যুতির ফলে বৈকালের অংশ নিচু হয়ে হ্রদের সৃষ্টি হয় আর তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল পাহাড়ের রূপ ধারণ করে। এর পর কালের বিবর্তনে বর্তমানের রূপ ধারণ করে।

বৈকালের সাথে প্রায় ৩৬০ নদী একত্রিত হয়েছে। এদের পানি প্রবাহিত হয়ে বৈকালে এসে পতিত হয়। এদের মধ্যে মঙ্গোলিয়ায় উৎপত্তি লাভ করা সেলেঙ্গাই সবচেয়ে বড়, যার আয়তন ১০২৪ বর্গকিলোমিটার। অন্যদিকে মাত্র একটি মাত্র নদীতে বৈকালের পানি পতিত হয়, যার নাম আঙ্গারা। বৈকালের মধ্যে ছোট-বড় প্রায় ৩০টি দ্বীপ রয়েছে, যার মধ্যে সর্ববৃহৎ দ্বীপটি হল “ওলখন”। এ দ্বীপটির দৈর্ঘ্য ৭১ কিলোমিটার ও প্রস্থ ১৪ কিলোমিটার। এই দ্বীপটিতেই সবচেয়ে বেশি পর্যটক সমাগম দেখা যায়। এবং এখানে স্থায়ীভাবে প্রায় ২ হাজার মানুষ বসবাস করে।

বহুকাল ধরে রাশিয়া তথা ইউরোপের মানুষ এই বিশাল সাগর সদৃশ হ্রদের সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ ছিলেন। রাশিয়া এই অঞ্চলে তাদের রাজ্য সম্প্রসারিত করলে সর্বপ্রথম ১৬৪৩ সালে “ইভনিভ” নামক এক রুশ অনুসন্ধানী গবেষক এই হ্রদের সন্ধান পান। এর মাধ্যমেই প্রকৃতির অপরূপ বিস্ময় ও সৌন্দর্যের লীলাভূমি বৈকাল হ্রদ এবং তার অপার জীব-বৈচিত্র্যের এক সমৃদ্ধ ভাণ্ডার পৃথিবীর মানুষের সামনে চলে আসে। এর পর থেকে বৈকালের অপরূপ লাবণ্য ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধতা ইউরোপ তথা সমগ্র বিশ্ববাসীকে কাছে টানতে শুরু করে। যতই দিন যাচ্ছে বৈকালের প্রতি মানুষের আবেদন ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। সর্বশেষ রাশিয়া ক্ষমতায় আসার পর সবসময়ই বৈকালকে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক অঞ্চল হিসেবে বিবেচনা করেছে। ফলে বৈকালের সমৃদ্ধি চারদিকে খ্যাতি কুড়াতে সক্ষম হয়। এরই স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৬ সালে ইউনেস্কো বৈকালকে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের মর্যাদা দেয়।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers