ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

যে দেশে নদী ও নারীরা ছিল জমজ বোন

 ৩ মার্চ , ২০১৯, ১২:৪২:০৩

  • যে দেশে নদী ও নারীরা ছিল জমজ বোন

নদী মরে যায় শুকোলেই, এমন তো কোনও কথা নেই। সানী যুবায়েরের গান। শুনতে শুনতে মনে হচ্ছিল, সত্যিই তো। সেই যে কবেকার এক ছিপছিপে নদী ফেলে এসেছিলাম কোন গাঁয়ের বুকে, শুনেছি সে খুবই সরু আর রুগ্ন হয়ে কোনোমতে পরিচয় জানান দেয় বর্ষা এলে। কিন্তু এই যে ফাগুন মাস, এই স্নিগ্ধ বসন্তকালে সেই নদীটার পারে দাঁড়িয়ে থাকা শিমুল গাছ হতে একটা দুইটা ফুল গিয়ে নাকি পড়ছে নদীর মধ্যখানে। আর ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ভোঁ দৌড়ে চলে যাচ্ছে সেখানে। নিজ হাতে কুড়াচ্ছে। মানে নদীতে জল নেই এক ফোটাও। শুধুই এই গ্রামটাতে না। বাংলাদেশের প্রায় অধিকাংশ নদীই মরে গেছে, মরে যাচ্ছে বাকিরাও 

উজানের বাধায় জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের ৯টি আন্তর্জাতিক নদীর এখন বেহালদশা। শুকনো মৌসুমে মরা গাঙে পরিণত হয় অভিন্ন নদী জিনজিরাম, চিতলখালী, ভোগাই-কংস, নিতাই, সোমেশ্বরী, জাদুকাটা-রক্তি, জালুখালী, নায়াগাঙ ও উমিয়াম। অভিন্ন নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমতে থাকায় প্রায় মরে যাচ্ছে ময়মনসিংহ-জামালপুরের প্রধান নদ পুরাতন ব্রহ্মপুত্র। শুকনো মৌসুমে উজান থেকে আসা পানির পরিমাণ দিনকে দিন কমতে থাকায় নেত্রকোনা ও সুনামগঞ্জের হাওরগুলোতে পানি পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় স্রোতস্বিনীর নদী আত্রাই আজ শুকিয়ে নালা, কোথাও বা শুষ্ক বালি আবার কোথাও বা চলছে ধান চাষ। অথচ একসময় শুশুকের তাড়া খেয়ে বড় বড় বোয়াল, চিতল নদী থেকে লাফ দিয়ে চলমান নৌকায় উঠে আসার মতো ঘটনাও ঘটতো। আজ সেই নদী হারিয়েছে তার যৌবন, হারিয়েছে ঐতিহ্য সেই সাথে মৎস্য সম্পদ। এই নদী শুকিয়ে যাওয়ায় নৌ-পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে মাছ হারিয়ে জেলেরা হারিয়েছে তাদের উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পেশা, কৃষকেরা বঞ্চিত হয়েছেন জমিতে সেচ দেয়ার সুযোগ থেকে, স্থানীয় বাসিন্দারা বিশেষত গৃহবধূরা হারিয়েছেন গেরস্থালির নানা কাজ যেমন কাপড় কাচা, গোসল করার সুযোগ।একই চিত্র টাঙ্গাইল, গাজিপুর ও মানিকগঞ্জের দিকেও। এক সময় এইসব অঞ্চলের মানুষ দেশ-বিদেশে সওদা করতে যেতো। বিদেশ থেকে লঞ্চ এসে ভিড়তো এইসব অঞ্চলে। আজ সমস্তই মলাটবন্দী উপাখ্যানে আটকে আছে। 

শহুরে নদীগুলোর দিকে তাকালে আমাদের আর অনুভূতিই কাজ করে না। কারণ, শহরের নদীগুলোকে আমরা চিরতরে মেরে ঢাকার চারপাশ ঘিরে থাকা বুড়িগঙ্গা, বালু, তুরাগ ও শীতলক্ষ্যা দখল-দূষণে মৃতপ্রায়। হাজারীবাগের ট্যানারি শিল্প-কারখানাসহ অন্য শিল্পবর্জ্যে ভরাট হওয়ার পথে বুড়িগঙ্গা নদী। আর নাব্যতা সংকটে বালু নদেও নৌযান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ৩৬ কিলোমিটার ওই নদের ২২ কিলোমিটারই অবৈধ দখলে। নদটি ড্রেজিংও হয় না। তুরাগ নদ দখল ও দূষণে সরু খালে পরিণত হয়েছে। তবে বর্তমানে এই চার নদ বাঁচাতে ওয়াকওয়ে ও বনায়নের কাজ শুরু করেছে সরকারবর্তমানে দেশের অধিক বিপদাপন্ন ২৮টি নদীর মধ্যে ঢাকার চার নদী ছাড়াও সিরাজগঞ্জের বড়াল, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুরের ডাকাতিয়া, চট্টগ্রাম ও রাঙামাটির কর্ণফুলী, নেত্রকোনার মগরা ও সোমেশ্বরী, খুলনার ময়ূর, হবিগঞ্জের খোয়াই, রংপুরের ঘাঘট, সিলেটের পিয়াইন; চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার নবগঙ্গা, টাঙ্গাইলের লৌহজং, বান্দরবানের শঙ্খ, কক্সবাজারের বাঁকখালী, জামালপুর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জের পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, দিনাজপুরের পুনর্ভবা, বগুড়ার করতোয়া, সাতক্ষীরার আদি যমুনা, নওগাঁ ও জয়পুরহাটের ছোট যমুনা, কুড়িগ্রামের ধরলা ও সোনাভরি, বরিশালের সন্ধ্যা, ফরিদপুরের কুমার, নাটোরের নারদ ও যশোরের কপোতাক্ষ নদের নাম রয়েছে। তাছাড়া দক্ষিণাঞ্চলের ৬৪ নদীর মধ্যে ৩৭টি এখন অস্তিত্বহীন। নাব্যতা হারিয়েছে বরগুনা, নয়াভাংগনী, সাতলা, গণেশপুরা, তেঁতুলিয়া, লোহালিয়া ও ইলিশা নদী। তবে ৫০ বছর আগের মানচিত্র ধরে অভিযান চালালে নৌপথকে পুরনো চেহারায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers