ফিচার
  >
প্রাণী ও পরিবেশ

ঐতিহাসিক বনবিবির বটতলা

নিউজজি ডেস্ক ১১ জুলাই , ২০২০, ০৩:২৯:০০

  • ঐতিহাসিক বনবিবির বটতলা

ঢাকা : জায়গাটার পরিচিতি বনবিবির বটতলা নামে। বনজীবীদের বিশ্বাস, বাদাবনের রক্ষক বনবিবির সঙ্গে ওতপ্রোত সম্পর্ক আছে এই বিশাল বটটার। এটার পাতায় পাতায় মিশে আছেন বনবিবি। তিনি বনজীবীদের কাছে স্বহিমায় পূজিত লোকজ দেবী। 

বনবিবির জহুরানামায় বলা হয়েছে, তিনি বেরাহিম নামে এক আরবদেশী’র কন্যা। বেরাহিমের স্ত্রী গুলাল বিবি সতীনের প্ররোচনায় সুন্দরবনে পরিত্যক্তা হন। সেখানে তার গর্ভে বনবিবি ও শাহ জাঙ্গুলী জন্ম নেন। কালক্রমে তাদের শক্ত আসন তৈরি হয় সুন্দরবনের লোকজ বিশ্বাসে। এই বিশ্বাসের সঙ্গে সঙ্গে চলে আছে বাঘ রূপী আর এক মানুষ দেবতা দক্ষিণ রায় আর পরোপকারী গাজী পীরের নাম।

বলা হয়ে থাকে, দুই লোভী চাচা ধনে আর মনে তাদের ভাতিজা দু:খেকে বাঘরূপী দক্ষিণ রায়ের হাতে তুলে দেন। কিন্তু বনবিবির নির্দেশে তার ভাই শাহ জাঙ্গুলী শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফেরত পাঠিয়ে দেন। আর দক্ষিণ রায় ও গাজীকে ধরে নিয়ে যান বনবিবির কাছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে পেরে, দক্ষিণ রায়ের সঙ্গ ছেড়ে বনবিবির পক্ষ নেন গাজী।

যশোরের ব্রাক্ষ্মণনগরের রাজা মুকুট রায়ের অধীন ভাটির দেশের রাজা দক্ষিণ রায়ের সঙ্গে বনবিবির যুদ্ধ হয়। পরাজিত হয়ে সন্ধি করেন দক্ষিণ রায়। পরবর্তীতে মানুষের লোকজ বিশ্বাসে তৈরি হয় বনবিবির শক্ত ভিত। বনজীবীদের কাছে তিনি অরণ্যের দেবী রূপে পূজিতা। লোক বিশ্বাসে তিনি কখনো মুরগির রূপ ধারণ করেন, কখনো হন বাঘ।

সুশ্রী, লাবণ্যময়ী ভক্তবৎসলা এই দেবীর কারো ওপরে কোনো আক্রোশ নেই। বনের সমস্ত সৃষ্টিতে তার মমতা মাখা। তিনি ভালোবাসেন মানুষ ও প্রকৃতিকে। তিনি সুন্দরবনের জেলে, বাউয়ালি বা কাঠুরে আর মৌয়াল বা মধু সংগ্রহকারীদের রক্ষাকত্রী। তিনি হিন্দুর বনদুর্গা বা বনদেবীর মুসলমানি রূপ। 

বনজীবীদের ধারণা, বাঘ ও ভূত-প্রেতের মতো অপশক্তির ওপরে কর্তৃত্ব করেন বনবিবি। তাই গভীর মনে কাঠ, গোলপাতা, মধু ও মোম সংগ্রহ বা মাছ ধরতে যাওয়ার আগে বনবিবির উদ্দেশ্যে শিরনি দেন ক্ষীর বা অন্ন। তাকে নিয়ে মঙ্গল কাব্যের ঢংয়ে রচিত হয়েছে বনবিবির জহুরানামা নামে বিখ্যাত পুঁথিকাব্য। 

সাতক্ষীরা জেলা শহর থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার গেলেই বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের উপজেলা দেবহাটা। দেবহাটা উপজেলার প্রাণকেন্দ্রেই আছে হাজার বছরের বটবৃক্ষ। স্থানীয়ভাবে এই স্থানটিই বটতলা কিংবা বনবিবি তলা নামে পরিচিত। 

প্রায় সাড়ে তিন বিঘা জমির ওপর বিস্তৃত এই বটতলা। বিস্তৃত এই বটগাছের প্রকৃত গোড়া খুঁজে পাবেন না। কেননা গাছের শাখা-প্রশাখা শিকড় থেকে বিরাট রূপ ধারণ করেছে। 

ছবি ও তথ্য – ইন্টারনেট 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers