ফিচার
  >
ব্যক্তিত্ব

শুভ জন্মদিন বিমান উদ্ভাবক উইলবার রাইট

নিউজজি ডেস্ক ১৬ এপ্রিল , ২০২১, ১৮:৫৫:১৮

  • ছবি : ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: একটি কার্যক্ষম উড়তে সক্ষম বিমান কে আবিষ্কার করেছিলেন? এই প্রশ্নের উত্তরে হয়তো আমরা সবাই বলব ‘রাইট ব্রাদার্স’। না, তিনি কোনো একক ব্যক্তি নন। তারা ছিলেন আপন দুই ভাই উইলবার রাইট আর অরভিল রাইট। আজ ১৬ এপ্রিল উইলবার রাইট এর জন্মদিন। উইলবার রাইট ১৮৬৭ সালের ১৬ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা প্রদেশের মিলভিলে জন্মগ্রহণ করেন।

উইলবার রাইট তার ভাই অরভিল রাইটের সঙ্গে মিলে তিনি ১৯০৩ সালে ১৭ ডিসেম্বর প্রথম নিয়ন্ত্রিত, শক্তিসম্পন্ন, বাতাসের চেয়ে ভারী, সুস্থিত মানুষ-বহনযোগ্য উড়োজাহাজ তৈরি করেন। পরবর্তী দু’বছর তারা এ যন্ত্রটিকে অনড়-পাখাবিশিষ্ট উড়োজাহাজে রূপান্তরিত করেন। তাদের আবিষ্কৃত উড়োজাহজ নিয়ন্ত্রকের সাহায্যেই প্রথম অনড়-পাখাবিশিষ্ট উড়োজাহাজ নির্মাণ সম্ভবপর হয়।

যদিও তার বেশিরভাগ দূর্ঘটনা উইলবারকে হতাশায় নিমজ্জিত করেছিল। তিনি তার উচ্চ বিদ্যালয়ের ডিপ্লোমা পান নি, কলেজের জন্য পরিকল্পনা বাতিল করেছিলেন এবং তার পরিবারের বাড়িতে ফিরে গিয়েছিলেন । উইলবার এই সময়ের বেশিরভাগ সময় বাড়িতে কাটিয়েছিলেন, তাঁর পরিবারের লাইব্রেরিতে বই পড়া এবং তার অসুস্থ মায়ের যত্ন নেওয়া ছিল তাঁর সেই সময়ের কাজ। ১৮৯৮ সালে যক্ষ্মায় আক্রান্ত হয়ে মারা যানতাঁর মা সুসান কোয়ারনার রাইট।

উড়োজাহাজের উদ্ভাবন

সর্বদা বিভিন্ন যান্ত্রিক প্রকল্পে কাজ করা এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণা চালাতেন রাইট ভাতৃদ্বয়। জার্মান বিমানচালক অটো লিলিয়েনথলের গবেষণাকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেছিলেন। লিলিয়েন্থল যখন একটি গ্লাইডার দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল, তখন তারা দুই ভাই তাদের নিজস্ব পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। তাদের নিজস্ব নকশাটি বিকাশের জন্য তারা ইলবাোগ পেল। উইলবার এবং অরভিল তীব্র বাতাসের জন্য পরিচিত নর্থ ক্যারোলাইনা, কিট্টি হকের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন।

কীভাবে ফ্লাইটের জন্য ডানা ডিজাইন করবেন তা নির্ধারণের চেষ্টা করতেছিলেন। তখন তারা পর্যবেক্ষণ করেছেন যে পাখিগুলি ভারসাম্য এবং নিয়ন্ত্রণের জন্য তাদের ডানাগুলিকে ব্যবহার করে। এটিকে অনুকরণ করার চেষ্টা করে, “উইং ওয়ারপিং” নামে একটি ধারণা তৈরি করে। রাইটি ভাইয়েরা একটি গ্লাইডার যুক্ত করার সময় সেই যাদুুুুবিদ্যার সূত্রটি খুঁজে পেয়েছিল। ১৯০৩ সালের ১ ডিসেম্বর তারা বিদ্যুৎচালিত, নিয়ন্ত্রিত বিমানটি উড়াতে সফল হয়েছিল। উইলবার ৮৫২ ফুট দূরত্বে ৫৯ সেকেন্ডের জন্য বিমানে উড়েছিলেন।

এই গ্লাইডার বাতাসে ভারসাম্য রেখে সহজেই উড়তে সক্ষম হয়েছিল। গ্লাইডারের সাফল্যে অনুপ্রাণিত হয়ে দুই ভাই তৈরি করলেন দুই পাখাবিশিষ্ট ছোট বিমান। এ বিমানের সামনে ও পেছনের ভারসাম্য রক্ষার জন্য লাগানো হলো একটি এলিভেটর। মূলত এই এলিভেটরের সাহায্যে পাইলট কোনো বিমানকে নিয়ন্ত্রিত করতে পারবে। তারা আবার শুরু করলেন তাদের কর্মতৎপরতা। এবার তাদের মূল লক্ষ্য কীভাবে গ্লাইডারকে শক্তিচালিত করা যায়। বিভিন্ন ইঞ্জিন দিয়ে পরীক্ষা করার পর দেখা যায় একমাত্র পেট্রোলচালিত ছোট ইঞ্জিনই বিমান চালানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারে।

প্রতি তিন পাউন্ড ওজনের জন্য এক অশ্বশক্তিসম্পন্ন ইঞ্জিন প্রয়োজন। এজন্য অরভিল এবং উইলবার রাইট ইঞ্জিন তৈরির কাজে হাত দিলেন। কয়েক মাসের চেষ্টায় তৈরি হলো বিমানে ব্যবহারের উপযুক্ত ইঞ্জিন। প্রত্যাশিত সেই দিনটি এলো, ১৭ ডিসেম্বর ১৯০৩ সাল। তারপর সব শক্তি দিয়ে উড়ন্ত যানকে ঠেলতে শুরু করলেন।

তাদের সাফল্যটি সবাই প্রশংসা করেনি। সংবাদমাধ্যমের অনেকে, এবং সহযাত্রী বিশেষজ্ঞরাও রাইটদের দাবি বিশ্বাস করতে নারাজ ছিলেন। ফলস্বরূপ, উইলবার ১৯০৮ সালে ইউরোপের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিলেন। যেখানে তিনি আশা করেছিলেন যে জনসাধারণকে বোঝাতে পারবেন এবং বিমান বিক্রি করার ক্ষেত্রে আরও সাফল্য পাবেন। মানুষবাহী পূর্ণাঙ্গ প্লেন তৈরি করেছিলেন ১৯১০-১১ সালের দিকে। সেই বিমানে একটি পরিবার আকাশে উড়েছিল। এই বিমান যাত্রাই নতুন যুগের সূচনা করেছিল।

বিখ্যাত হয়ে ওঠার গল্প

সফলভাবে উড়োজাহাজ উড্ডয়নের পরপরেই রাইট ব্রাদার্সদের সুনাম ও সুখ্যাতি চারিদিকে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। ইউরোপ ও আমেরিকার বিভিন্ন গবেষণা সংস্থা তাদের গবেষণার কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। উড়োজাহাজের আরো উন্নীত করার জন্য উইলবার রাইট ফ্রান্সের একটি কোম্পানির সঙ্গে এবং অরভিল রাইট আমেরিকার সেনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। তারা দুই জনই একের পর এক সফলভাবে উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করতে সক্ষম হতে থাকেন এবং তাদের সুনাম ও সুখ্যাতি আরো দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে।

ফ্রান্সে উইলবার অনেক বেশি গ্রহণযোগ্য শ্রোতাদের খুঁজে পেয়েছিলেন। সেখানে তিনি অনেকগুলি পাবলিক ফ্লাইট করেছিলেন। কর্মকর্তা, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রপতিদের যাত্রা করিয়েছিলেন। রাইটস সেখানে বিশাল সেলিব্রিটি হয়ে ওঠেন। রাষ্ট্রপ্রধানদের দ্বারা আয়োজিত অনুষ্ঠানন অংশগ্রহন করতে থাকেন। ইউরোপে তাদের বিমান বিক্রি শুরু করেন।

এরপর ১৯০৯ সালের শেষের দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে আসে। ভাইয়েরা ধনী ব্যবসায়ী হতে শুরু করেন। ইউরোপ এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশে বিমানের চুক্তি পূরণ করে। আজ, রাইট ভাইয়েরা “আধুনিক বিমানের জনক” হিসাবে বিবেচিত হয়।

উইলবার এবং অরভিল সর্বদা তাদের উদ্ভাবনের জন্য অংশীদারিত্বের সম্নাননা নিয়েছিলেন। সারা জীবন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। পর্দার আড়ালে অবশ্য শ্রমের বিভাজন ছিল। উইলবার ছিলেন ব্যবসায়িক মানসিকতার। উইলবার পরে রাইট কোম্পানির সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

অন্তর্ধান

১৯১২ সালের ৩০ মে ওহাইয়োর ডেটনে, টাইফয়েড রোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন উইলবার রাইট। উইলবার রাইট বলতেন, “একই সঙ্গে একজন স্ত্রী ও একটি এরোপ্লেন রাখার মত সময় আমাদের কারোরই ছিল না।” উইলবার রাইটের মৃত্যুর পরেও অরভিল রাইট বিমানের উন্নয়নে কাজ করে যেতে থাকেন; তিনি রাইট অ্যারোনটিক্যাল ল্যাবরেটরিও স্থাপন করেছিলেন। অবশেষে ১৯৪৮ সালে অরভিল রাইটও ইহকাল ত্যাগ করেন।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers