ফিচার
  >
ব্যক্তিত্ব

আজ নাট্য অভিনেতা অমৃতলাল বসুর জন্মদিন

নিউজজি ডেস্ক ১৭ এপ্রিল , ২০২১, ১৩:৪২:১১

  • ছবি : ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: অমৃতলাল বসু ১৮৫৩ সালের ১৭ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাটে জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৬৯ সালে কলকাতার জেনারেল অ্যাসেমব্লিজ ইনস্টিটিউশন থেকে এন্ট্রাস পাস করে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন। দুই বছর ডাক্তারি পড়ার পর কাশি গিয়ে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় অধ্যয়ন শুরু করেন। এরপর কলকাতা এসে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা শুরু করেন। কিছুদিন পর চিকিৎসা ছেড়ে দিয়ে শিক্ষকতা শুরু করেন। শিক্ষকতা ভালো না লাগায় তা ছেড়ে দিয়ে পোর্টব্লেয়ারে সরকারি চিকিৎসক রূপে কিছুদিন দায়িত্ব পালন করেন। এটিও কিছুদিন পর ছেড়ে দিয়ে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। কিন্তু থিয়েটারের প্রতি প্রবল আকর্ষণের কারণে চাকরি ছেড়ে দিয়ে নাটক রচনা ও অভিনয়ে মনোনিবেশ করেন।

এভাবে আস্তে আস্তে নাটক রচনা ও থিয়েটারে অভিনয় তার একমাত্র ধ্যানজ্ঞান ও নেশা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যে অখ্যাত পুলিশ অফিসার অমৃতলাল বসু সেরা অভিনেতা, কুশলী মঞ্চাধ্যক্ষ, রসময় নাট্যকার ও আকর্ষণীয় সংগীত রচয়িতা হিসেবে দেশজোড়া ঈর্ষণীয় খ্যাতি অর্জন করতে সক্ষম হন। পুলিশের চাকরি ছেড়ে না দিলে বাংলা সাহিত্য হারাতো রসরাজকে আর অমৃতলাল হারাতেন যশরাজ।

অমৃতলাল বসুর প্রথম অভিনীত নাটক দীনবন্ধু মিত্রের ‘নীলদর্পণ’। তিনি অর্ধেন্দুশেখর মুস্তফির আনুকূল্যে ১৮৭২ সালে ন্যাশনাল থিয়েটারে মঞ্চস্থ নীলদর্পণ নাটকে সৈরিন্ধ্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেন। অভিনয় পেশায় জড়িত থাকার সুবাদে নাট্য সম্রাট গিরিশিচন্দ্র ঘোষের সঙ্গেও অমৃতলাল বসুর ঘনিষ্ঠতা গড়ে উঠে। অমৃতলাল বসুর প্রতিভা দূরদর্শী গিরিশচন্দ্র ঘোষের অনুভবে নাড়া দেয়। তারই আনুকূল্যে অমৃতলাল ১৮৭৫ সালে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটারের ম্যানেজার পদে নিযুক্ত হন। প্রিন্স অব ওয়েলসের কলকাতায় আগমন এবং একজন রাজভক্তের চাটুকারিতাকে ব্যঙ্গ করে রচিত ‘গজদানন্দ ও যুবরাজ’ প্রহসনে অভিনয় করার কারণে পুলিশ অমৃতলাল বসুকে গ্রেপ্তার  করে। নাট্য সমাজসহ বাংলার সাধারণ মানুষ এর তীব্র প্রতিবাদ করে। এ ঘটনার পর ব্রিটিশ সরকার ১৮৭৬ সালে ভারতে অভিনয় নিয়ন্ত্রণ আইন জারি করে। ১৮৮৮ সালে গ্রেট ন্যাশনাল থিয়েটার ভেঙে যায়। এরপর তিনি স্টার থিয়েটারে যোগ দেন এবং দীর্ঘ ২৫ বছর এর সঙ্গে যুক্ত থেকে বাংলা সাহিত্যের নাটক ও অভিনয় জগতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা করে যান।

রসরাজ মানে রসের রাজ। বাংলা সাহিত্যের বিখ্যাত নাটক্যকার অমৃতলাল বসু নাটক ও গান রচনা এবং অভিনয়ের মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ধারায় অনবদ্য এক রসঘন-আনন্দ ভুবন উপহার দিয়েছেন। তার প্রহসন ও নাটকে এত বেশি হাস্যরস থাকতো যে, তার নাটক দেখার জন্য লোকজন উপচে পড়তো। ব্যঙ্গ হাস্যাত্মক নাটক রচনা ও অভিনয়ের জন্য তিনি সুধী সমাজে রসরাজ উপাধিতে ভূষিত হন। অমৃতলাল বসু রচিত নাটক, প্রহসন ও নকশা জাতীয় গ্রন্থের সংখ্যা চল্লিশের অধিক। এগুলোর মধ্যে তিলতর্পণ (১৮৮১), বিবাহ বিভ্রাট (১৮৮৪), তরুবালা (১৮৯১), কালাপানি (১৮৯২), বাবু (১৮৯৩), বিমাতা (১৮৯৩), আদর্শ বন্ধু (১৯০০), অবতার (১৯০২), চোরের ওপর বাটপাড়ি প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

নাটক ছাড়াও তিনি আত্মজীবনী, কবিতা, উপন্যাস ও গল্প লেখিয়ে হিসেবেও বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন। পুরাতন প্রসঙ্গ, পুরাতন পঞ্জিকা ও ভুবনমোহন নিয়োগী অমৃতলাল বসুর লেখা আত্মস্মৃতিমূলক রচনা। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ২ জুলাই এ মহান নাট্যকার মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যু সংবাদ বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। মৃত্যুর দুদিন আগে অসুস্থ শরীরেরও তিনি চলচ্চিত্রে ‘বিবাহ বিভ্রাট’ নাটকে অভিনয় করেছেন; দুঃখের বিষয় তিনি তা শেষ করতে পারেননি।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers