ফিচার
  >
ভ্রমণ

ঘুরে আসুন কাতারের মরুভূমিতে উত্তেজনাকর ‘মাসফুর সিঙ্কহোল’

নিউজজি ডেস্ক ৯ জানুয়ারি , ২০২২, ১১:০১:০৫

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: কাতারি উপদ্বীপের পাথুরে মরুভূমির মাঝখানে হঠাৎ করে চোখে পড়বে একশ’ মিটার গভীর এক খাঁদ। দেখতে দৃষ্টিনন্দন এই গর্তটির নাম মাসফুর। এর পুরো নাম দাহল আল মাসফুর। এটি কাতারের মধ্যে অবস্থিত সবচেয়ে উত্তেজনাকর এবং প্রবেশযোগ্য সিঙ্কহোল। প্রাচীন এই গর্তটি কাতারে আবিষ্কৃত সিঙ্কহোলের মধ্যে সবচেয়ে গভীর বলে বিশ্বাস করা হয়।

রাজধানী দোহা থেকে পশ্চিমে মাত্র এক ঘণ্টার দূরত্বে মূল সড়কের পাশে অবস্থিত মাসফুর। যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় ভ্রমণের জন্য একেবারেই আদর্শ জায়গা। এই সিঙ্কহোল ৪০ মিটার গভীর। কাতারে এটিই সবচেয়ে গভীর এবং বড় সিঙ্কহোল। এটি আঁশযুক্ত জিপসাম দিয়ে গঠিত, কোথাও কোথাও ম্লান এবং কোথাও অন্যজাগতিক আলো দেখা যায়।

ধারণা করা হয় এটি মধ্য-প্লাইস্টোসিন যুগে প্রায় ৩ লাখ ২৫ হাজার থেকে ৫লাখ বছর আগে গঠিত হয়। এটি চাদের মতো আভা নির্গত করার জন্য বিখ্যাত। যার কারণ মূলত জিপসাম। একত্রে জমা হওয়া জিপসামকে মরুভূমির গোলাপ বলা হয়।

দাহল আল মাসফুর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ৪০ হাজার কাঠের প্যানেল দিয়ে কাতারের জাতীয় জাদুঘর (এনএমওকিউ) তৈরি করা হয়।

মাসফুরের প্রবেশ পথটি বেড়া দিয়ে সুরক্ষার জন্য ঘিরে রাখা হয়েছে। বালুময় সিঙ্কহোলে প্রবেশ করা তুলনামূলক সহজ। তবে অসমতল পথ দিয়ে যেতে ভ্রমণকারীদের সতর্ক থাকতে হয়। রয়েছে পাথরে ঘুরে বেড়ানো পোকামাকড়ের ভয়ও।

সিঙ্কহোলটির নিচে নামা শুরু করলেই আলো কমতে থাকে। তবে মৃদু বাতাস নিচে নামার কষ্ট কমিয়ে দেয়। এতে বড় উদ্ভিদ কম হলেও পাথরের গায়ে বাসা তৈরি করে থাকে পাখিরা।

এ বিষয়ে কাতার ন্যাচারাল হিস্টরি গ্রুপের সিনিয়র ইকোলোজিস্ট ড. চ্যাটজেফেমিউ বেশ কয়েক বার মাসফুর সিঙ্কহোল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, এতে প্রবেশের সময় সুদূর অতীতের জানালা খুলে যায়। তিনি বলেন, যদি জানেন কীভাবে অস্বাভাবিক ভূমিবিন্যাস গঠন হয়, তাহলে মনে হবে যেন ভূতাত্বিক সময়ের পেছনে যাচ্ছেন; বর্তমানে দেখতে পাচ্ছেন পানি কীভাবে প্রবাহিত হচ্ছে আর পাথুরে ভূমিতে তৈরি হচ্ছে গর্ত। সম্প্রতি প্রাকৃতিক ঘটনা সম্পর্কে একটি বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট করে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন।

এতে বলা হয়, এটি মাসফুর, একটি বিশাল প্রাচীন গুহা। যাকে বিশ্বাস করা হয় কাতারের সবচেয়ে গভীর এবং দীর্ঘ সিঙ্কহোল হিসেবে। এ সিঙ্কহোলের বালুকাময় গভীরতায় পৌছানো তুলনামূলক সহজ, তবে দর্শনার্থীদের এবরো থেবরো পথ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া উচিত। পাথর এবং পোকামাকড় থেকে বাঁচতে হাইকিং বুট আবশ্যক।

নিউজজি/এস দত্ত/নাসি 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ