জীবনযাত্রা

কোভিড পজিটিভ নয়, ‘সেক্স পজিটিভ’ হন

নিউজজি ডেস্ক জানুয়ারী ১২, ২০২২, ১৬:০১:৫৫

  • ইন্টারনেট থেকে

ঢাকা: এই আধুনিকতার যুগেও যৌনতা নিয়ে ঢাক ঢাক গুড়গুড়ের অন্ত নেই। একটি বড় সংখ্যক মানুষ এখনও জনসমক্ষে যৌনতা ও যৌন জীবনের ভাল মন্দের আলোচনা হতে দেখলে তেড়ে আসেন রে রে করে। ফলে যৌন জীবন সম্পর্কে সঠিক ধারণা অধরা থেকে যায় অনেকের কাছেই। সুস্থ যৌন জীবন সামগ্রিক ভাবেই ব্যক্তিজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবুও লোকলজ্জার ভয়ে যৌন জীবন সংক্রান্ত সুস্থ আলোচনা থেকে শত যোজন দূরে থাকেন অনেকেই। জানুন এই নিষিদ্ধতার গন্ধ সরিয়ে কী ভাবে হতে হবে ‘সেক্স পজিটিভ’।

প্রথমেই জানা দরকার ‘সেক্স পজিটিভিটি’ বস্তুটি আদপে কী। যৌনতার প্রতি একটি সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গি রাখার নামই হল ‘সেক্স পজিটিভিটি’। ইন্টারনেটের দৌলতে অনেকেই ভাবেন, এর অর্থ সর্ব ক্ষণ যৌনতার আলোচনা করা বা যৌন মিলনের কথা প্রচার করা। এই ধারণা একেবারেই সঠিক নয়। বরং ইতিবাচক ভঙ্গিতে যৌন স্বাস্থ্যের আলোচনা, পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে যৌন জীবন সম্পর্কিত কথাবার্তা বলা বা কারও যৌন জীবনে সমস্যা তৈরি হলে সংবেদনশীলতার সঙ্গে সেটি শোনা ও সমাধানের চেষ্টা করা ইত্যাদিই আসলে ‘সেক্স পজিটিভিটি’।

১। প্রথমেই বুঝতে হবে যৌনতা ও যৌন জীবন কোনও নিষিদ্ধ বিষয় নয়। সুস্থ ভাবে যৌনতার কথা আলোচনা করলে যাঁরা বাঁকা চোখে তাকান, তাঁদের নীতি পুলিশিতে এই কথাটি মিথ্যে হয়ে যায় না। ভালবাসার প্রকাশেই হোক বা প্রজননের চাহিদায়, যৌন মিলন আর পাঁচটি জৈবিক প্রক্রিয়ার মতোই স্বাভাবিক। নিজেও এই কথাটি মেনে চলুন আর যাঁরা এ কথা মেনে চলছেন তাঁদেরও সম্মান করুন।

২। দ্বিধা কাটাতে প্রথমে কথা বলতে শুরু করুন নিজের বন্ধুবৃত্তের মধ্যেই। দেখবেন কথা বলতে বলতেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে গোটা ব্যাপারটি। কোন কথাটি বলার আর কোনটি নয় তৈরি হবে সেই ধারণাও। প্রেমিক, প্রেমিকা বা জীবনসঙ্গীর সঙ্গেও কথা বলুন নিজেদের যৌন চাহিদা, ইচ্ছা অনিচ্ছা নিয়ে।

৩। পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখুন। প্রত্যেকের যৌন চাহিদা আলাদা হতে পারে। বেশি বা কম কিংবা একেবারেই যৌন মিলনের ইচ্ছে না থাকাও অসম্ভব কিছু না। সম্পর্ক বা বিবাহের ক্ষেত্রে সঙ্গীর যৌন ইচ্ছাগুলি মন খুলে শোনা ও সেগুলিকে সম্মান করাও ‘সেক্স পজিটিভিটির’ একটি ধাপ।

৪। যৌনতা ও অশ্লীলতার পার্থক্য বুঝতে শিখুন। সুস্থ যৌন চিন্তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এটি। নেট মাধ্যমে আসা কুরুচিকর বার্তাগুলি দেখে হেসে ওঠা বা মাঝরাতে অশ্লীল বার্তা পাঠানোও বিকৃতির লক্ষণ। ‘সেক্স পজিটিভিটি’ একেবারেই এর বিপরীত একটি বিষয়।

৫। মুক্ত করুন মন। সুস্থ যৌন চিন্তা না থাকার সঙ্গে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সম্পৃক্ত হয়ে থাকে। যৌনতা নিয়ে কথা বলাকে নিষিদ্ধ ভাবা বাড়তে থাকলে পাল্লা দিয়ে বাড়বে যৌন অপরাধ, পুরুষতান্ত্রিকতা, বিকৃতকাম, হোমোফোবিয়া ও লিঙ্গবৈষম্যের মতো বিষয়গুলি। কখনও খেয়াল করে দেখেছেন কি যে কোনও ভাষার অধিকাংশ প্রচলিত খেউড় বা গালিগুলি আসলে নারীদের প্রতি যৌন হিংসাকে প্রতিফলিত করে? তাই এই নাগপাশ থেকে নিজেকে বার করতে সচেষ্ট হন।

নিউজজি/এসজেড

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ