জীবনযাত্রা
  >
স্বাস্থ্য

দৈনন্দিন জীবন ও রোগ প্রতিরোধে ভিনেগারের ব্যবহার অতুলনীয়

নিউজজি ডেস্ক ২৫ মার্চ , ২০২১, ১৮:৪৩:৪৬

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: ভিনেগার নামটি আমাদের কারো কাছেই অপরিচিত নয়। আমাদের রান্নাঘরের প্রয়োজনীয় উপাদান গুলির মধ্যে অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হলো ভিনেগার। রান্নাঘরে ব্যবহারের পাশাপাশি আমাদের ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রেও এর প্রচুর ব্যবহার রয়েছে। মূলত আমাদেরকে সুন্দর করে তুলতে ত্বক পরিচর্যায় ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। ভিনেগার মূলত অ্যাসিটিক অ্যাসিড এবং জলের মিশ্রণে তৈরি একটি উপাদান। এটি সাধারণত রান্নাবান্নায়, স্যালাড প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। মূলত বিভিন্ন ফলের রস এবং অ্যালকোহল সহযোগে ভিনেগার তৈরি করা হয়। একটি রাসায়নিক তরল যা ৫-২০% এ্যসিটিক এসিড, পানি ও সামান্য পরিমান অন্যান্য রাসায়নিক পদার্থের সমন্নয়ে গঠিত।

মূলত আমরা দু ধরনের ভিনেগার দেখে থাকি, সাদা রংয়ের ভিনেগার এবং অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার। ভিনেগার বিভিন্ন রকম ফলের সমন্বয়ে তৈরী হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে অ্যাপেল, খেজুর, টমেটো, নাশপাতি, নারকেল এসব ব্যবহার করা হয়। যে ফলের রস দিয়ে ভিনেগার তৈরি করা হয় সেই ফলের নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়।

ভিনেগার এর উপকারিতা:

ডায়াবেটিস নিরাময়ে

ডায়াবেটিস রোগের সমস্যায় যারা ভুগছেন তারা খাদ্যতালিকায় অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। তবে তা নির্দিষ্ট মাত্রায় ব্যবহার করা উচিত। মূলত টাইপ টু ডায়াবেটিস রোগে যারা ভুগছেন তারা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার গ্রহণ করতে পারেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

উষ্ণ গরম জলের মধ্যে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নেবেন।এটি রাতে শুতে যাওয়ার আগে কিংবা দুপুরে খাবার একঘন্টা পরে খেয়ে নেবেন। এটি প্রত্যেকদিনই খেতে পারেন।তবে মাথায় রাখবেন যদি এটি খাওয়ার পরে গলা জ্বালা, বুক জ্বালার মতো সমস্যা দেখা দেয় সেক্ষেত্রে এর পরিমাণ কমিয়ে দেবেন কিংবা চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করবেন।

ওজন কম করতে

ওজন কম করার ক্ষেত্রে সাধারণত অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা হয়ে থাকে। এটির মধ্যে আম্লিক উপাদান বেশি থাকায় এটি শরীরের মেদ দ্রুত কমাতে সহায়তা করে। যার ফলে টানা ১৫ দিন যদি অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খাওয়া যেতে পারে সেক্ষেত্রে শরীরের পরিবর্তনটা চোখে পড়বে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

প্রত্যেকদিন সকালে উষ্ণ গরম জলে ২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খালি পেটে এটি গ্রহণ করবেন। দৈনিক এটি ব্যবহার করার ফলে পেটের মেদ কমার পাশাপাশি শরীরের অস্বাভাবিক ওজন হ্রাস পাবে।

কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে

বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, হৃদযন্ত্রের সমস্যা কমানোর পাশাপাশি শরীরের কোলেস্টেরল লেভেলকে কম করতে সহায়তা করে থাকে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার।

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এর মধ্যে থাকা পেকটিন নামক উপাদান শরীরের কোলেস্টেরল কম করতে সহায়তা করে। যে কারণে চিকিৎসকেরা বিশ্বাস করেন শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ কম করতে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে। মূলত হাই ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা হার্ট অ্যাটাক এবং স্ট্রোকের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে যার ফলে শরীরে উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে তা হৃদরোগের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার কে যেকোনো সালাদের সাথে মিশিয়ে খাদ্য তালিকায় যোগ করুন। এক্ষেত্রে পরিমাণ যেন ১ থেকে ২ টেবিল চামচ হয় এবং সালাডের পরিমাণ যেন একবার সমান হয়। এটি প্রত্যেকদিন দুপুর এবং রাতের খাবার খাবার পরে গ্রহণ করতে পারেন। তবে দিনে দুই বারের বেশি এটি গ্রহণ করবেন না।

ত্বকের বার্ধক্য কম করতে

দৈনন্দিন দূষণ, মেকআপ এর ব্যবহার, রোদের তাপ, এসবের কারণে বয়স না বাড়লেও ত্বকের বয়স যত বাড়তে থাকে ত্বকের মধ্যে রিংকেল দেখা দিতে থাকে। যার ফলে মুখ দেখে বয়স্ক মনে হয়। এক্ষেত্রে ত্বককে পুনরুজ্জীবিত করতে ভিনেগার ব্যবহার করা হয় এক্ষেত্রে ত্বক পরিচর্যায় মূলত অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে এক ধরনের হাইড্রোক্সি এসিড রয়েছে যা ত্বকের মৃত কোষ গুলিকে কম করে বার্ধক্যজনিত দাগকে হালকা করতে সহায়তা করে। এছাড়া নিয়মিত যদি অল্প পরিমাণে ভিনেগার নিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায় সে ক্ষেত্রে ত্বকে বলিরেখা এবং সূক্ষ্ম রেখার মতো সমস্যাগুলি দূর হবে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এবং জল ভালোভাবে মিশিয়ে নিন। এবার এই মিশ্রণটি স্প্রে বোতলে নিয়ে যেসব জায়গায় বলিরেখা দেখা দিয়েছে সেই খানে স্প্রে করুন অথবা তুলোয় করে নিয়ে সেই জায়গাতে তুলনা লাগিয়ে রাখতে পারেন। এরপর ১০-১৫ মিনিট রেখে সাধারণ জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। দিনে দুবার এটি করুন।

হৃদরোগের সমস্যায়

হঠাৎ করে ওজন বৃদ্ধি কিংবা কোলেস্টেরল বৃদ্ধি হৃদরোগের সমস্যা এবং স্ট্রোক এর মতন সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে। যে কারণে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি শরীরে কোলেস্টেরলের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায় এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় যদি ভিনেগার ব্যবহার করা যায় তাহলে হৃদরোগের সমস্যা দূর হয়। এক্ষেত্রে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এর মধ্যে থাকা আম্লিক উপাদান গুলি হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন ?

এক গ্লাস উষ্ণ গরম জলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে প্রতিদিন রাতে শুতে যাওয়ার আগে খেয়ে নিন। এটি হৃদরোগের সমস্যার পাশাপাশি শরীরের অনেক সমস্যা কম করতে সহায়তা করবে। তবে অবশ্যই এটি ব্যবহার করার

অ্যালজাইমার রোগ নিরাময়ে

অ্যালজাইমার রোগ নিরাময়ের ক্ষেত্রে সরাসরি অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এর কোনো ভূমিকা না থাকলেও আংশিক এর ব্যবহার এক্ষেত্রে কার্যকরী। অ্যালজাইমার রোগ কে অনেকাংশে টাইপ টু ডায়াবেটিস বলা যেতে পারে।

এক্ষেত্রে মস্তিষ্ক এবং শরীরের অন্যান্য টিস্যু গুলিতে যে ইনসুলিন প্রক্রিয়া চলে সেক্ষেত্রে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এটিকে শরীরের রক্ত থেকে সুগারের পরিমাণ কম করতে সহায়তা করে। যে কারণে যদি স্বল্প পরিমাণে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার গ্রহণ করা যায় সেক্ষেত্রে রক্তে শর্করার মাত্রা কম হতে পারে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

  • আলজাইমার রোগীরা খাদ্যতালিকায় ভিনেগারকে রান্নায় ব্যবহার করতে পারেন।
  • রান্নায় ব্যবহার করার ক্ষেত্রে সাদা রঙের সাধারণ ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন।
  • এছাড়াও সালাড কিংবা শরবতে স্বল্প পরিমাণে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন।
  • অথবা উষ্ণ গরম জলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে খাদ্য তালিকায় রাখতে পারেন।
  • দুপুরে খাওয়ার পরে কিংবা রাতে খাবার পরে গ্রহণ করতে পারেন।

তবে সবটাই ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী কেননা প্রত্যেকটা মানুষেরই শারীরিক চাহিদা আলাদা থাকে, সে ক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করার আগে এবং আপনি কি কি ওষুধ খাচ্ছেন সেই সমস্ত বিষয় বিবেচনা করে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার গ্রহণ করা উচিত।

কিডনির সমস্যায়

কিডনির মধ্যে পাথর হওয়ার সমস্যা কোন নতুন বিষয় না। মূলত সঠিকভাবে যদি জল খাওয়া না হয় এবং যথাযথ পরিমাণে যদি মূত্র শরীর থেকে বের না হয় তখনই কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে অনেকাংশে অত্যধিক পরিমাণে জল গ্রহণের ফলেও কিডনির সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তবে দেখা গিয়েছে মূলত যখন পাকস্থলীতে অ্যাসিডের সমস্যা বৃদ্ধি পায় তখনই কিডনির পাথরের সমস্যা দেখা দেয়। এক্ষেত্রে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। এটি শরীরের খাদ্যকে যথাযথভাবে হজম করতে সহায়তা করে এবং কিডনির সমস্যা দূর করে।চিকিৎসকেরাও কিডনির সমস্যার ক্ষেত্রে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগারের ব্যবহার সমর্থন করেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

কিডনিতে পাথরের সমস্যা দেখা দিলে নিয়মিত অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার পান করার অভ্যাস করুন। এটি শরীরের ভেতর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়তা করবে। তবে এটি সরাসরি কখনোই গ্রহণ করবেন না। সবসময় একগ্লাস জলে ১ থেকে ২ টেবিল চামচ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে গ্রহণ করবেন। কেননা এটি সরাসরি গ্রহণ করলে দাঁতে এর খারাপ প্রভাব পড়ে।

এছাড়াও আপনি যদি এটিকে একটু স্বাদ পরিবর্তন করে খেতে চান সেক্ষেত্রে জলে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার মেশানোর পাশাপাশি ১ টেবিল চামচ মধু যোগ করতে পারেন। এটি এতে আরও স্বাদ বাড়িয়ে তুলবে।

ক্যান্সার নিরাময়ে

অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এর পিএইচ মাত্রা খানিকটা বেশি হওয়ায় এটি খাদ্য উপাদানের ইঙ্গিত দেয়। যা ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা যেতে পারে। ইঁদুরের ওপর করা গবেষণায় দেখা গিয়েছে, অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার এর মধ্যে থাকা অ্যাসিটিক অ্যাসিড ক্যানসারের কোষ কে ধ্বংস করতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে কিছু প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে এই অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার কিছুটা প্রতিরক্ষামূলক সুবিধা দিতে পারে, যে কারণে যারা ক্যান্সারের সমস্যায় ভুগছেন তারা দৈনিক খাদ্য তালিকা কিছু পরিমাণ অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। এর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে সেগুলো দেখে, বিবেচনা করা অবশ্যই এটি গ্রহণ করবেন।

মুখের চিকিৎসায় ভিনেগার

ভিনেগার এর মধ্যে অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকার কারণে এটি দাঁতের এনামেল গুলোকে ক্ষতি করে এবং দাঁতের ক্ষয় বৃদ্ধি করে। যে কারণে সাদা ভিনেগার কিংবা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার যেটি আমরা ব্যবহার করি না কেন এটির পরিমাণ যদি বেশি হয়ে যায় সেক্ষেত্রে দাঁতের ক্ষতি হতে পারে। এমনকি দাঁতে ক্ষতের সৃষ্টি করতে পারে। তবে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, আমরা যদি দৈনিক নির্দিষ্ট মাত্রায় অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার গ্রহণ করি সেটি দাঁতের এনামেল কে শক্তিশালী করে তুলতে সহায়তা করে অর্থাৎ এটি দাঁতকে বাইরে থেকে সুরক্ষা প্রদান করতে পারে।

এছাড়া অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করে আমরা দাঁত পরিষ্কার করতে পারি। দাঁতের সাদা রঙ ফিরিয়ে আনতে পারি। তবে এটির অত্যধিক পরিমাণে ব্যবহার দাঁতে ক্ষতির কারণ হতে পারে। তাই এটি ব্যবহারের আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিন।

পায়ের গন্ধ দূর করতে

সারাদিন একনাগাড়ে স্কুলে কিংবা অফিসে জুতো পড়ে থাকার কারণে আমাদের মধ্যে অনেকেরই পায়ে দুর্গন্ধের মতন সমস্যা দেখা দিতে পারে। মূলত যাদের ত্বকের পিএইচ মাত্রা কম থাকে এরা ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি প্রতিরোধ করতে পারে না।যার ফলস্বরূপ টানা জুতো পড়ে থাকলে পায়ে দুর্গন্ধ হয়। এই দুর্গন্ধ কম করতে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করা যেতে পারে। বয়স্ক এবং ছোট সকলেই এটি ব্যবহার করতে পারে।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

একটি তোয়ালেকে কিংবা মোটা মুখ মোছার তুলো গুলোকে অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ভিজিয়ে একটা ফ্রিজে মুখ বন্ধ করা ব্যাগে সংরক্ষণ করে রাখুন। বাইরে থেকে এসে প্রতিদিন এই তুলো দিয়ে পা ভালো করে মুুছে নিন।

পা ফাটার সমস্যা কম করতে

আমাদের মধ্যে অনেকেরই সারাবছর কমবেশি পা ফাটার সমস্যা চলতেই থাকে। এদিকে ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে শীত আসার আগেই পা ফাটার সমস্যা সবারই শুরু হয়ে গিয়েছে। শীতকাল মানেই পা ফেটে চৌচির। ফাটা জায়গা দিয়ে রক্ত বেরোনো। এবার শীত আসার আগেই পা ফাটার সমস্যা কে নিরাময় করুন সাদা ভিনেগার এর সাহায্যে। জেনে নিন তাহলে কিভাবে এটি ব্যবহার করবেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

ফাঁটা গোড়ালির সমস্যাকে কমানোর জন্য দুটি পদ্ধতি রয়েছে। প্রথম পদ্ধতি হালকা গরম জলে সাদা ভিনেগার ভালো করে মিশিয়ে নিন। এবার এতে কুড়ি পঁচিশ মিনিট এর জন্য পা ভিজিয়ে রেখে তারপর পিউমিক স্টোন দিয়ে পায়ের মৃত কোষ গুলোকে তুলে ফেলুন। দ্বিতীয় পদ্ধতিতে এক কাপ দই এর সাথে সাদা ভিনেগার মিশিয়ে নিন। এবার এটি পায়ের ফাটা অংশে লাগিয়ে রাখুন। কয়েক মিনিটের জন্য রেখে দিয়ে তারপর সেই জায়গাটা পিউমিক স্টোন দিয়ে ঘষে তুলে ফেলুন। দিনে দুবার এটি করার পর পা ধুয়ে ভালো ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে রাখুন। দেখবেন চার পাঁচ দিন পর থেকেই পরিবর্তন আসছে।

ব্রণের সমস্যা কম করতে

ভিনেগার এর মধ্যে থাকা আম্লিক উপাদান গুলি ব্রণ গুলিকে শুকাতে সহায়তা করে। এছাড়াও ভিনেগার এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যগুলো, যা ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া কে দূর করতে সহায়তা করে। তাহলে জেনে নিন কিভাবে ভিনেগার ব্যবহার করে ব্রণের সমস্যার সমাধান করবেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

উপাদানগুলি ভাল করে মিশিয়ে একটি স্প্রে বোতলে সংরক্ষণ করুন।এবার দিনে এক থেকে দুই ঘন্টা অন্তর এই মিশ্রণটি মুখে স্প্রে করতে থাকুন। দেখবেন দুদিনেই ব্রণ সংকুচিত হতে থাকবে এবং ব্রণের সমস্যা কম হতে থাকবে। ব্রণের কারণে হওয়া দাগগুলো ধীরে ধীরে এটি ব্যবহারের ফলে কমে যাবে।

শরীরের দুর্গন্ধ কমাতে

আমাদের মধ্যে অনেকের শরীরে ঘামের সমস্যা দেখা দেয়। শরীরে ঘামের সমস্যা অত্যধিক হওয়ার কারণে ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধে, যার ফলস্বরূপ গায়ের থেকে দুর্গন্ধ বের হয়।

ভিনেগার এর মধ্যে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং এন্টিফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যগুলো, যা এই গন্ধ জনিত ব্যাকটেরিয়াগুলো বিরুদ্ধে লড়াই করে শরীরের গন্ধ কমাতে সহায়তা করে। এক্ষেত্রে দৈনন্দিন স্নানের জলে আপনি সাদা ভিনেগার কিংবা অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার ব্যবহার করতে পারেন। জেনে নিন কিভাবে ব্যবহার করবেন।

কিভাবে ব্যবহার করবেন?

এক বালতি জলে অর্ধেক অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার বা সাদা ভিনেগার মিশিয়ে নিয়ে স্নান সেরে ফেলুন। দিনের শুরুতে এবং রাতে শুতে যাওয়ার আগে এটি ব্যবহার করুন। দেখবেন কয়েক দিন ব্যবহারের ফলে শরীর থেকে দুর্গন্ধ কমে যাবে।কেননা ভিনেগার দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করে ফেলবে যার ফলে নতুন করে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হবে না।

ভিনেগারের পুষ্টি মূল্য

আমরা ইতিমধ্যেই ভিনেগার এর বিভিন্ন গুনাগুন গুলি সম্পর্কে জেনে নিয়েছি। ভিনেগার আমাদের রান্নায় ব্যবহার হওয়ার পাশাপাশি ত্বক ও চুলের পরিচর্যাতেও সমান ভাবে ব্যবহার হয়ে থাকে। ইতিমধ্যেই এর ব্যবহার গুলো আমরা জেনে নিয়েছি। আসুন এবার জেনে নিন ভিনেগার এর মাধ্যমে কি কি পুষ্টি উপাদান গুলি আমরা পেতে পারি।

প্রতি ১০০ গ্রাম ভিনেগার এর মধ্যে আমরা পাই –

  • ক্যালরি 18%
  • মোট ফ্যাট 0 গ্রাম
  • কোলেস্টেরল 0 মিলিগ্রাম
  • সোডিয়াম 2 মিলিগ্রাম
  • পটাশিয়াম 2 মিলিগ্রাম
  • মোট কার্বোহাইড্রেট 0 গ্রাম
  • প্রোটিন 0 গ্রাম।

ভিনেগার এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

একটা জিনিস মাথায় রাখবেন সব জিনিসের যেমন ভালো গুনাগুন আছে, তেমনি খারাপ গুনাগুন ও থাকে। তাই ভিনেগার এর ব্যাতিক্রম নয়। ভিনেগার এর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই ভিনেগার ব্যবহার করার আগে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন –

  • ভিনেগার কখনো সরাসরি ত্বকে লাগাবেন না। এটি ত্বকে জ্বালার সৃষ্টি করতে পারে। তাই ভিনেগার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই তা জল দিয়ে পাতলা করে নেবেন।ত্বকে লাগানোর আগে সবসময় কানের পিছনে কিংবা হাতের বাহুতে কয়েক ফোঁটা লাগিয়ে পরীক্ষা করে দেখে নেবেন তাতে আপনার ত্বকে কোন জ্বালা হচ্ছে, কিনা যদি তা হয় তাহলে ভিনেগার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন।
  • আপনি যদি ডায়াবেটিস, পেপটিক আলসারের সমস্যায় ভুগে থাকেন তাহলে ভিনেগার সরাসরি খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। কেননা ভিনেগার অম্লীয় প্রকৃতির সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।
  • গর্ভবতী, প্রসূতি মহিলাদের ক্ষেত্রে ভিনেগার ব্যবহার করার আগে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করুন।
  • ভিনেগার ব্যবহার করার আগে যেকোনো ধরনের শক্তিশালী গন্ধযুক্ত সুগন্ধি সাবান ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকুন। কারণ এটি আরও ত্বকে জ্বালার সৃষ্টি করতে পারে।
  • অ্যাপেল সাইডার ভিনেগার খুশকির সমস্যা থেকে মুক্তি দেয় কিন্তু এর অধিক ব্যবহারের ফলে চুল ভঙ্গুর হয়ে উঠতে পারে। তাই অতিরিক্ত মাত্রায় ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
  • আপনার ত্বকের যদি কোনো অসুস্থতা থাকে সে ক্ষেত্রে যদি কোন নির্ধারিত ঔষধ ব্যবহার করেন সে ক্ষেত্রে ভিনেগার ব্যবহার করার আগে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। কেননা এতে আপনার ওষুধের সাথে ভিনেগার বিক্রিয়া করার ফলে হিতে বিপরীত হতে পারে।

সর্বদা সেরা ফলাফল পাওয়ার জন্য জৈব কিংবা ঘরে তৈরি ভিনেগার ব্যবহার করুন।

 

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers