অন্যান্য
  >
বিশ্বকাপ

ইতিহাস রচনার পরও তৃপ্ত নন মোস্তাফিজ

শামীম চৌধুরী, লন্ডন থেকে ৬ জুলাই , ২০১৯, ১৮:৪৪:১০

  • ইতিহাস রচনার পরও তৃপ্ত নন মোস্তাফিজ

২০১০ সালে লর্ডস টেস্টে সেঞ্চুরির শুন্যে দিয়েছিলেন লাফ তামিম। চড়ামূল্যে গ্যাটি ইমেজ বিক্রি করেছে সেই ছবিটি। ওই টেস্টে পেস বোলার শাহাদত হোসেন রাজিব পেয়েছেন ইনিংসে ৫ উইকেট। তাতেই লর্ডসের অনার্স বোর্ডে খোদাই করে লেথা হয়েছে এই দু'জনের নাম।

লর্ডসের জন্মলগ্ন থেকে প্লেয়ার্স প্যাভিলিয়নে অনার্স বোর্ডটা ছিল শুধুই এই ভেন্যুর টেস্ট পারফরমারদের। এ বছর থেকে ওয়ানডে পারফরমারাও হয়েছেন যুক্ত। শুক্রবার লর্ডসে ৫ উইকেট শিকারে মোস্তাফিজুরের নামটি লেখা হবে খোদাই করে।

কিন্তু অনার্স বোর্ডে খোদাই করে লেখাটা যে দেখতে পারছেন না আপাতত: মোস্তাফিজ। শনিবার রাতের ফ্লাইটেই যে দলের সঙ্গে চলে যেতে হচ্ছে এই কাটার মাস্টারকে। ২০২৩ সাল পর্যন্ত আইসিসি'র এফটিপিতে ইংল্যান্ডে কোন ম্যাচ নেই বরাদ্দ। তাহলে তো অনার্স বোর্ড দর্শনের অপেক্ষা বাড়ারই কথা এই বাঁ হাতি পেস বোলারের।তাতেও ছটফট করছেন না মোস্তাফিজ-‌'আবার যখন আসব, তখন না হয় দেখব।'

লর্ডসের অনার্স বোর্ডে নাম ওঠানোর দিনে দারুন সব রেকর্ড করেছেন এই বাঁ হাতি কাটার মাস্টার। বিশ্বকাপের এক আসরে একাধিক ইনিংসে ৫টি করে উইকেটের রেকর্ডে তিন কৃতিমানের সঙ্গে গেছেন ঢুকে। 

১৯৭৫ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার গিলমোর,২০০৩ বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ড্রেকস,অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক চলমান বিশ্বকাপে এমন রেকর্ড করেছিলেন শুধু। সেই রেকর্ডটা বাড়িয়ে নিলেন মোস্তাফিজ। তবে অস্ট্রলিয়ার বাঁ হাতি পেস বোলার গিলমোর ছাড়া কারো নেই উপর্যুপরি ২ ম্যাচে ৫ উইকেটের রেকর্ড।১৯৭৫ বিশ্বকাপে লিডসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এবং পরের ম্যাচে লর্ডসে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫ উইকেটের ইনিংসে সেই রেকর্ডটির একমাত্র মালিক ছিলেন গিলমোর। গিলমোরকে সেই রেকর্ডে একা থাকতে দেননি মোস্তাফিজ।ভারতের বিপক্ষে এজবাস্টনে (৫/৫৯) এর পর লর্ডসে পাকিস্তানের বিপক্ষে ( ৫/৭৫) ! ৪৪ বছর পর গিলমোরের সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন মোস্তাফিজ।তবে এখানেও এগিয়ে মোস্তাফিজ। কারন ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ ছিল ৬০ ওভারের ম্যাচ, গিলমোর পেয়েছেন ১২ ওভার বোলিংয়ের সুযোগ। উইকেটও এখনকার মতো ছিল না ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি । 

বিশ্বকাপে নিজের  অভিষেক আসরকে সত্যিই রেখেছেন স্মরনীয় করে। প্রথম বাংলাদেশী হিসেবে বিশ্বকাপর এক আসরে করেছেন ২০ উইকেট শিকার।এর আগে বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ ১২টি উইকেট ছিল বাঁ হাতি স্পিনার আবদুর রাজ্জাকের। ২০০৭ বিশ্বকাপের সেই রেকর্ডটি টপকে নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন মোস্তাফিজ।  

ওয়ানডে ক্যারিয়ারের অভিষেক সুখস্মৃতিরই যেনো পুনরাবৃত্তি। ২০১৫ সালে ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে নিজের অভিষেকে প্রথম ২ ম্যাচে ৫টি করে উইকেট ! ৪ বছর পর বিশ্বকাপেও প্রথম বাংলাদেশী বোলার হিসেবে পর পর ২ ম্যাচে ৫টি করে উইকেট !

লর্ডসে এমন কৃতি'র দিনে  ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫৪ তম ম্যাচে দেখা পেয়েছেন উইকেটের  সেঞ্চুরি। ক্যারিয়ারের ৪ বছর ১৭দিন বয়সে এই মাইলস্টোনে রেখেছেন পা বিস্ময় কাটার মাস্টার।উইকেটের দ্রুততম সেঞ্চুরিতে মোস্তাফিজের এই কৃতি চতুর্থ। আফগানিস্তানের রশিদ খান (৪৪ ম্যাচে),অস্ট্রেলিয়ার মিচেল স্টার্ক (৫২ তম ম্যাচে),পাকিস্তানের সাকলায়েন মোস্তাক (৫৩তম ম্যাচে)-এর পেছনে থাকা কিউই শেন বন্ডকে (৫৪) ফেলেছেন ছুঁয়ে।

তবে এতোসব রেকর্ড আর ইতিহাস রচনার পরও পুরোপুরি তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারছেন না মোস্তাফিজ। শুক্রবার লর্ডসের মিক্সড জোনে সেই অতৃপ্তির কথাই শুনিয়েছেন মোস্তাফিজ-‌ ওয়ানডে ক্যারিয়ারে তো ৫ বার ইনিংসে ৫টি করে উইকেট পেলাম। তার মধ্যে বিশ্বকাপে ২বার। তারপরও পুরোপুরি খুশি হতে পারছি না। সেমিফাইনালে উঠলে খুশি হতাম।'

পুরনো বলে দেখিয়েছেন যাদু। নতুন বলে পারেননি তা দেখাতে। তা নিয়ে কাজ করতে চান মোস্তাফিজ-নতুন বলে মাঝে মাঝে সু্ইং পেয়েছি। এখানে কাজ করতে হবে। কাঁধের সমস্যাটা নেই , তাই ভাল লাগছে এখন।' 

বোলিংয়ে  ভেরিয়েশনও বাড়াতে চান মোস্তাফিজ-‌ আমার কিছু ভেরিয়েশন আছে, যা অন্যদের চেয়ে আলাদা।আমি খুব জোরে বল করি না। ১৩৫ কিলোমিটারের মতো গতিতে বল করি। তবে এই স্পিড নিয়ে আমি সন্তুস্ট। এখন দুই একটা ভেরিয়েশন বাড়াতে হবে।'  

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers