খেলা

সাকিব হাসান মাহমুদ তামিমে জয়ে প্রত্যাবর্তন ম্যাচ উদযাপন

শামীম চৌধুরী জানুয়ারী ২০, ২০২১, ১৮:০২:১৯

  • ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২২ রানে অল আউট করার পর হাসিখুশি বাংলাদেশ দল। ছবি-বিসিবি

ওয়েস্ট ইন্ডিজ : ১২২/১০ (৩২.২ ওভারে)

বাংলাদেশ : ১২৫/৪ (৩৩.৫ ওভারে)

ফল : বাংলাদেশ ৬ উ্ইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : সাকিব (বাংলাদেশ)।

নিকট অতীতে গেইল, পোলার্ড, হোল্ডার, হেটমেয়ার, হোপদের নিয়েও বাংলাদেশ দলের সঙ্গে কুলিয়ে উঠতে পারেনি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।সর্বশেষ ৫ দেখায় সবকটিতে বাংলাদেশের কাছে হেরেছে তারা। সেরা ১০ ক্রিকেটারহীন ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল তাহলে কীভাবে লড়বে বাংলাদেশের সঙ্গে।

ব্রিসবেন টেস্ট নতুনদের নিয়ে ভারতের জযে টনিক কিংবা বিশ্বকাপের প্রথম ২টির ট্রফি জয়ী অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েডের উদ্বুদ্ধকরণ বার্তায় নিজেদের সমৃদ্ধ অতীত তাই ফিরে পায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

৬ ক্রিকেটারের অভিষেকে জোড়াতালি মার্কা দলটি বাংলাদেশের সাথে লড়াইয়ের সাহসটাই পায়নি। ৪৮৭ দিন পর প্রত্যাবর্তন আন্তর্জাতিক ম্যাচে সাকিবের স্পিন বিষ (৪/৮), তরুণ পেসার হাসান মাহমুদের ভয়ংকর তোপ (৩/২৮), আর বাঁ হাতি কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বোলিংয়ে (২/২০) ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১২২রানে অল আউট করে প্রত্যাশিত জয়ে শুরু করেছে ওয়ানডে সুপার লিগ।

১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তন ম্যাচ উদযাপন করেছে বাংলাদেশ ৬ উইকেটে জিতে। করোনাকালে নিজেদের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচ ৯৭ বল হাতে রেখে জিতেছে বাংলাদেশ। 

 মোস্তাফিজ, সাকিবকে মাত্রারিক্ত ভয় পেয়ে ব্যাট করেছে সফরকারী দলটি। তার পরও বাঁচতে পারেনি। মেঘলা আকাশ দেখে টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তামিম। তাতে পেসারদের বলে মুভমেন্ট ছিল যথেষ্ট। ইনিংসের শুরুতে মোস্তাফিজ দিয়েছেন ধাক্কা। ৩.৩ ওভারে এক দফা বৃ্ষ্টিতে ১ ঘণ্টা বিরতিতে উইকেটে আরো বেশি মুভমেন্ট পেয়েছে বোলাররা।

ঘরোয়া ক্রিকেটের সাকিব, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সাকিবের মধ্যে ব্যবধান বিস্তর। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলতে নামলেই তার স্পিন বিষে নীল হতে হয় প্রতিপক্ষকে। বহুবার তা জানিয়ে দিয়েছেন এই বাঁ হাতি স্পিনার। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে বঙ্গবন্ধু টি-২০ কাপে তার ফেরাটা সুখকর হয়নি। ৯ ম্যাচে ৩৪.০০ গড়ে উইকেট সংখ্যা তার ৬টি। সেই সাকিবই ৪৮৭ দিন পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রত্যাবর্তনে চেনা সাকিবে আবির্ভূত। প্রত্যাবর্তন ম্যাচটি ছিল সাকিবের হোমে ১০০তম ম্যাচ। এমন মাইলস্টোন ম্যাচে ফিরেই ছন্দময় বোলিং (৭.২-২-৮-৪)! ৪৪টি ডেলিভারির ৩৬টি দিয়েছেন ডট, খাননি কোনো চার-ছক্কা! প্রথম স্পেলেই (৮-২-৮-৩) ছড়িয়েছেন সাকিব ভয়ংকর রূপ। ২ বলের শেষ স্পেলটি তার (০.২-০-০-১)। ওভারপ্রতি খরচা মাত্র ১.০৯! ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এটি সাকিবের দ্বিতীয় ৪ উইকেটের ইনিংস। এর আগে, ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ৫-০-১৬-৪ ছিল সেরা। সেই ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৬১ রানে অল আউটের লজ্জা দিয়েছে বাংলাদেশ।

সাকিব নিজের দ্বিতীয় ওভারে ম্যাকার্থিকে (১২) করেছেন বোল্ড। বল না বুঝে সুইপ করতে যেয়ে দেখেছেন ম্যাকার্থি স্ট্যাম্পে বলের আঘাতের দৃশ্য। এই শিকারে হোমে উইকেট দেড়শ উইকেট পূর্ণ করেছেন সাকিব। নিজের চতুর্থ ওভারে ফ্রন্টফুটে ডিফেন্স করতে যেয়ে জেসন মোহাম্মদ (১৭) স্ট্যাম্পিংয়ে পড়েছেন কাটা। সাকিবের ৫ম ওভারে ব্যাট-প্যাড ডিফেন্স করতে যেয়ে বোনার এলবিডাব্লুউ (১৭)। শেষটা করেছেন দ্বিতীয় স্পেলের দ্বিতীয় বলে, জোসেফকে হতভম্ব করা বোল্ড আউটে।

সাকিবের প্রত্যাবর্তন ম্যাচে পেস বোলার হাসান মাহমুদেরও দারুণ অভিষেক হয়েছে। ওয়ানডে ক্রিকেটে ১৩৪ নম্বর ক্রিকেটার হিসেবে অভিষিক্ত লক্ষীপুরের এই পেসারকে ট্রাম্পকার্ড হিসেবে নেয়া হয়েছে দলে। গতবছর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-২০ ক্রিকেটে অভিষেকে নিজেকে সেভাবে চেনাতে পারেননি (৪-০-২৫-০) এই ডানহাতি পেসার। সম্প্রতি বাংলাদেশ দলের অনুশীলন ক্যাম্পে ১৪০ কিলোমিটার গতিতে তার অনবরত বোলিংয়ে মুগ্ধ টিম ম্যানেজমেন্ট-এর পছন্দে হয়েছে ওয়ানডে অভিষেক।

১০ মাস পর বাংলাদেশের ওয়ানডে প্রত্যাবর্তন ম্যাচে হাসান মাহামুদ প্রথম স্পেলে পাননি রিদম (৩-০-১৪-০)। দ্বিতীয় স্পেলে (৩-১-১৪-৩) পেয়েছেন রিদম। দ্বিতীয় স্পেলের দ্বিতীয় ওভারে পর পর ২ ডেলিভারিতে ২ উইকেট, সেট ব্যাটসম্যান রোভমন পাওয়েলকে (৩১ বলে ২ চার, ২ ছক্কায় ২৮) আউটসাইড অফ ডেলিভারিতে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেছেন। ৬ষ্ঠ উইকেট জুটি ৫৯ রানে বিচ্ছিন্ন করে পরের বলে রেইফারকে ফিরিয়ে দিয়েছেন এলবিডাব্লুতে। কপালটাও ছিল ভালো হাসান মাহমুদের। বলটির উচ্চতা বেশি হয়েও ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিভিউ আপিলের সুযোগ না থাকায় হাসান মাহমুদের লাভ হয়েছে। তৃতীয় উইকেটটি তার আকিল মোহাম্মদের। প্রথম স্লিপে ক্যাচ দিয়েছেন তিনি। স্লিপ-গালিতে দারুণ তিনটি ক্যাচ এদিন নিয়েছেন লিটন দাস।

  ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ফ্লিক করতে যেয়ে অ্যামব্রিস (৭) হয়েছেন এলবিডাব্লুউ। এই বাঁ হাতি কাটার মাস্টারের দ্বিতীয় ওভারে ডা সিলভা (৯) গালিতে লিটনের হাতে বন্দী। মোস্তাফিজের প্রথম স্পেল (৪-০-১৩-২) ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নামিয়ে এনেছে ব্যাকফুটে। বাকি কাজটা করেছেন সাকিব (৪/৮), হাসান মাহমুদ (৩/২৮)। জোড়াতালি মার্কা ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল শুরুর ধকল কাটিয়ে ৬ষ্ঠ জুটির ৫৯ রানের কল্যাণে স্কোরটা ১২২-পর্যন্ত টেনে নিতে পেরেছে। তা সম্ভব হয়েছে মায়ার্সের ৫৬ বলে ৪ চার, ১ ছক্কায় ৪০ রানের কল্যাণে। 

তবে ১২৩  রানের মামুলি টার্গেট যতটা সহজে পাড়ি দিতে পারার কথা, ততটা সহজে পারেনি বাংলাদেশ দল। লিটন-তামিমের ৪৭ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপের পরও এই লক্ষ্য অতিক্রম করতে বাংলাদেশ হারিয়েছে ৪ ব্যাটসম্যান। বাঁ হাতি স্পিনার আকিল হুসেইনের বোলিংয়ে ধুঁকেছে বাংলাদেশ (১০-১-২৬-৩)। তার অপ্রত্যাশিত টার্নে লিটন বোল্ড (১৪), ৩ নম্বরে ব্যাটিংয়ের সুযোগকে লাগাতে পারেননি শান্ত কাজে। আকিলের বলে মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ (৯ বলে ১ রান)। প্রত্যাবর্তন ম্যাচে বোলিংয়ে দ্যুতি ছড়ালেও ব্যাটিংয়ে হয়েছেন ব্যর্থ। আকিলকে শেষ মুহূর্তে কাট করতে যেয়ে হয়েছেন বোল্ড সাকিব (৪৩ বলে ১৯)। ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে অধিনায়ক তামিম থেমেছেন ৪৪ রানে (৬৯ বলে ৭ চার)। উইন্ডিজ অধিনায়ক জেসন মোহাম্মদকে ফরোয়ার্ড খেলতে যেয়ে স্ট্যাম্পিংয়ে পড়েছেন তামিম কাটা! বোনারকে রিভার্স সুইপে বাউন্ডারিতে মুশফিক হয়েছেন ফিনিশার (৩১ বলে ১ চার-এ ১৯ নট আউট)। ফিরে শুধু পারফর্মই করেননি। প্রত্যাবর্তন ম্যাচে হয়েছেন ম্যান অব দ্য ম্যাচ।    

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers