খেলা

ফখর-বাবরে সিরিজ পাকিস্তানের

স্পোর্টস রিপোর্টার এপ্রিল ৭, ২০২১, ২২:৪৯:০৬

  • বাবর আজমের সাথে পার্টনারশিপে ফখর জামান। ছবি-ইন্টারনেট

পাকিস্তান : ৩২০/৭ (৫০.০ ওভারে)

দক্ষিণ আফ্রিকা : ২৯২/১০ (৪৯.৩ ওভারে)

ফল : পাকিস্তান ২৮ রানে জয়ী।

ম্যান অব দ্য ম্যাচ : বাবর আজম (পাকিস্তান)।

ম্যান অব দ্য সিরিজ ফখর আজম (পাকিস্তান)।

ফখর জামানের সেঞ্চুরি (১০১) এবং বাবর আজমের ৬ রানের জন্য সেঞ্চুরি হাতছাড়া ( ৯৪) হওয়ার ম্যাচে বিশাল স্কোর (৩২০/৭) করেও স্বস্তিতে ছিল না পাকিস্তান। শেষ ৬০ বলে পাকিস্তান যোগ করেছে ৯৪ রান, সেখানে জয়ের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার দরকার ৯৯ !

৩২১ চেজ করতে এসে উপভোগ্য সমাপ্তির আভাসই দিয়েছিল দক্ষিন আফ্রিকা।৬ষ্ঠ উইকেট জুটির ৯৭ বলে ১০৮ রানে জমে উঠেছিল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। তবে হারিস রউফের বলে ডিপ স্কোয়ার লেগে ভেরোনি (৫৩ বলে ৬২) ক্যাচ দিলে ৩৮ বলে ৭২রানের লক্ষ্যটা কঠিন হয়ে যায়।

শাহীন শাহ আফ্রিদির শেষ স্পেল (১.২-০-১২-২)-এ ২৮ রানে হার মানতে বাধ্য হয়।দক্ষিণ আফ্রিকার মাটি থেকে ৮ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জয়ে (২-১) আইসিসি ওয়ানডে সুপার লিগে যৌথভাবে ইংল্যান্ড এবং অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে পয়েন্ট তালিকায় শীর্ষে উঠে এলো পাকিস্তান (৬ ম্যাচে ৪০ পয়েন্ট)। যেখানে পয়েন্ট তালিকায় ১১তম স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকা। 

বিতর্কিত রান আউটে ৭ রানের জন্য দ্বিতীয় ডাবল সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেছেন ফখর জামান মাত্র ৩ দিন আগে। জোহানেসবাগে ফখর জামান ১৯৩ রানে আউট হওয়ায় আসামীর কাঠগড়ায় এখন দক্ষিণ আফ্রিকার উইকেট কিপার ডি কক। এমন এক ঘটনায়ও মনোবল হারাননি পাকিস্তান ওপেনার ফখর জামান। বুধবার সেঞ্চুরিয়নে ওয়ানডে সিরিজের শেষ ম্যাচেও করেছেন সেঞ্চুরি (১০৪ বলে ৯ চার,৩ ছক্কায় ১০১)।জোহানেসবাগে অবিশ্বাস্য টার্গেটের পেছনে ছুটেছেন একাই। তাতে নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছেড়েছেন প্রোটিয়াদের। বুধবার ছিল তার মাইলস্টোন ম্যাচ। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ৫০তম ম্যাচে ৬ষ্ঠ সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন ফখর জামান।তার সেঞ্চুরিতে চড়েই সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তান করেছে ৩২০/৭ স্কোর।

ফখর জামান শুরু থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে।টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনিং পার্টনারশিপে ইনাম উল হক এর সঙ্গে ১১২ রানে রেখেছেন অবদান।৭৩ বলে ৫৭ রানে থেমেছেন ইনাম উল হক মহারাজের বলে লং অনে ক্যাচ দিয়ে। বাবর আজমকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৮৬ রানেও রেখেছেন অবদান।৬২ বলে হাফ সেঞ্চুরির পর পরের হাফ সেঞ্চুরিতে খেলেছেন ৩৭টি বল। সেঞ্চুরির পর মহারাজকে প্যাডেল খেলতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ (১০৪ বলে ৯ চার,৩ ছক্কায় ১০১)। সেঞ্চুরির পথে ছিলেন বাবর আজমও। ৫৫ বলে ১৬তম হাফ সেঞ্চুরি উদযাপনকে ১৩তম সেঞ্চুরির পথে করেছেন ধাবিত। ডেথ ওভারে নিয়েছিলেন ঝুঁকি। ইনিংসের শেষ বলে ফিলুকাওয়োকে ছ্ক্কার শটে সেঞ্চুরি করতে যেয়ে দিয়েছেন ক্যাচ (৮২ বলে ৭ চার,৩ ছক্কায় ৯৪)। ৭ম উইকেট জুটিতে হাসান আলীকে নিয়ে ২৪ বলে ৬৩ রানের পার্টনারশিপে দিয়েছেন নেতৃত্ব পাকিস্তান অধিনায়ক বাবর আজম। যে করেই হোক,তিন শ' প্লাস স্কোর করতেই  হবে। এই অভীষ্ঠ লক্ষ্যকে সামনে রেখে ব্যাট করেছেন বাবর। পাকিস্তানের স্কোর শিটে শেষ ৬০ বলে ৯০ রান উঠেছে তার ব্যাটিংয়েই। কৃতিত্বটা দিতে হবে শ্লগে হাসান আলীকেও । ব্যাটকে তরবারি বানিয়ে ১১ বলে ৪ ছক্কা,১ চার এ ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। দক্ষিণ আফ্রিকা ৭ বোলার ব্যবহার করেছেন। তবে তাদের মধ্যে বাঁ হাতি স্পিনার কেশব মহারাজ ছিলেন সফল (৩/৪৫)। নতুন বলে শুরু করা অফ স্পিনার মার্করামও দারুণ বল করেছেন (২/৪৮)।

তবে ৩২১ রানের টার্গেট দক্ষিণ আফ্রিকাকে দিয়ে দারুন বোলিং করেছেন শাহীন শাহ আফ্রিদি (৩/৫৮),মোহাম্মদ নেওয়াজ (৩/৩৪), হারিস রউফ (২/৪৫)। প্রোটিয়া ওপেনার জানেমান মালান (৮১ বলে ৭০) এবং ভেরোনির (৫৩ বলে ৬২) ব্যাটিং ম্লান হয়েছে।

পুরো সিরিজ জুড়েই আলোচনায় ছিলেন ফখর জামান-বাবর আজম। ১০০.৬৬ গড়ে ফখর জামান করেছেন ৩০২রান। সেখানে ৭৬.০০ গড়ে বাবর আজম করেছেন ২২৮ রান।এই দুই জনের কাছেই সিরিজ হেরেছে দক্ষিণ আফ্রিকা।   

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers