খেলা

বিদেশের মাটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর

শামীম চৌধুরী এপ্রিল ২২, ২০২১, ১৮:০১:০১

  • দুই সেঞ্চুরিয়ান শান্ত-মুুমিনুল,একে অপরকে করছেন অভিনন্দিত।ছবি-ইন্টারনেট

বাংলাদেশ প্রথম ইনিংস : ৪৭৪/৪ (১৫৫.০ ওভারে)

( ২য় দিন শেষে)

প্রথম দিন তামিম-শান্ত-মুমিনুলের ব্যাটিং নাভিশ্বাস উঠিয়ে ছেড়েছে স্বাগতিকদের। দারুণ একটি দিনে ৩০২/২ স্কোরে শ্রীলংকাকে রান পাহাড়ে চাপা দেওয়ার আভাসই দিয়েছিল।টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ স্কোর (৬৩৮/১০) শ্রীলংকার মাটিতে,২০১৩ সালে গল-এ।

সেই রেকর্ড টপকে যাওয়ার টনিক পাল্লেকেলেতে পেয়েছে বাংলাদেশ প্রথম দিনেই। তামিম,শান্ত,মুমিনুলের ব্যাটিংয়ে  ৩০২/২ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় দিনটি শুরু করে সতর্ক ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ স্কোর টেনে নিয়েছে ৪৭৪/৪ পর্যন্ত।তাতেই বাংলাদেশ বিদেশের মাটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর করেছে।

ম্যাচের পরিধির দিক থেকেও (১৫৫ ওভার) এটি বাংলাদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ।  দ্বিতীয় শেষ ঘন্টায় বৃষ্টি এবং আলোর স্বপ্লতা বাধা হয়ে না দাঁড়ালে স্কোরটা ছাড়িয়ে যেতে পারতো পাঁচশ। ম্যাচের পরিধির দিক থেকেও ছাড়িয়ে যেতে পারতো আরও এক ধাপ। 

বাংলাদেশ  প্রথম দুই সেশনে ২ টির বেশি উইকেট না হারিয়ে টি ব্রেকের আগে বিদেশের মাটিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ স্কোর (৪৪০/৪) করেছে বাংলাদেশ।দিনের প্রথম সেশনটি নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ।উইকেটহীন ৭৬ রানে পেয়েছে হাততালি। দিনের দ্বিতীয় সেশনে ধৈর্যচ্যুতি ঘটেছে শান্ত-মুমিনুলের। এই সেশনে ৬২ রান যোগ করতে হারিয়েছে বাংলাদেশ এই দুই সেঞ্চুরিয়ানকে ( শান্ত ১৬৩, মুমিনুল ১২৭)। শেষ সেশনে খেলা হয়েছে মাত্র ১০ ওভার। বাংলাদেশ যোগ করেছে উইকেটহীন এই সেশনে ৩৪ রান। 

প্রথম দিন শান্ত ৫ ঘন্টা ৫০ মিনিট করেছেন ব্যাটিং। দিয়েছেন ধৈর্য্যের পরিচয়। ৭ম টেস্টে এসে উদযাপন করেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত প্রথম সেঞ্চুরি। তৃতীয় উইকেট জুটিতে আগের সর্বোচ্চ ২৩৬ টপকে বাংলাদেশের রেকর্ড ২৪২ রানে দিয়েছেন নেতৃত্ব।রানের দিক দিয়ে যে পার্টনারশিপটি বাংলাদেশের ৫ম সর্বোচ্চ।   

দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে যেভাবে ব্যাটিং করেছেন তাতে শান্ত'র ব্যাটে ডাবল সেঞ্চুরির প্রত্যাশাই করেছে বাংলাদেশ সমর্থকরা। তবে দ্বিতীয় দিন লাঞ্চের পর মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটেছে। পেস বোলার লাহিরু কুমারাকে দ্বিধান্বিত শট নিতে যেয়ে রিটার্ন ক্যাচে থেমেছেন ১৬৩ রানে। ৩৭৮ বলের সংযমী ইনিংসে মেরেছেন তিনি ১৭টি চার,১টি ছক্কা।

শান্ত'র ১৬৩ রানে থেমে যাওয়ার দিনে বিদেশের মাটিতে প্রথম সেঞ্চুরি উদযাপন করেছেন মুমিনুল।২০১৩সালে টেস্ট অভিষেক তার শ্রীলংকা সফরে। আশরাফুলের পর সেই শ্রীলংকাই তার ফেভারিট প্রতিপক্ষ। শ্রীলংকার বিপক্ষে ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে চতুর্থ ইনিংসে তার হার না মানা সেঞ্চুরিতে (১০০*) চট্টগ্রামে ম্যাচ বাঁচিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে মুমিনুলের উভয় ইনিংসে সেঞ্চুরিতে (১৭৬ ও ১০৫) ও ম্যাচ বাঁচিয়েছেন ম্যাচ।শ্রীলংকার বিপক্ষে ৮ম টেস্টে ৪র্থ সেঞ্চুরির দেখা পেলেন বৃহস্পতিবার। ৬৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে এদিন কাঙ্খিত লক্ষ্যে গেছেন পৌছে।  

বাংলাদেশের মাটিতে রেকর্ডটা তার দারুণ। ২৫ টেস্টে ৫৬.৩৯ গড়ে ২৩১২ রান। টেস্ট ক্যারিয়ারে ১০টি সেঞ্চুরির সব ক'টিই করেছেন মুমিনুল দেশের মাটিতে।

অথচ, পাল্লেকেলে টেস্ট শুরুর আগে দেশের বাইরে চিত্রটা ছিল উল্টো ! ১৭ টেস্টে ২২.৩০ গড়ে ৭৩৬ রান। যেখানে সেঞ্চুরিহীন মুমিনুলের সম্বল ৬টি ফিফটি ! দেশের বাইরে সেঞ্চুরিহীন থাকার অপবাদটা অবশেষে ঘুঁচিয়েছেন।

আভাসটা দিয়েছিলেন পাল্লেকেলের সবুজ পিচে প্রথম দিনেই। চান্সলেস ৬৪ রানের অবিচ্ছিন্ন থাকা দিনটি শেষে সেঞ্চুরি পেতেই হবে বলে করেছিলেন সংকল্প। সেই প্রতিজ্ঞা থেকেই উদযাপন করেছেন সেঞ্চুরি। অফ স্পিনার ধনঞ্জয়কে লেট কাটে বাউন্ডারিতে ২২৪ বলে পূর্ন করেছেন ১১তম টেস্ট সেঞ্চুরি। প্রিয় প্রতিপক্ষ শ্রীলংকার বিপক্ষে এটা তার ৪র্থ সেঞ্চুরি। টি ব্রেকের আধ ঘন্টা আগে মনোসংযোগ হারিয়েছেন মুমিনুল। ধনঞ্জয়ের আউটসাইড অফ ডেলিভারিতে এঙ্গেল ব্যাটে খেলতে যেয়ে স্লিপে দিয়েছেন ক্যাচ বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক (৩০৪ বলে ১১ চার-এ ১২৭)।  মুশফিকুর রহিম ৪৩ ও লিটন দাস ২৫ রানে ব্যাটিংয়ে ছিলেন। 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers