খেলা

চলে গেলেন স্কুল ক্রিকেটের জনক কে জেড ইসলাম

স্পোর্টস রিপোর্টার মে ৩, ২০২১, ১৯:৪৬:৪৪

  • মরহুম কে জেড ইসলাম এবং তাকে নিয়ে যায় যায় দিনে একটি লেখা।-সংগৃহিত

আজ বাংলাদেশ বয়স ভিত্তিক ক্রিকেটে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে। বাংলাদেশের স্কুল ক্রিকেট সারা বিশ্বে একটা মডেল হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ট্রফি জিতে বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে সেরা সাফল্য অর্জন করেছে।

এর নেপথ্যে যার অবদান অনস্বীকার্য, যিনি তার বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ ইন্টারন্যাশনালের অর্থায়নে ১৯৮২ সালে প্রবর্তন করেছিলেন নির্মাণ স্কুল ক্রিকেট, ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যার একক পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের স্কুল ক্রিকেট আয়োজিত হয়েছে, বাংলাদেশে বিস্তৃত স্কুল ক্রিকেটের জনক এবং বিসিবির সাবেক সভাপতি কে জেড ইসলাম আর নেই।

দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত রোগে ভোগার পর সোমবার বেলা ৩টা ৫০ মিনিটে গুলশানে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহির রাজেউন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী,৪পুত্র,নাতী-নাতনী, আত্মীয় স্বজন এবং অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। 

ইংল্যান্ডের লিডস ইউনিভার্সিটি থেকে সিএ ডিগ্রি নিয়ে দেশে ফিরে পূর্ব পাকিস্তান আমলে ইপিআইডিসির কন্ট্রোলার অব অ্যাকাউন্টস হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই খেলাধুলার সংগঠক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর বিআইডিসি,বিটিএমসি এবং পেট্রোবাংলার অর্থ পরিচালক পদে থাকাকালীন সময়ে এদেশের খেলাধুলায় ক্রীড়াবিদদের চাকুরির পথ প্রশস্ত করেন।

১৯৭৮ সালে আজাদ বয়েজ ক্লাবের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে ঝুঁকে পড়েন ক্রিকেটে। ১৯৮১ সাল থেকে ১৯৮৩ সালের শুরু পর্যন্ত ছিলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ডের সাধারণ সম্পাদক (বিসিসিবি)। ১৯৮৩ সাল থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত বিসিসিবির সভাপতির পদে করেছেন দায়িত্ব পালন। শুধু স্কুল ক্রিকেটের প্রবর্তকই নন তিনি।

বাংলাদেশের ক্রিকেটে স্পন্সর প্রথা প্রবর্তিত হয়েছে তার আমলেই।বন্ধুত্বের সম্পর্কের দাবিতে  নাভানার চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামকে সম্পৃক্ত করেছেন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে স্পন্সর হিসেবে। তার সভাপতি থাকাকালীন সময়েই বাংলাদেশ এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) স্থায়ী সদস্যপদ পায়। ১৯৮৪ সালে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপে বাংলাদেশের অভিষেক হয়। 

ক্রিকেট বোর্ডের বাইরে থেকেও ক্রিকেট থেকে পৃষ্ঠপোষকতার হাত বন্ধ করেননি। ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত করেছেন স্কুল ক্রিকেটে পৃষ্ঠপোষকতা। এদেশের ক্রিকেটে সফল সাংগঠনিক নেতৃত্বের জন্য ২০০২ সালে পেয়েছেন জাতীয় ক্রীড়া পুরষ্কার।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে সোমবার বাদ ইশা গুলশান আজাদ মসজিদে তার নামাযে জানাজা শেষে রাতে বনানী কবরস্তানে তাকে দাফন করার কথা।

 সাবেক সভাপতি কে জেড ইসলামের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বিসিবি। এক শোক বার্তায় মরহুমের আত্মার মাগরিফাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছে বিসিবি। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ফ্যান ক্লাব বেঙ্গল টাইগার্সও মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোক সন্তপ্ত পরিবরের প্রতি সহানুভুতি প্রকাশ করেছে।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers