খেলা

রনি-পেরারা ঝড়ে ম্লান তামিমের হাফ সেঞ্চুরি

শামীম চৌধুরী জানুয়ারী ২১, ২০২২, ২২:২৮:০২

  • ফিফটির পর রনি তালুকদার। ছবি-বিসিবি

মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা : ১৮৩/৬ (২০.০ ওভারে)
খুলনা টাইগার্স : ১৮৬/৫ (১৯.০ ওভারে)
ম্যান অব দ্য ম্যাচ : রনি তালুকদার ( খুলনা টাইগার্স)।

কে বলেছে শের-ই-বাংলায় রান ওঠে না ?  বিপিএলের উদ্বোধনী দিনে রাতের ম্যাচেই ধারণাটা পাল্টে দিয়েছে হোম অব ক্রিকেট। প্রথম ম্যাচে বিপিএল ধামাকা অনুপস্থিত। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের ১২৫/৮ স্কোরের জবাব দিয়ে ফরচুন বরিশাল জিতেছে মাত্র ৮ বল হাতে রেখে।

অথচ, ফ্লাড লাইটের আলোয় দ্বিতীয় ম্যাচে মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা-খুলনার ব্যাটারদের ব্যাট হয়েছে চওড়া ! প্রকৃত টি-২০ উত্তাপ দিয়ে ঢাকা করেছে ১৮৩/৬। তাদের জবাব দিয়েছে খুলনা ৬ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটে জিতে। একই দিনে দুই ম্যাচে এমন বৈপরিত্য !
১৮৪ রান তাড়া করতে এসে এদিন ক্যারিবিয়ান ওপেনার আন্দ্রে ফ্লেচার তুলেছেন ব্যাটে ঝড়। পেসার রুবেলের প্রথম ওভারে ১ ছক্কা, ৪ বাউন্ডারিতে ২২ রান নিয়েই ম্যাচ জয়ের আবহ দিয়েছেন। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-এর ৬ ওভারে ৬৫/১ স্কোরে নেতৃত্ব দেয়া ফ্লেচার থেমেছেন আন্দ্রে রাসেলে ডাউন দ্য লেগ ডেলিভারিতে ফ্লিক করতে যেয়ে উইকেটের পেছনে দিয়েছেন ক্যাচ (২৩ বলে ৭ চার, ১ ছক্কায় ৪৫)।

এমন একটি রাতে মুশফিক নিজের বোকামিতে সেট হওয়ার আগে হয়েছেন আউট (৬)। এবাদতের বলে ফ্লিক করতে যেয়ে স্কাই ক্যাচ উঠেছে জায়গায়। দিয়েছেন উইকেট  কিপারের হাতে ক্যাচ।
রনি তালুকদারের ব্যাটটাও ছিল এদিন চওড়া। আন্দ্রে রাসেলকে যাদুকরী থ্রো-তে রান আউট করে ব্যাটিংয়ে চিনিয়েছেন জাত। আরাফাত সানি এবং রুবেলকে ওভারপ্রতি ২টি বাউন্ডারিতে ছন্দময় ইনিংসের জানান দিয়ে ৩১ বলে পূর্ণ করেছেন ফিফটি।
তাতে ১০ ওভার শেষে ১০১/২ স্কোরে এগিয়ে ছিল খুলনা টাইগার্স। তাতেই শেষ ৩০ বলে ৪৫ রানের টার্গেট পেয়েছে খুলনা। এবাদতের সেকেন্ড স্পেলে অফ স্ট্যাম্প থেকে বেরিয়ে এসে শাফল করতে যেয়ে করেছেন ভুল। প্লেড অনে থেমেছেন ৪২ বলে ৭ চার, ১ ছক্কায় ৬১ রানে এসে। তবে রনি তালুকদার আউট হয়েও জয়ের কক্ষপথ থেকে খুলনা টাইগার্সকে ছিটকে ফেলতে পারেনি মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা। ডেথ ওভারের ব্যাটিংয়ে দলের প্রয়োজন মিটিয়েছেন শ্রীলংকান থিসারা পেরেরা (১৮ বলে ৬ চার এ ৩৬)। আন্দ্রে রাসেলকে লং অনে শেখ মেহেদীর ছক্কায় ৬ বল হাতে রেখে বিগ ম্যাচে ৫ উইকেটে জিতে দারুণ সূচনা করেছে খুলনা টাইগার্স।  
 টসে জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তকে এদিন যথার্থ প্রমান করতে পারেননি খুলনা টাইগার্সের মুশফিক। আফগান শাহজাদের সঙ্গে তামিমের দারুণ বোঝাপড়ায় ৪৯ বলে ৬৯ রানের ওপেনিং পার্টনারশিপ বড় স্কোরের আবহ দিয়েছে। ব্যাটিং পাওয়ার প্লে-তে ৫৬/০, শেষ ৩০ বলে ৫৮/২-ঢাকার স্কোরকে বড় করতে সহায়ক হয়েছে।

ইনিংসের তৃতীয় ওভারে অফ স্পিনার শেখ মেহেদীকে টানা ৩টি বাউন্ডারিতে শাহজাদ ঢাকাকে করেছেন উজ্জীবিত। ডাবলসের কল দিয়ে ক্যাজুয়াল রানিং বিট্যুইন দ্য উইকেটে শাহজাদ থেমেছেন ৪২ রানে, তানজিদ হাসান তামিমের ডাইরেক্ট থ্রো তে। তবে ২৭ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৪২ রান করে দলকে বড় স্কোরের পথটা দেখিয়ে দিয়েছেন এই আফগান।

গত বছর আন্তর্জাতিক টি-২০ থেকে বিরত থাকা তামিম ইনজুরি কাটিয়ে সংক্ষিপ্ত সংস্করণের ক্রিকেটে ফিরেই উদযাপন করেছেন হাফ সেঞ্চুরি। এদিন তামিম প্রথম ৫টি বল ডট করে ৬ষ্ঠ বলে নাভিন উল হককে কভার ড্রাইভে বাউন্ডারিতে ছন্দে ফেরার আভাস দিয়েছিলেন। ফরহাদ রেজাকে এক ওভারে ৩টি বাউন্ডারিতে তামিম জানিয়ে দিয়েছেন দিনটি তার। সেই ফরহাদকে সিঙ্গল নিয়ে ৪১ বরে ৭ বাউন্ডারিতে হাফ সেঞ্চুরি উদযাপন করে কামরুল ইসলাম রাব্বীর শর্ট বলে পুল করতে যেয়ে মিড উইকেটে দিয়েছেন ক্যাচ।

থিসারা পেরেরার এক ওভারে নাইম শেখ (৯), আন্দ্রে রাসেল (৭) ফিরে গেছেন। থার্ডম্যান থেকে রনি তালুকদারের ডাইরেক্ট থ্রো টা বিস্ময়কেও হার মানিয়েছে। একটি থ্রো আঘাত হেনেছে স্ট্রাইক এবং নন স্ট্রাইক এন্ডের স্ট্যাম্পে ! এমন বিরল থ্রো-তে কাঁটা পড়েছেন আন্দ্রে রাসেল।  ডেথ ওভারে ঢাকার চাহিদা মিটিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ। ২০ বলে ২ চার, ৩ ছক্কায় ৩৯ রানের ঝড়ো ইনিংসটি শেষ হয়েছে তার কামরুল ইসলাম রাব্বীকে সুইপ শট করতে যেয়ে স্কোয়ার লেগে ক্যাচে।

এই ম্যাচে খুলনার চার পেসারের মধ্যে থিসারা পেরেরা (৪-০-২৭-১) ছাড়া অন্যরা খেয়েছেন প্রচন্ড মার।  পেসার নাভিন উল হক (৪-০-৩৮-০), কামরুল ইসলাম রাব্বী (৪-০-৪৫-৩), ফরহাদ রেজা ( ৪-০-৪৩-০) এর অমিতব্যয়ী বোলিংয়ে ফুলে উঠেছে ঢাকার স্কোর।
ঢাকার পেসারদের মধ্যে এবাদত (৪-০-২৭-২) ছাড়া কারো বোলিং এদিন হয়নি প্রত্যাশিত। অমিতব্যয়ী বোলিং করেছেন রুবেল (৩-০-৪২-০), আন্দ্রে রাসেল (৪-০-৪২-২), উদানা (৪-০-৩৭-০)।

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ