বিদেশ

ইব্রাহিম রাইসি কে?

নিউজজি ডেস্ক ১৯ জুন , ২০২১, ১৮:৪৭:০৯

  • ছবি: ইন্টারনেট

ঢাকা: ইরানের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাইয়েদ ইব্রাহিম রাইসি ভূমিধস বিজয় লাভ করেছেন। তিনি পেয়েছেন ১৭.৮ মিলিয়ন ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী মোহসেন রেজায়ি পেয়েছেন ৩.৩ মিলিয়ন ভোট। প্রাথমিক ফলাফলের ভিত্তিতে ইরানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য জানিয়েছে। ইরানের যেকোনো নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্ব পালন করে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

শুক্রবার ইরানে এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা ধরে দেশের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থী নির্বাচিত করার জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে- দুই কোটি ৮৬ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং এবং এ পর্যন্ত শতকরা ৯০ ভাগের বেশি ভোট গণনা করা হয়েছে। তার ভিত্তিতে ইরানের স্বরাষ্ট্র উপমন্ত্রী জামাল ওর্ফ প্রাথমিকভাবে সাইয়েদ ইব্রাহিম রাইসিকে বিজয়ী ঘোষণা করেন।

কাস্ট হওয়া ভোটের মধ্যে এক কোটি ৭৮ লাখ ভোট পেয়েছেন স্বতন্ত্র এ প্রার্থী। এরপর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন রক্ষণশীল প্রার্থী মোহসেন রেজায়ি। তিনি পেয়েছেন ৩৩ লাখ ভোট।

কথিত সংস্কারপন্থী জোটের প্রার্থী নাসের হেম্মাতি পেয়েছেন ২৪ লাখ ভোট। নির্বাচনের অপর প্রার্থী আমির হোসেন কাজিজাদে হাশেমি পেয়েছেন প্রায় ১০ লাখ ভোট।

চলুন জেনে নেয়া যাক কে এই ইব্রাহিম রায়িসি ?

ইব্রাহিম রাইসি বর্তমান ইরানের প্রধান বিচারপতি। ৬০ বছর বয়সী রাইসি বর্তমানে দেশটির ক্ষমতাসীন সরকারের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে অন্যতম। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচনী দৌড়ে শামিল হয়েছেন তিনি। এর আগে ২০১৭ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনেও একবার ভোটে দাঁড়িয়েছিলেন, ওই সময় তিনি হাসান রুহানির কাছে পরাজিত হন।

ইরানের সর্বোচ্চ আধ্যাত্মিক নেতা খামেনি এবং রাইসির জন্ম একই স্থানে, দেশটির উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে। খামেনির মতো না হলেও দেশটির সংখ্যাগুরু শিয়া সম্প্রদায়ের কট্টরপন্থিমহলে তার জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা ব্যাপক।

খামেনির মতো রাইসিরও দাবি, বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সঃ)-এর বংশধর তিনি। বিশ্বনবীর রক্তসম্পর্কিত উত্তরাধিকার হওয়ার কারণে সবসময় কালো রঙের পাগড়ি পরেন তিনি।

তবে ইরানের গণতন্ত্রপন্থি বলয়ে তার জনপ্রিয়তা বেশ কম। কারণ, আশির দশকে ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় দেশটিতে তৎপর হয়ে উঠেছিলেন গণতন্ত্রপন্থিরা, যারা ক্ষমতাসীন ইসলামী কট্টরপন্থি সরকারের বিরোধী। যুদ্ধ শেষে রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতার কারণে শত শত গণতন্ত্রপন্থিকে গ্রেফতার করা হয় এবং তেহরানের রেভ্যুলুশনারি আদালত সংক্ষিপ্ত বিচারকাজের পরই তাদের অধিকাংশকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়। সে সময় রেভ্যুলুশনারি আদালতের প্রধান বিচারক ছিলেন রাইসি।

ওই বিচার প্রক্রিয়ার পরই খামেনির আস্থাভাজন হিসেবে হিসেবে উত্থান ঘটে তার।

২০১৯ সালে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংস্থা আস্তান কুদস রাজাভি ফাউন্ডেশনের প্রধান হিসেবে রাইসিকে নিয়োগ দেন খামেনি। ইরানের শিয়া মুসলিমদের কাছে পবিত্র তীর্থ বলে বিবেচিত ইমাম রেজার মাজারের রক্ষনাবেক্ষণের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দাতব্য কার্যক্রম ও দেশের অধিকাংশ কোম্পানি পরিচালনাও করে থাকে এই ফাউন্ডেশন।

তিন বছর মোটামুটি সফলভাবে আস্তান কুদস রাজাভি ফাউন্ডেনের নেতৃত্ব দেওয়ার পর ২০১৯ সালে তাকে বিচার বিভাগের প্রধান পদে নিয়োগ দেন খামেনি। এ পদে থাকার সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নেওয়ায় দেশের অভ্যন্তরে জনপ্রিয়তা কিছুটা বাড়ে তার।

রাইসির রাজনৈতিক দর্শন

নিজেকে ‘দুর্নীতি, অদক্ষতা ও অভিজাতদের’ ঘোর বিরোধী হিসেবে প্রকাশ করা রাইসি রাজনৈতিক দিক থেকে শিয়া ইসলামি কট্টরপন্থার সমর্থক। দেশের গণতন্ত্রপন্থিদের পাশাপাশি তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্য দেশগুলোরও কঠোর সমালোচক। তবে সম্প্রতি নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি প্রায় পঙ্গু হয়ে যাওয়ার উপক্রম হওয়ায় বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও পাশ্চাত্যের বিষয়ে সুর নরম করেছেন তিনি।

ইরানের রাজনীতি ও আর্থসামাজিক পরিস্থিতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ আলী রেজা ইশরাঘি দেশটির সাম্প্রতিক প্রেসিডেন্ট নির্বাচন প্রসঙ্গে ‘ফরেন রিলেশনস’ সাময়িকীতে লিখেছেন, ‘এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ইরানের রাজনীতিতে নিরাপত্তা বাহিনীর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং দেশটির গণতন্ত্রপন্থিদের সঙ্গে রক্ষণশীলদের দ্বন্দ্ব নতুনমাত্রা পাবে।’

নিউজজি/এস দত্ত

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers