বিদেশ

অনিয়মিত অভিবাসন রুখতে এক হচ্ছে স্পেন-মরক্কো

নিউজজি ডেস্ক ১৪ মে , ২০২২, ১৩:২৬:০৫

  • অনিয়মিত অভিবাসন রুখতে এক হচ্ছে স্পেন-মরক্কো

ঢাকা : অনিয়মিত সীমান্ত পারাপার কমাতে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ নিচ্ছে স্পেন এবং মরক্কো। এছাড়া পশ্চিম সাহারার ভূখণ্ড নিয়ে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক সংকটের সমাধান খুঁজছে তারা। স্পেন এবং মরক্কো যৌথভাবে অভিবাসীদের অনিয়মিতভাবে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়া আটকাতে চায়। এদিকে স্পেন থেকে অনিয়মিত অভিবাসীদের আফ্রিকা মহাদেশে প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নিয়েও কথা শুরু হয়েছে।

ইউরোপা প্রেস নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের স্টেট সচিব রাফায়েল পেরেজ জানিয়েছেন, অনিয়মিত অভিবাসন নিয়ে মানুষকে নিরুৎসাহিত করার জরুরি দিক হলো প্রত্যাবাসন। মরক্কোর রাজধানী রাবাতে একটি বৈঠকের পর পেরেজ বলেন, ‘‘এর ফলে পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই আরো জোরদার হবে।’’

স্পেনের সংবাদপত্র ‘এল পাইস’ জানিয়েছে, কোভিড মহামারির ফলে সমুদ্রপথে নজরদারিতে বাধা পড়লেও বর্তমানে ফের কড়াকড়ি শুরু করছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ। অভিবাসীদের সহায়ক সংস্থা কামিনান্দো ফ্রন্তেরাস জানিয়েছে, রবিবার পশ্চিম সাহারায় অভিবাসী নৌকা ডুবে ৪৪ জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে। পরে ১২ জন অভিবাসীকে উদ্ধার করে তাদের আটক করে কর্তৃপক্ষ। ৭টি মরদেহ ভেসে এলেও বাকিদের কোনো খোঁজ মেলেনি।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের মত, চলতি বছরের পয়লা মে পর্যন্ত স্পেনে আসা অনিয়মিত অভিবাসীর সংখ্যা ১০ হাজার ৪৫২ জন। বেশিরভাগই উত্তর এবং পশ্চিম আফ্রিকা থেকে বিপজ্জনক আটলান্টিক রুটে স্পেনের ক্যানারি দ্বীপে পৌঁছেছেন।

স্পেন দীর্ঘসময় পশ্চিম সাহারায় মরক্কোর সার্বভৌমত্ব স্বীকার করেনি। এই নিয়ে দীর্ঘদিনের কূটনৈতিক টানাপড়েন ছিল। গত বছর এ বিষয়ে স্পেন জবাব দেওয়ার পরে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে যোগাযোগ সম্ভব হয়েছে। ২০২১ সালে গেরিলা গোষ্ঠী পলিসারিও ফ্রন্টের অন্যতম নেতা ব্রাহিম গালিকে স্পেনের হাসপাতালে করোনা চিকিৎসার অনুমতি দেয় মাদ্রিদ। এরপর কূটনৈতিক চাপানউতর আরো বেড়ে গিয়েছিল।

স্পেনের হাসপাতালে চিকিৎসার পর পশ্চিম সাহারার স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা গালিকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করে মরক্কো। তার ঠিক পরই সিউটায় প্রায় আট হাজার অভিবাসী এসে পৌঁছেছিলেন। সীমান্তরক্ষীদের চোখ এড়িয়ে মরক্কোর অভিবাসীরা সিউটায় পৌঁছান। এই বিষয়টিকে স্পেনের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হয়েছিল।

স্পেনের দুটি ছিটমহল সিউটা এবং মেলিয়া আফ্রিকার সীমান্ত সংলগ্ন৷ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের ঠেকাতে সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া, ক্যামেরাসহ ওয়াচ টাওয়ার রয়েছে। তবে নিকটবর্তী হওয়ায় আফ্রিকার অভিবাসনপ্রত্যাশীদের অনেকেই এই পথে স্পেনের ছিটমহলে প্রবেশের চেষ্টা করে।

গত মাসে, মরক্কোর রাজা মোহাম্মদ (ষষ্ঠ) দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ কূটনৈতিক সংকটের অবসান ঘটিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজকে অতিথি হিসেবে অভ্যর্থনা জানান। এই সফরকে ‘যুগান্তকারী’ বলেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

পশ্চিম সাহারাকে মরক্কোর অধীনে একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রদেশে পরিণত করতে চায় রাবাত। এই পরিকল্পনাকে সমর্থন করেছে মাদ্রিদ। আটলান্টিকের এই এলাকা মাছ ধরার অন্যতম কেন্দ্র। এছাড়াও এই এলাকার জল ফসফেট সমৃদ্ধ। মরক্কো জানিয়েছে, তারা নিষ্ক্রিয় পাইপলাইন পুনরায় সক্রিয় করে স্পেনের তরল প্রাকৃতিক গ্যাস টার্মিনাল ব্যবহার করবে। ফের গ্যাস আমদানি শুরুর কথাও জানিয়েছে মরক্কো।

নতুন চুক্তি অনুযায়ী, মরক্কো এবং স্পেন আটলান্টিকে সমুদ্রসীমা নির্ধারণের বিষয়ে এবং সমুদ্রপথে ভ্রমণ চালুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। অভিবাসন, অর্থনীতি, শক্তি, শিল্প ও সংস্কৃতি নিয়েও একসঙ্গে কাজ করবে তারা।

সানচেজ এই ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’কে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বাম এবং ডানপন্থি বিরোধী দল-সহ স্পেনের বেশিরভাগ সংসদ সদস্য বিদেশ নীতি পরিবর্তনের বিরুদ্ধে প্রস্তাবে ভোট দিয়েছেন।

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ