সাহিত্য

অনুরূপা দেবীর প্রয়াণ দিবস আজ

নিউজজি প্রতিবেদক ১৯ এপ্রিল , ২০২১, ১৩:১২:৪৬

  • সংগৃহীত

ঢাকা :  কুন্তলীন পুরস্কার প্রাপ্ত লেখিকা অনুরূপা দেবীর প্রয়াণ দিবস আজ। ১৮৮২ সালের ৯ই সেপ্টেম্বর কলকাতায় জন্মগ্রহন করেন ঔপন্যাসিক অনুরূপা দেবী। ঔপন্যাসিক হয়েও তিনি কুন্তলীন পুরস্কার পান প্রথম গল্প লিখেই। আবার সে গল্প প্রকাশিত হয় রানী দেবী ছদ্মনামে। সাহিত্যাঙ্গনে ইহা এক গৌরবের বিষয়। তিনি ১৯৫৮ সালের ১৯শে এপ্রিল মৃত্যুবরণ করে।
 
অনুরূপা দেবীর পিতার নাম মুকুন্দদেব মুখোপাধ্যায় এবং পিতামহ ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ভূদেব মুখোপাধ্যায়। বাল্যকালে অনুরূপা দেবী পিতামহ ভূদেব মুখোপাধ্যায় এর কাছে সংস্কৃতি শিক্ষা ও বাংলা সাহিত্যিচর্চার প্রেরণা লাভ করেন। উনার কাছে কিছুদিন দর্শনশাস্ত্র অধ্যায়ন করেন। দিদি ইন্দিরা দেবীর অণুপ্রেরণা সাহিত্য চর্চায় তাকে উৎসাহ দেয়। রাণী দেবী ছদ্মনামে তাঁর রচিত প্রথম গল্প কুন্তলীন পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রকাশিত হয়।
 
 
 
অনুরূপা দেবী তাঁর দিদি ইন্দিরা দেবীর অনুপ্রেরণায় সাহিত্য চর্চা আরম্ভ করেন । তাঁর প্রথম কবিতা ঋজুপাঠ অবলম্বনে রচিত। রাণী দেবী ছদ্মনামে তাঁর রচিত প্রথম গল্প কুন্তলীন পুরস্কার প্রতিযোগিতায় প্রকাশিত হয় । ১৩১১ বঙ্গাব্দে বা ১৯০৪ সালে তাঁর রচিত প্রথম উপন্যাস টিলকুঠি নবনূর পত্রিকায় প্রকাশিত হয় । ১৩১৯ বঙ্গাব্দে বা ১৯১১সালে তাঁর উপন্যাস পোষ্যপুত্র ভারতী পত্রিকায় প্রকাশিত হলে তিনি বিখ্যাত হন । এই উপন্যাসটি সাহিত্য সমাজে ভীষণভাবে সমাদৃত হয়। এরপর তাঁর লেখনীর স্বর্ণস্পর্শে বাংলা সাহিত্যে একাধিক জনপ্রিয় উপন্যাসের জন্ম দেয়।
 
তাঁর দিদি ইন্দিরা দেবী ছিলেন একজন ঔপন্যাসিক, ছোটগল্পকার এবং কবি। তিনি তাঁর আইন ব্যবসায়ী স্বামী শিখরনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাথে মজঃফরপুরে বসবাস করতেন। তিনি রবীন্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ কন্যা মাধুলী লতার সাথে এখানে চ্যাপম্যান গার্লস স্কুল নামে একটি ইংরেজি স্কুল স্থাপন ও পরিচালনা করেন।
 
 
 
অনুরূপা দেবী একজন সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি কাশী এবং কলকাতায় কয়েকটি বালিকা বিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি একাধিক নারীকল্যাণ আশ্রমের প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দে তিনি মহিলা সমবায় প্রতিষ্ঠান স্থাপন করেন। নারীর অধিকার আন্দোলনের তিনি একজন পুরোধা ছিলেন। ১৯৩১ সালে উত্তর বিহার সাহিত্য সম্মেলনে কথাসাহিত্য শাখার সভানেত্রী হন। ১৯৪৬ সালে হিন্দু কোড বিল ও ১৯৪৭ সালে বঙ্গভঙ্গের বিরুদ্ধে আন্দোলনে যুক্ত হন। তাঁর রচিত উপন্যাস মন্ত্রশক্তি, মা, মহানিশা, পথের সাথী, বাগদত্তা নাটকে রূপান্তরিত হয়েছিল। তিনি ৩৩টি গ্রন্থ রচনা করেছিলেন। জীবনের স্মৃতিলেখা তাঁর অসমাপ্ত রচনা।
 
আপনি সন্ন্যাসী তুমি, সর্ব্বত্যাগী শিব,
 
ভোলা ব্যোমকেশ।
 
তাই নিজ ভক্ত পেলে তারেও সন্ন্যাসী
 
সাজাও মহেশ!
 
আপনি শ্মশানবাসী, অঙ্গে মাখো ছাই,
 
ভিক্ষাপাত্র সার,
 
শ্মশানবহ্নির দাহ, বক্ষে দাও তাই,
 
ভক্তে আপনার।
 
উন্মাদ তান্ডব খেলা তব,
 
প্রলয়ের গরজন গান
 
তোমার আনন্দ- গীত
 
ভকতের রোদনের তান।
 
কালকূটে কন্ঠ ভরা তবু মৃত্যু - জয়ী,
 
তুমি মৃত্যুঞ্জয়।
 
অসীম দুঃখের বিষে জর্জরিত নর
 
তবু বেঁচে রয়।
 
তার লেখা উপন্যাস গুলো হলো- পোষ্যপুত্র , বাগদত্তা, জ্যোতিঃহারা, মন্ত্রশক্তি , মহানিশা , মা , উত্তরায়ণ, পথহারা ইত্যাদি। তিনি সম্পাদনা করেছেন সাহিত্যে নারী, স্রষ্ট্রী ও সৃষ্টি, বিচারপতি, জীবনের স্মৃতিলেখা লিখেছেন। প্রথম প্রকাশিত গল্পের জন্য ‘কুন্তলীন পুরস্কার’ লাভ। শ্রীভারত-ধর্মমহামণ্ডল থেকে ‘ধর্মচন্দ্রিকা’ উপাধি ১৯১৯ সালে, শ্রীশ্রীবিশ্বমানব মহামণ্ডল থেকে ‘ভারতী’ উপাধি ১৯২৩ সালে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ ১৯৩৫ সালে, ‘ভুবনমোহিনী দাসী স্বর্ণপদক’ (১৯৪১) প্রদান করা হয় ১৯৪১ সালে। ১৯৪৪ সালে ‘লীলা লেকচারার’ পদে অধিষ্ঠিত হন তিনি।

 

পাঠকের মন্তব্য

লগইন করুন

ইউজার নেম / ইমেইল
পাসওয়ার্ড
নতুন একাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করতে এখানে ক্লিক করুন
এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

copyright © 2021 newsg24.com | A G-Series Company
Developed by Creativeers